

"ডেভিল লাভার" এক বৈরী ভালোবাসার গল্প। যেখানে হাসিব সব করতে পারে তার ভালোবাসাকে আপন করে পেতে। অপরদিকে লোপা ভীষণ ভয় পায় আর, ঘৃণা করে হাসিবকে। কারন হাসিব একজন গুন্ডা। ভাগ্যের বিড়ম্বনায় লোপা হাসিবকে বিয়ে করলেও মেনে নিতে পারে না স্বামী হিসেবে । একই ছাদের নিচে যেন দুটি ভিন্ন পৃথিবীর বসবাস। সময় তার নিয়মেই চলে... তার সাথে তাল দিয়ে বাড়ে ওদের দূরত্ব। রাজনৈতিক ক্ষমতার রদবদলে হাসিব দূর্ঘটনার স্বীকার হয়। বাঁচার জন্য দেশ ছাড়ে হাসিব। লোপার কাগজপত্র না থাকায় লোপা যেতে পারে না। ততদিনে লোপা টের পায় কতটা ভালোবেসে ফেলেছে ও হাসিবকে। কি করন ছিলো লোপার ঘৃণা ভালোবাসায় রূপ নেয়ার, এমনি দুজনে ভালবেসে কাছে আসার, এক হবার...
খুবই সুন্দর আর ভিন্ন প্লটের একটা গল্প। এক টানে শেষ করে ফেলেছি।
Read all reviews on the Boitoi app
একটানে পড়ে ফেললাম। মন ছুয়ে গেল। হাসিব কেন ডেভিল? আমার তো বেশ লাগলো। লেখিকার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা
কতবার যে পড়েছি... অসম্ভব সুন্দর একটা গল্প!
রিভিউঃ 🔷সূচনাঃ জীবনে ভালোবাসার,ভরসার এবং বিশ্বাসের একটি স্হান মানুষ কোথায় কোথায় না খুঁজে! যার উপর নির্ভার হয়ে নিজের সারাটা জীবন উৎসর্গ করা যায়। লোপা এবং হাসিব ও তার বিপরীত নয়।পরস্পর বিরোধী মনোভাবের এদুটো মানুষ কোথাও না কোথাও একই সূত্রে গাঁথা ছিলো।কি সেই সুরের টান যা তাদের শেষ পর্যন্ত এক রেখেছিলো?ভালোবাসা?না-কি মানিয়ে নেওয়া? ডেভিল লাভার একটি ব্যাতিক্রমধর্মী রোমান্টিক জনরার ইবুক।শুরুতে যার প্লট এবং শেষ অংশ বুঝা যাবে না।পাঠক হিসেবে শুধু নিজের মতো কল্পনা করা যাবে। 🔷ধরনঃ এটি একটি রোমান্টিক জনরার রোমাঞ্চকর উপন্যাস। যার মূল চরিত্র লোপা ট্যুরেমেনিয়া রোগে আক্রান্ত। যে নিজের সদ্য যৌবনে একজনের মায়ায় আটকা পরে সারাজীবন তাকেই ভরসার জায়গায় রাখতে চেয়েছিলো কিন্তু বিপরীত দিক থেকে সীমাহীন অবহেলা যাকে বিমর্ষ করে দেয়। তারপর হঠাৎ কোন রুপকথার রাজ্যের রাজকুমার তো আসেই না অতি সাধারণ ভাবে যার জীবন বয়ে চলে। 🔷মূল্যায়নঃ গঁদ বাধা জীবনের স্বাভাবিক একটি গল্প লেখিকার সুন্দর এবং যথার্থ শব্দচয়নে অসাধারণ হয়ে উঠেছে।যা কখনো লোপার এককালের বেপরোয়া পাগলামির জন্য হাসাবে কখনো তার নিঃসঙ্গতার জন্য মন খারাপের ঝুরি খুলে বসবে, কখনোবা সবচেয়ে নেগেটিভ চরিত্রের হাসিবের জন্য মায়া কাজ করবে।এখানে মানালির সৌন্দর্য যেমন ফোটে উঠবে তখন মনে হবে এটি একটি ভ্রমণ কাহিনি, আবার যখন বিয়াস নদীর তীরে লোপা তার ভালোবাসা খুঁজবে তখন নিজেরও সে ভালোবাসা প্রত্যক্ষ করতে ইচ্ছে করবে। 🔷উপসংহারঃ গল্পটির একেক সময়ে একেক অনুভূতির ভিন্ন স্বাদ আচ্ছাদন করা যাবে। এখানে কখনোবা ভালোবাসা হারানোর বেদনা থাকবে তো কখনো কারো সাথে চুটিয়ে প্রেম করার দৃশ্য দেখা যাবে আবার কখনো অতিরিক্ত চাওয়া থেকে পলায়ন করা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা কেউই কারো গন্তব্য হতে পারে না।এমন একজনের সাথে জীবনের সুর গাঁথা হয় যাকে মনেপ্রাণে কেউ কখনো কামনা করে নি।