

সেদিন থেকে বাসনা ফাহিমকে আমলেই নেয় না। ফাহিমও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছ্তেকারণ বাসনার সাথে ইদানীং যাদের ঘনিষ্ঠতা, তারা কেউই এ ক্যাম্পাসের ছাত্র নয়। বিশেষ করে কানাই নামের এক সুদর্শন অছাত্র বাসনার সাথে ছায়ার মতো মিশে থাকে সর্বক্ষণ। উচ্ছৃঙ্খল মাসল-ক্যাডার হিসেবে কানাই জনশ্রুত। ফাইভ ফাইভের প্যাকেট থেকে একের পর এক সিগারেট ধরিয়ে ভুকভুক ধোঁয়া উড়ায় বাসনার নাকের ডগায় আর বাসনা বাঁ-হাত চিতিয়ে নাক আগলে হেসে কুটি কুটি। এ অসহ্য, তাছাড়া কানাইয়ের বাইকের পেছনে নিয়মিত যাওয়া আসা বা অতি ঘনিষ্ঠতা ফাহিমকে পীড়া দেয়। মাঝে মাঝে বাবার অফিসিয়াল গাড়িতে এলেও কলেজ গেটে ওই কানাই বাসনাকে রিসিভ করে। তখন নিজেকে বেমানান মনে হয় ফাহিমের। ইদানীং কানাইকে জড়িয়ে বাসনা সম্পর্কে ক্যাম্পাসে বেশ মুখরোচক গুঞ্জন শোনা যায়। ফাহিম মনে মনে কষ্ট পায়, তবে কাউকে বলে না। ক্রমশ কলেজের প্রশস্ত করিডোর জরাজীর্ণ মনে হতে থাকে। এভাবে গ্রাজুয়েশন শেষ হয় ফাহিমের। রেজাল্ট দায়সারা অর্থাৎ সেকেন্ড ক্লাস। পরিবার থেকে উচ্ছ্বাস জোটেনি বরং সবাই কেমন মুখগোমড়া। দুঃখ-ক্ষোভে সিদ্ধান্ত নেয়, ঢাকা চলে আসবে। অন্ততঃ বাসনাকে তো এড়ানো যাবে! আবার নতুনভাবে শুরু করবে নিজেকে। ঢাকা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস না জোটে, জগন্নাথে নিশ্চয়ই চান্স পাওয়া যাবে।