

বাবা মানুষটাকে অনীকের খুবই পছন্দ। ওর ধারণা, এত ভালো মানুষ এই পৃথিবীতে আর একটিও নেই। এই কথা শুনে অনেকের মনে হতে পারে, অনীক নিশ্চয় বাড়িয়ে বলছে। কিন্তু সে আসলে একটুও বাড়িয়ে বলছে না। এ রকম যদি আর কারও বাবা হতো, সে-ও নিশ্চয় এই একই কথা বলত। মাকেও অনীক খুব ভালোবাসে আর পছন্দ করে, সে জানে মা-ও তাকে খুব ভালোবাসেন। তবে সমস্যা হচ্ছে মা একটু গম্ভীর ধরনের। বাবা হচ্ছেন একদম উল্টো। কত রকম হইচই করে সারা বাড়ি ভরিয়ে রাখেন! এই তো সেদিন বারান্দায় বাবা তার সঙ্গে ক্রিকেট খেলতে আরম্ভ করে দিলেন। সে বল করল আর বাবা এমন সপাটে ব্যাট চালালেন, বল গিয়ে লাগল দেয়ালে টাঙানো কাচে বাঁধানো ছবিতে। অন্য কেউ হলে জিবটিব কেটে অস্থির হতো। বাবা হাসিমুখে বললেন্তদেখেছিস কত জোরে মেরেছি! বাবার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছে সে। এর মধ্যে একটা বড় শেখা হল্তোসব মানুষকে সমান চোখে দেখা। বাবা এই ব্যাপারটা তাকে খুব সুন্দর করে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এই কিছুদিন আগে তাদের ড্রাইভার হাসান চাচার ছেলে জামাল এল ঢাকায় বেড়াতে। হাসান চাচার সবাই থাকে গ্রামের বাড়িতে, সে শুধু থাকে এখানে এক মেসে। জামাল এসে সেই মেসেই উঠল। পরদিন হাসান চাচা জামালকে নিয়ে এল অনীকদের বাড়িতে। বাবা বললেন্তঅনীক, তুমি কি একটা কাজ করতে পারবে ?