
এদেশে বাংলাভাষায় ইসলামচর্চা অনেক আগ থেকে শুরু হলেও বিশুদ্ধ বাংলায় মানসম্মত কাজ খুব কম হয়েছে; বেশিরভাগ কাজ হয়েছে উর্দুকে আশ্রয় করে। নিরেট বাংলায় যতোটুকু হয়েছে তা গোনায় ফেললে বলা যায়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কিছু কাজ, যাকে রবীন্দ্রনাথের মতে, 'অভিধান দেখে লোহা-লক্করের ভাষার লেখালেখি।' ইসলামিক ফাউন্ডেশনে ডাউট সাইজের অনেক বই ছাপা হয়েছে, বইগুলোর অফিসিয়ালি প্রচ্ছদ দেখলে বুঝা যায়- ছাপা হয়েছে গম্ভীর মেজাজের নির্ধারিত গবেষকদের জন্য। সহজ-সরল ভাষায় ইসলাম সম্পর্কে জানতে চাওয়া লোকদের জন্য তো নয়ই। সময় অনেক বদলেছে। ইসলাম নিয়ে গণমাধ্যমে এখন অনেক লেখালেখি হচ্ছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। ইসলামের সহজ উপস্থাপনের প্রচেষ্টা দিন দিন বাড়ছে। একসময় তা আরও ব্যাপক হবে। ইসলামে যেমন চিন্তাগত স্বাধীনতা রয়েছে তেমনি আছে চিন্তার উদারতাও। আছে নিজের ভাষায় সহজভাবে ইসলামকে জানার আগ্রহ। সাতপ্যাঁচে জড়িয়ে যারা ইসলামকে জানতে আগ্রহী নন, তাদের জন্য গণমাধ্যমকর্মী, আলেম সাংবাদিক, লেখক, ওমর শাহ'র উপহার- 'যে জীবন আসমানের'। সবধরনের জটিলতা এড়িয়ে ইসলামকে সরল সাবলীল ভাষার তিনি উপস্থাপন করেছেন। 'যে জীবন আসমানের' বইটিতে চল্লিশটির মতো বিষয় স্থান পেয়েছে যেমন- ইমানের সম্পদে সাজাও জীবন!, মন এক দেহঘরি, যিকিরে আত্মার শান্তি, বছরজুড়ে থাকুক রোজার পরিবেশ, সমালোচনা থেকে আত্মসমালোচনাই উত্তম, হিংসায় কর্ম নষ্ট হয়, অপচয় রিজিক কমিয়ে দেয়, সময় গেলে সাধন হবে না, ঘরের দেয়ালে চিত্রশিল্প : কী বলে ইসলাম, ওরাল সেক্স ও ইসলাম, কবিতা আবৃত্তি হারাম নয়। এ ছাড়াও আছে চমৎকার সব বিষয়। বইটি হাতে নিলে ইসলামকে নতুনভাবে জানতে আগ্রহী হবেন বলে আমার বিশ্বাস। পত্র-পত্রিকায় তরুণ লিখিয়েদের জন্যও বইটি হবে পথনির্দেশক।
সুন্দর ও সাবলীল উপস্থাপনা। যারা দ্বীনি আবহে ফিরতে চাইছেন তাদের জন্য পড়া উত্তম হবে।
Read all reviews on the Boitoi app