

নিজের বয়সের দ্বিগুন এক পুরুষকে বিয়ে করে সংসার জীবনে পা রাখেন জেরিন। স্বামীর বয়স নিয়ে তার মাথাব্যথা নেই, নেই স্বামীর দায়িত্বজ্ঞান নিয়েও। ট্রাকচালক স্বামী কয়েকদিন পর পর নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। আবার, ফিরে আসে। সংসারে আছে ছোট এক ননদ এবং শ্বশুর, শাশুড়ি। শ্বশুর চোখে দেখেন না, শাশুড়ি প্যারালাইজড। তার কোলেও একে একে আগমণ করে তিন সন্তান। বাসা ভাড়া বাকি পড়েছে ১১ মাসের। শ্বশুর, শাশুড়ির শারীরিক নানান জটিলতায় প্রতিদিন ওষুধ লাগে প্রায় ৮০০ টাকার। ডাক্তারের ফলোআপ তো রয়েছেই। পাড়ার দোকানে বাকি পড়ে মেলা টাকা, ধারের কথা বলে লাভ নাই। স্বামী যখন ফিরে আসে তখন সেও ধার করে বউয়ের কাঁধে সেই ঋণ চাপিয়ে দিয়ে যায়। উপায় না পেয়ে গার্মেন্টসে কাজ নেয় জেরিন। কিন্তু সেখানেও তার উপর দৃষ্টি পড়ে সুপারভাইজারের। তারপর... ? কিভাবে জেরিন সামাল দিবে সব দিক ? একদিন মোস্তাক রাগের মাথায় বউকে বলেছিলো, 'শরীর বেঁচতে পারোস না ?' সেই কথাটাই কি মোস্তাকের বউয়ের জীবনে সত্যি হবে ? গল্পটি পড়লে সকল প্রশ্নের উত্তর জানা যাবে। পাঠক পড়ে জানাক তাদের কেমন লেগেছে পোনা মাছের ঝোল গল্পটি।
রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের মতো এক নিঃশ্বাসে (এক নিঃশ্বাস মানে এক নিঃশ্বাস না, ছোটগল্পের সংজ্ঞায় পড়েছি) পড়ে শেষ করে ফেললাম। যদিও মানিক বন্দোপাধ্যয়ের মতো কিছু আদিমতা ছিলো তথাপি বর্তমান সমাজের বাস্তব একটি চিত্র ফুঁটে উঠেছে এই লেখায়। আপনার লেখালেখির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করি।
Read all reviews on the Boitoi app
এটা গল্প হলেও বাস্তবতা বোধহয় এর চেয়ে বেশি আলাদা কিছু নয়।জীবনের প্রয়োজনে,অস্তিত্ব জানান দেয়ার প্রয়োজনে কত ত্যাগ ই না করতে হয়! লেখিকা ভীষণ সুন্দর করে উপস্থাপন করেছেন।গল্প পড়ে মনে হয় সত্যিই কোন জেরিনের কাহিনী পড়ছি।অনেক শুভকামনা ও অভিনন্দন রইলো লেখিকার জন্য♥♥
নির্মম বাস্তবতা। জীবনের রূঢ় রূপ ফুটে উঠেছে। কত কুৎসিত হতে পারে নিয়তি ও সময়। কেন এমন হয়? একবার মনে হলো, লেখক কি অন্যকিছু সমাধান দিতে পারতেন না? তারপর উপলব্ধি হলো, লেখক তো গল্পকথক! অনিবার্য পরিণতি তিনি ঠেকাতে পারেন না। পাঠকদের অবহিত করেন, করেন আন্দোলিত। লেখকের জন্য শুভ কামনা।