

‘স্খলন’, ‘অন্তরবাসিনী’ ও ‘খ্যাতির লাগিয়া’ উপন্যাসের পর ছোটোবড়ো ৯টি গল্প নিয়ে খলিল মাহ্মুদের প্রথম ছোটোগল্পের বই ‘সুগন্ধি রুমাল’ প্রকাশিত হয় অমর একুশে বইমেলা ২০০৪-এ। কোনোদিন ভালোবাসা ও স্নেহমমতা না-পাওয়া মা-হারা কিশোর ছেলেটি গ্রামের হাসিনা আপুর কাছ থেকে যে স্নেহ ও ভালোবাসা পায়, তা তাকে খুব আবেগী করে তোলে। তার কেবলি সাধ হয়, হাসিনা আপুর মতো তার যদি একটা বড়ো বোন থাকতো! হাসিনা আপু খুব ব্রিলিয়ান্ট ছাত্রী। ছেলেটিও মেধাবী, ক্লাসে তার রোল নাম্বার ২। হাসিনা আপু তাকে উস্কে দেয় – তাকে প্রথম হতেই হবে। কিন্তু সে পারে না প্রথম হতে। এতে হাসিনা আপু মনক্ষুণ্ণ হয় ও তার সাথে আর দেখাসাক্ষাৎ করে না। ছেলেটি বেদনায় ভেঙে পড়ে। কিন্তু একদিন সে স্কুলে খুব ভালো রেজাল্ট করে। সে আশায় থাকে, হাসিনা আপু নিশ্চয়ই এ খবর পেয়ে তার কাছে ছুটে আসবে। … হাসিনা আপুর কথা তাকে ভুলে যেতে হয়। এরপর কলেজ জীবনে একই ক্লাসে পড়ুয়া এক তরুণীর তাকে ভালো লেগে যায়। তরুণীটি তাকে মেধাবী ছাত্র বলে খুব সমীহ করে। তাকে দিয়ে নোট বানিয়ে নেয়, পড়াশুনার ব্যাপারে আরো অনেক সহযোগিতা নেয় সে। কিন্তু এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পট পালটে যায়। কিশোর থেকে তারুণ্যে পৌঁছানো এক তরুণের হৃদয়ক্ষয়ী বেদনার গল্প ‘সুগন্ধি রুমাল’; সংকলনের প্রথম গল্প এটি। বইটি প্রকাশিত হবার পর তরুণদের কাছে এটি খুব ভালোলাগার গল্প হয়ে উঠেছিল। এরপর আছে অহঙ্কারের পতন, সুখ, একটি বিয়ে-উৎসব এবং কিছু উপঢৌকন, শিরির দুঃখগুলো, ইলিশ পোলাও, আয়না, পুতুলের জন্য চকবার ও কবিতার জন্য শিরোনামের ৮টি গল্প। সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাপনের কাহিনি নিয়েই মূলত গল্পগুলো রচিত। পাঠকমহলে অধিক সমাদৃত গল্পগুলোর কথা উল্লেখ না করলেই নয় – সুখ, একটি বিয়ে-উৎসব এবং কিছু উপঢৌকন, ইলিশ পোলাও। যারা লেখালেখি করেন, তাদের কাছে ‘সুখ’ ও ‘কবিতার জন্য’ গল্প দুটো বেশি ভালো লাগবে বলে বিশ্বাস।