তবুও তার সাথেই জীবন কাটানোর সীদ্ধান্তটা কি নেহাতই সামাজিক দায়বদ্ধতা না-কি ভালোবাসা? 🔺🔺প্রিয় কিছু উক্তি ও চরিত্র🔺🔺 **"পৃথিবীর সুন্দরতম দৃশ্যের কোন ছবি হয় না"** **"প্রেম মানুষকে শুধু অন্ধই করে না সাথে বেপরোয়া ও করে দেয়।"** **"যদিও এটা প্যারিস ব্রিজ না। তবুও কেন যেন মনে হলো এখানে আমি আবার আসবো। আমার ভালোবাসার মানুষের সাথে। তখন তাকে এটা দেখাব। মুহুর্তেই মনটা ভালো হয়ে গেলো। মানালির প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য্যে আমার মনে জমে থাকা সব কষ্ট গুলোকে উড়িয়ে দিলাম।"** (ভারি অদ্ভুত ছিলো এ জায়গাটা, যেখানে প্রর্থনা করা হয় একজনের জন্য কিন্তু পরে আসা হয় ভিন্ন মানুষের হাত ধরে।তাহলে প্রকৃত ভালোবাসা কোনটা ছিলো প্রার্থনার সেজন না-কি যেজনকে পেয়েছে প্রার্থনারই জন্য?) **"যা কিছু ভালো লাগে তাই করতে ভালো লাগে"** ( সমস্যা হলো যখন উনার প্রতি উনার ভালোবাসার মানুষ এ থিউরি এপ্লাই করে তখন আর ভালো লাগে না 😅) **"মানুষের জীবনে মেনে চলার সব থিউরি সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলেও কিছু মানুষ আছে যাদের এসবকিছু ফলানো যায় না। কারণ তারা জীবনের উর্ধ্বে। (যাকে মানুষটি জীবনের উর্ধ্বে ভাবতে সে তার জীবনের গন্তব্য হতে পারেনি) **"রাগ দেখানোর জন্য ও স্পেশাল মানুষ লাগে, তিনি এমন কেউ নন।(ঘটনা হচ্ছে এই একই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই উপরের উক্তিটিও করা হয়েছে।তাহলে জীবনের কোলাহলে কি অনুভূতির রঙ বদলায়?) "" **জীবনের অপ্রত্যাশিত কষ্ট গুলোকে স্বপ্ন ভাবতে ইচ্ছে হয়।মনে হয় ঘুমের ঘোর কাটলেই যা হচ্ছে সব মিথ্যে হয়ে যাবে। ** **অন্ধকারকে এত ভালোবাসি তাইতো অন্ধকার আমাকে ভালো না বেসে পারলোই না।তাইতো জীবনটা ভরিয়ে দিলো নিকষ কালো অন্ধকারে। ** **আমরা যখন কারো প্রেমে পরি তখন তার সবকিছুই আমাদের ভালো লাগে। আসল ব্যপারটা কিন্তু এমন না,আমরা তখন তাদের সবকিছু ভালো লাগার অনুভূতি দিয়ে ইডিট করে দেই।আর যাকে ঘৃণা করি তার ভালো দিকগুলো ও ঘৃণার তলে চাপা করে অদৃশ্য হয়ে যায়।** ***সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র হচ্ছে হাসিব, যে ভালোবাসাকে যত্ন করতে পারে,আগলে রাখতে পারে এবং বিশ্বাস অর্জন করতে পারে।যাকে মূলত ডেভিল ভাবা হয়েছিলো সেই মূলত এঞ্জেল হয়ে রুপান্তরিত হয় জীবনে।**
বইটই অ্যাপে পড়া প্রথম গল্প আমার । লেখিকা খুব শুন্দরভাবে প্রতিটা ক্যারেক্টার তুলে ধরেছে। আমার পড়া একটা অন্যরকম ভালোবাসার গল্প। ধন্যবাদ এত সুন্দর গল্প উপহার দেয়ার জন্যে।
ডেভিল লাভার গল্পটির নামই যেন অন্যরকম।এটি একটি বৈরী ভালবাসার গল্প।লেখিকা আপু খুব সুন্দর করে সাজিয়ে গুছিয়ে লিখেছেন।এই রকম সাজিয়ে গুছিয়ে লেখা গল্প আমি প্রথম পড়লাম। সত্যিই অনেক সুন্দর হয়েছে গল্পটি। লেখিকা আপুর জন্য দোয়া ও অবিরাম ভালবাসা রইল।যেন অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে।
