
পাহাড়ের গায়ে বইতো এক নদী। সে নদীর অধিকার নিয়ে বাঁধল রাজায় রাজায় যুদ্ধ। নদীর নাম হল তাই রাইংখ্যং। মানে 'ঝগড়ার নদী'। তখন ছিল সামন্ত রাজাদের যুগ। তারপর সময়ের নদী পেরিয়ে এসেছে অনেকটা পথ। রাইংখ্যংয়ের পায়ে বাঁধন পড়েছে পাথরের। এখন সেটা আর নদী নেই , একটি হৃদ। তার পারে বসবাস করে রাঙ্গামাটি থেকে উচ্ছেদ হওয়া প্রধানতঃ ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানে যেতে হলে পায়ে হেঁটে পার হতে হয় তিনতিনটে পাহাড়। দু'হাজার থেকে তিন হাজার ফুট , মানে ৩০০ তলার সমান তাদের উচ্চতা। আদিবাসীরাই বলেন সে পথ 'রাতেও আন্ধার , দিনেও আন্ধার'। এমনই দুর্গম। কিন্তু কেন রাঙ্গামাটি থেকে উচ্ছেদ হন ওরা? কেন মাঝে মাঝে সেখানে হানা দেয় একাত্তরের বিভীষিকা? সেই সাথে অপরূপ প্রকৃতি। যার আকর্ষণ অপ্রতিরোধ্য। সেই সব আনন্দ-বেদনার দিনলিপি 'রাইংখ্যং-এর কান্নাহাসি'তে।