

জীবন-রহস্যের সন্ধান ও পুনঃপুন আবিষ্কার এবং তার পুনঃসৃষ্টি যে-কোনো মহৎ সাহিত্যকর্মের অন্তর্গত লক্ষণ। ক্রম-আবিষ্কার সম্ভাবনাই ধ্রুপদী সাহিত্যের কালজয়ী প্রাসঙ্গিকতার মৌল সূত্র। রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন : "আপনাকে আর আপনার পরিবেষ্টন বাছাই করে নেয়নি মনুষ্য; এ তার 'পড়ে পাওয়া' ধন। তা নিয়ে খুশি হতে পারে না মানুষের মন। সে চায় 'মনের মতো'কে। এই 'মনের মতো'কে পাওয়ার জন্যই শিল্প-সাহিত্যের সৃষ্টি; আবার সৃষ্ট শিল্প-সাহিত্যের মাঝে নতুন সম্ভাবনাকে আবিষ্কারের বাসনাও ওই 'মনের মতো'কে সন্ধান থেকেই জাত।" এ সূত্রে বিবেচনা করলে রবীন্দ্র-ছোটগল্পের মাঝে আমরা খুঁজে পেতে পারি ভিন্ন এক তাৎপর্য। নানা দৃষ্টিকোণেই আমরা আবিষ্কার করে নিতে পারি রবীন্দ্রনাথের গল্পসাহিত্যের সম্ভাবনাকে এবং তার একটি হতে পারে নাট্য-সম্ভাবনা। বর্তমান আলোচনায় রবীন্দ্র-ছোটগল্পের নাট্য-সম্ভাবনা আবিষ্কারই আমাদের মৌল অন্বিষ্ট।