

পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দীন খানের আজ অফ-ডে। তিনি একটা রুলটানা খাতা আর কলম নিয়ে তাঁর টেবিলে বসে আছেন। একটা কবিতা আসছে আসছে করেও যেন আসছে না। তিনি একজন কবি। 'রুদ্ধ মৈত্র' ছদ্মনামে তিনি মাঝেমধ্যে কবিতা লিখে থাকেন। অবশ্য ভালো পত্রিকাগুলো তাঁর কবিতা ছাপে না। আগানে বাগানে কিছু পত্রিকা বের হয়, সেগুলোতে ছাপা হয়। দু-একটা লিটল ম্যাগাজিনে তাঁর কবিতা ছাপা হয়। এর কারণ অবশ্য তার কাব্যপ্রতিভা নয়। ওই লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকেরা জানে তিনি পুলিশের বড় কর্মকর্তা। তাই মাঝেমধ্যে আগ বাড়িয়ে এসে তাঁর কবিতা নিয়ে যায়। তিনি অবশ্য দেন। ছাপার অক্ষরে তাঁর কবিতা দেখতে ভালো লাগে। তাঁর ইচ্ছে আছে একটা কবিতার বই বের করবেন সামনের বছর। কবিতার বইয়ের নামও ঠিক করে ফেলেছেন, 'অচিন বালকের দুঃখ'। একজন প্রকাশকও তাঁর পেছনে ঘুরঘুর করছে বই ছাপার জন্য। কিন্তু বোঝা যায় তাঁর কাব্যপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে ওই প্রকাশক তার পেছনে ঘুরছে না। বই বের করে তাঁকে খুশি করতে চায় লোকটা। প্রকাশকের কোনো মতলব আছে।