

উপন্যাসের কাহিনী মূলত আবর্ত হয় গল্পকথকের যৌবনের স্মৃতিকাতরতায়। কিশোর বয়সে আশীষ দার কাছে রাজনীতির হাতেখড়ি।শুধু তার নয়, তাদের বয়সি আরো কয়েকজনের । এমন একটা সময়ে তারা জীবনে রাজনীতিকে বরণ করে নেয় যখন দেশের চরম ক্রান্তিকাল চলছে। স্বৈরশাসক গণতন্ত্রের নামে প্রহসন চালিয়ে যাচ্ছেন। সেই সময়ে তারা চোখে গণতন্ত্রের স্বপ্ন আর একটা আদর্শর জন্য গুলির সামনে বুক এলিয়ে দেয়৷ কোনো দল, স্বার্থ, ব্যাক্তি কোনোকিছুই তাদেরকে মোহাবিষ্ট করতে পারে নি, তারা চেয়েছিল শুধু লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জন করা স্বাধীনতার আসল স্বাদ। এরপরের ইতিহাস উচ্ছাসহীন, নির্মম। প্রতিবাদ, প্রতিরোধের সামনে পড়ে যৌবনের রঙিন দিনগুলো কারোর কাটে কয়েদখানায়, আবার কারোর যৌবনের আগেই মৃত্যু এসে হানা দেয়। এসব কিছু তাদরকে বাধ্য করে রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে। এরপরে অনেকগুলো বছর কেটে যায়। তারপর একদিন হঠাৎ করে অতীতের সাথে যোগাযোগ, সাক্ষাৎ আর স্মৃতিকাতরতায় জড়ানো বিলাপধ্বনি। যে প্রতিবাদের সংগীত কেউ গায় না, এতটুকু গর্ব যাদেরকে নিয়ে কেউ করে না, কোথাও দেশের সূর্যসন্তানের তালিকায় কেউ ভুলেও যাদের নাম নেয় না, তাদেরই একজন মানুষ, যে নিজের সব হারানোর গল্প আবার নতুন করে মনে করে। এতটুকু স্বীকৃতির আহ্বানও কি কোথাও ছিলো? কিংবা অভিযোগের সুর? হবে হয়তো। সবটা মিলিয়ে সে চেয়েছে এই লাল রক্তের হিসেবটুকু পৌঁছাক তার পরবর্তী প্রজন্মের কাছে, এই গল্পের মোড়কে কিংবা উজ্জ্বল স্মৃতির পাতায়।
বইটা এখনও পুরোটা পড়িনি। তবে অল্প যেটেকু পড়লাম তাতে ভাল লাগছে৷ লেখার বর্ণণা ভালোই। আশা করছি কাহিনিটাও বেশ হবে৷
Read all reviews on the Boitoi app