এই গল্পটি দিয়ে আমার পুরোপুরি গল্প পড়া শুরু। গল্প পড়া, গল্পের চরিত্র গুলি বুঝা সব আমার এই গল্প দিয়েই শুরু। এই বই যতই পড়ি ততই পড়তে ইচ্ছে করে। আর লেখকের কথা কি বলব! উনার হাতে যেন জাদু আছে। এক একটা চরিত্র কি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলে একদম জীবন্ত মনে হয়। খুব গুছিয়ে লিখে মাশাল্লাহ । উনার লেখা আরও বই পড়তে চাই। "বাবুই"
অসাধারণ ছিল বইটা। অদ্ভুত ভাবেই এই গল্পটা আমার খবুই প্রিয়। এফবিতে শেষ করার পরেও অনেক খুজেছি আবারও পড়বো বলে, কিন্তু জানতাম না বই বের হবে। তারপর লেখিকাও লেখা বন্ধ করে দিলো এবং কিছুদিন আগেই জানলাম বই বের হবে। কি যে অপেক্ষায় ছিলাম বইটার জন্য অবশেষে পেয়ে গেলাম। কিছু মানুষ তার ভালোবাসার মানুষটার থেকে হিরো উপাধি নয় ডেভিলও উপাধি পায়, তবে তা ঘৃণা নয় ভালোবাসা থেকে। গল্পের চরিত্রগুলো আমার কাছে খুবই পছন্দের বলতে গেলে। অবুঝ মনে যাকে নিজের মনে জায়গা দিয়েছে বুঝদার হবার পর তাকেই মন প্রাণ উজাড় করে ভালোবেসেছে, কিন্তু একটা সময় সেই মানুষটার অবহেলা সহ্য করতে হয়েছে! ভালোবাসার মানুষটার থেকে আঘাতও পেতে হয়েছে আবার মুখ বন্ধ করে সহ্যও করতে হয়েছে। কি নিদারুণ, নিষ্ঠুর ভালোবাসার মানুষটা। মানুষ জীবনে কিছু হারায় তার চেয়ে ভালো কিছু পাবে বলে ,লোপা প্রথম ভালোবাসা হারিয়েছে, পরে যে তার জীবনে এসেছে সেও একভাবে হারিয়ে গেছে কারণ লোপার জীবনে তার চেয়েও ভালো কিছু হবার ছিল বলেই। লোপার স্বপ্ন ছিল নিজের ভালোবাসার মানুষটার সাথে মানালি ঘুরতে যাবে, এটা তার মন তাকে আগেই জানিয়ে দিয়েছে! কিছু দূরত্ব ভালোবাসা বাড়ায়, ভালোবাসার গুরুত্বটা বাড়ায়, মন বুঝতে পারে ভালোবাসার মানুষটার অনুপস্থিতি কতোটা যন্ত্রণাদায়ক হয়! যেমনটা হয়েছে লোপার জীবনে। লোপা নিজেও জানতো না তার ডেভিলটা তার জীবনের কতোটা জুড়ে বাস করছে । লোপা বলেছিলো যার জন্য মনের মাঝে ঘৃণা থাকে তার সবকিছুর ওপরেই ঘৃণা হয়, আর ভালোবাসার মানুষটার সবকিছুই ভালো লাগে। লোপা যতোদিন তার ডেভিলকে ভালোবাসতে না পেরেছে ততোদিন তার কোনকিছিই তার মনকে ছুঁতে পারেনি! কিন্তু ভালোবাসার পর থেকে সবকিছুর প্রতি শুধু ভালোবাসাই তৈরি হয়েছে। লেখিকাকে অনেক বেশি ধন্যবাদ এবং ভালোবাসা ডেভিল লাভার আমাদের উপহার দেবার জন্য।
আমি এতদিন ভেবে বসে আছি, এটা তো আমি পড়েছি আগে, কিন্তু আপুর একটা পোস্ট দেখলাম ২০১৭ সালে ডেভিল লাভার পড়লেও আবার কেন পড়বেন। সত্যি মূল গল্পের কাহিনি ঠিক রেখে অনেক কাজ করা হয়েছে এবারের প্রকাশিত উপন্যাসে। অনে।ক অনেক ঘটনা যেগুলো আগের বার উল্লেখ করা হয়েছিল তার ডিটেইলস বর্ণনা রয়েছে এবারের উপন্যাসে। একটা নতুন চরিত্র ও যোগ হয়েছে। আগের গল্পটা নাকি ১৬ হাজার শব্দের ছিলো। এবারের টা বিশাল বই। লোপার মানালি ভ্রমণ আর চিঠিটা এত সুন্দর লেগেছে যে বলার মতো না। দুইদিন টানা পড়ে গিয়েছি বইটা। এখন আফসোস হচ্ছে এত জলদি কেন শেষ হলো। আপু আপনি দ্রুত নতুন বই আমাদেরকে উপহার দিন। আমি আপনার বিশাল ফ্যান আগেও ছিলাম, ভবিষ্যতে ও থাকবো ইনশাআল্লাহ... আপনার জন্য দোয়া রইলো...
Amar valobashar jibon bastob kahini