
মানুষ মানবিক বোধসম্পন্ন প্রাণী। মানবিক বোধটুকু বাদ দিলে এই পৃথিবীর অন্যসব প্রাণীদের সঙ্গে আর কোনো পার্থক্যই থাকে না। কিন্তু যখন ষড়রিপুর স্বার্থপরতায় মানুষ উন্মত্ত হয়ে যায়, বিলুপ্ত হয় তার মানবিক অনুভূতি। আমাদের চারপাশে মানুষের কোন অভাব নেই। কিন্তু এদের বেশিরভাগই মুখোশধারী অসৎলোক। এরা মানবীয় নৈতিকতার দায়িত্ব ভুলে গিয়ে মানুষ না হয়ে পশুর মতোই বেঁচে থাকে এই পৃথিবীতে। এইসব অনুভূতিহীন ক্ষমতালিপ্সুরাই আসলে মানুষ না, তারা সবাই নমানুষ। এই নমানুষরা নিজেদের কলঙ্ক লুকিয়ে রাখার জন্য, বিকৃত আনন্দের খোরাক যোগানোর জন্য অহেতুক ক্ষমতা প্রদর্শন করে, নিষ্পেষিত করে সাধারণ নিরীহ মানুষজন’কে। অস্থিতিশীল এই নমানুষদের অসহিষ্ণুতার আগুনে পুড়ে যাচ্ছে বিবেক,সমাজ এবং রাষ্ট্র। কিন্তু অন্ধকার যেমন সূর্যের আলো’কে কখনই লুকিয়ে রাখতে পারে না, ঠিক তেমনই মানুষের মতো মুখোশধারী এইসব বাটপার মিথ্যাবাদীদের একসময় ঠিকই চেনা যায় সময়ের পরিক্রমায়। পশুর গর্ভ থেকে পশুর জন্ম হয়, বৃক্ষের বীজ থেকে জন্ম হয় বৃক্ষের, কিন্তু মানুষের গর্ভে থেকে সবাই মানুষ হয় না। পশুকে পশু হওয়ার, বৃক্ষকে বৃক্ষ হবার জন্য কোনকিছুই করতে হয় না। কিন্তু মানুষকেই মানুষ হবার জন্য মনুষ্যত্ব অর্জন করতে হয়। যে অর্জন করতে পারে সেই মানুষ, যে পারে না সেই নমানুষ। মানুষ ও নমানুষের পার্থক্য শুধুই এক পরিশুদ্ধ হৃদয়। তবুও সমাজে অল্পকিছু মানুষ থাকে যারা সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করে সমাজ, দেশের পরিবর্তন চাইলে, বিপ্লব চাইলে, আগে নিজের ভিতরের পরিবর্তন দরকার। মানবিকতায় বিশ্বাস রেখে তারা কখনই অন্যায়ের বিচার করতে ভয় না। এইসব অকুতোভয়ী কিছু মানুষদের হাত ধরেই বেঁচে থাকে মনুষ্যত্ব, নতুনভাবে সব কিছু করার কিংবা দেখার স্বপ্ন। নমানুষদের বিরুদ্ধে এই অল্পকিছু সত্যিকার মানুষের আমরণ লড়াই চলবেই...