

তাঁহার নবী জীবনের দুইটি রূপ : জামালী এবং জালালী। মক্কার তের বছর আমরা তাঁহার জামালী রূপ দেখিতে পাই। সকল দুঃখ-কষ্ট অকাতরে হাসিমুখে গ্রহণ করিতেছেন। মানুষের পাপ প্রক্ষালনের জন্য শুধু প্রেম ও স্নেহ দিয়া সবাইকে তাঁহার দিকে আকর্ষণ করিতেছেন। এই রূপটি আমরা হজরত ঈসা নবীর মধ্যে দেখিতে পাই। ক্রুশবিদ্ধ হইয়া লোকের পাপ হরণ করিতেছেন, অর্থাৎ ত্যাগ এবং সেবাধর্ম শিক্ষা দিয়া যাইতেছেন। এই নীতি অনুসরণ করিলে সমাজ পাপমুক্ত হইতে পারে। নিজে কষ্ট স্বীকার করিয়া লও, সমাজকে ক্ষমা এবং সেবা করিয়া যাও। কিন্তু ইহাতে ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা করিতে পারিবা না। রাজ্যের মালিক এবং সমাজ তোমাকে ক্রুশবিদ্ধ করিবে। কারবালা আজও শেষ হয় নাই। ইহা চিরন্তন। আজও "মোহাম্মদী আদর্শ" তথা "হোসাইনী আদর্শ" সমাজে গ্রহণ করিলে কারবালার জন্য প্রস্তুত থাকিতে হইবে।