
সাইফুলের এসবের ভাবনার মাঝেই হাওয়া উঠল। এতক্ষণ লক্ষ্য করেনি কখন আকাশে একটু একটু করে মেঘ জমেছে। মেঘগুলো একজায়গায় জমাট বেঁধেছে। বিদ্যুৎ চমকাল। সন্ধ্যের আগেই সন্ধ্যের রুপ নিয়েছে প্রকৃতি। এই সময়ে বর্ষার একটা অর্থ আছে। শীত নামাবে। কিছুক্ষণের মধ্যে বৃষ্টি নামবে এই আশাংখায় পথঘাটের চেহারা দ্রুত পাল্টে যেতে লাগল। বোধ হয় বৃষ্টি দেখে মিছিলকারীরার ক্ষ্যান্ত দিয়েছে। রাস্তার জ্যাম দ্রুত ছুটে যাচ্ছে। গাড়ি চলতে শুরু করছে। বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ানো যাত্রীরা মরিয়া হয়ে বাসে উঠার চেষ্টা করছে। বাদুর ঝোলা হয়ে হলেও বাড়িতে পৌছাতে হবে। সাইফুলকেও বাড়িতে পৌছাতে হবে। বুড়োকে বাড়িতে পৌছে দিতে হবে। রবীন্দ্রনাথের ফটিকের মত বুড়োও চিরদিনের জন্য বাড়ির পথে চলেছে। 'স্যার, বৃষ্টির যা ভাব! এক্কেবারে ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। ঢাকা শহরে এক হাঁটু পানি জমে সাগর হয়ে যাবে। তখন শহর ছেড়ে বেরুতে খবর হয়ে যাবে।' ড্রাইভার আনিছ দাঁত কেলিয়ে হাসছে। ঝুমঝুমে বৃষ্টি নামায় দাঁত বের করে হাসার কি হলো সাইফুল বুঝতে পারল না। সবচেয়ে বড় ব্যাপার বৃষ্টি নামার সাথে সাথে তার নিজেরও ভাল লাগতে শুরু করছে। যেন বৃষ্টির তোড়ে মনের যত গ্লানি ভেসে যাচ্ছে। শহর মানুষের ভেতর এতটা ক্লেদ, এতটা গ্লানিতে ভরে দেয়! আনিছের কথা বুঝতে পারল সাইফুল। একবার পানি জমে গেলে মৃত শহর ডেড সী হয়ে যাবে। সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকবে পানির মধ্যে। সবগুলোকে তখন সাগরে ভাসা জলযানের মত লাগবে।