

গোয়ালায় শুয়ে শুয়ে কতো কিছুই না ভাবছে বশির। জোরে উত্তরে হাওয়া বইছে। মাথা ভার হতে শুরু করেছে, ভীষণ ঠান্ডা। বাড়ি থেকে কয়েক মাইল উত্তরে হাওড়ের পাড়ে এই ছনের ঘরটি তৈরি করেছে বশিরদের গায়েরই কয়েক ঘর চাষি। গায়ে জমিজমা যা ছিল, হাত ছাড়া হয়ে গেছে। এমন হাওড়ের পাড়ে জঙ্গল সাফ করে খিল তুলেছে। হেমন্তে এখানেই জিরাত করে। বাড়ি থেকে চাল ডাল, গরু-বাছুর নিয়ে আসে। কুটিরের মাঝখানটায় বেড়া দিয়ে একপাশে থাকে মানুষ, অন্যপাশে গরুগুলাকে রাখে। জিরাতিরা এরই নাম দিয়েছে গোয়াল। এমনি একটি গোয়ালায় শুয়ে আছে বশির আর ফজল। বাইরে দাড়ি দিয়ে ছইয়ের মতো করে, নিচে খর বিছয়ে শুয়ে আছে গিরস্তিদের ক'জন। গোয়ালটা দুদিনের জন্য ছেড়ে দিয়েছে বশির আর ফজলকে।