

'আহির ভাইয়া, একটা জিনিস খেয়াল করলাম।' আহির ধোঁয়া ওড়া কফির মগে চুমুক দিয়ে বলল, ' কী খেয়াল করলে মেঘলা?' 'আপনার আর আরশির নামের বেশ মিল।দু'টোই ‘আ’ দিয়ে শুরু। আহির আর আরশি।হঠাৎ যে কেউ ভাববে ভাই-বোন।' চামেলি বেগম স্বভাব সুলভ হেসে বললেন, 'ভাববার কী আছে, ভাই ছাড়া কী?' আরশি ঠোঁট কামড়ে ধরে তাকিয়ে আছে আহিরের দিকে। আহিরও সাথে সাথে দৃষ্টি নিক্ষেপ করল আরশির দিকে। সাথে সাথে দৃষ্টি সরিয়ে নিয়ে কিঞ্চিৎ হাসল মেঘলার দিকে তাকিয়ে। তাকিয়ে আছে মেঘলার দিকে অথচ তৃতীয় দৃষ্টি আরশির দিকেই রয়েছে। মেয়েটা প্রায় সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকে কেন? প্রায় কেনো যতক্ষণ সে সামনে থাকে ততক্ষণ তাকিয়ে থাকে। গতকাল সারারাত আহিরের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটেছে এই দৃষ্টির জন্য। মেয়েটা সত্যি খুব ডিস্টার্ব করছে তাকে। ভীষণ ডিস্টার্ব। এমনভাবে তাকিয়ে থাকে আহির সে চাহনি ভুলতে পারে না। সারাক্ষণ তার চোখের সামনে ঐ চোখ দু' টো ভাসতে থাকে। চোখের নিচে হালকা কাজলের প্রলপে চোখ দু'টো ভালোই লাগে দেখতে। মেয়েটির চোখ দু'টো যে সুন্দর তা মাত্রই খেয়াল হলো আহিরের। যে মেয়েটাকে এত বিরক্তিকর মনে হয়েছিল সেই মেয়েটা আবার কখন তার ভাবনায় প্রবেশ করল! মেঘলা তবুও তার বয়সের সাথে যায় কিন্তু আরশি! বয়সের বিশাল একটা গ্যাপ। মেঘলার সাথে বিয়ের কথাবার্তা চলছে অথচ একটাবারও মেঘলা আহিরের ভাবনায় প্রবেশ করতে পারল না। আহিরের মনে কি কখনো মেঘলার নিয়ে কিছু অনুভূতি আসবে না কি বিরক্তিকর মেয়েটাই সারাজীবনের জন্য তার প্রাণস্পর্শী হয়ে থেকে যাবে!
অসম্ভব সুন্দর গল্প
Read all reviews on the Boitoi app
অসম্ভব সুন্দর একটা বই,অনেক সুন্দর করে লিখেছেন। গল্প টা সত্যি সত্যিই প্রান স্পর্শ করেছে
গতানুগতিক রোমান্টিক উপন্যাস
নাম:প্রান স্পর্শী রেটিং :১০ খুব খুব সুন্দর হইছে গল্পটা আরশি আহির এর জন্য খুব ভালো লাগছে কিন্তু মেঘলার জন্য অনেক অনেক খারাপ লাগতেছে ওর সাথে এমন না হইলে ও পারতো তুমি গল্পটায় মেঘলার জীবন বাস্তবতার সাথে অনেক মিল আরশি খুব লাকি মেঘলার মতো বোন পাইছে গল্পটা দারুন হইছে মনে হচ্ছে সব চোখের সামনে বাসতেছে কিন্তু মেঘলার জন্য বেশি খারাপ লাগতেছে 😭😭ভালবাসি আপু
গল্প টা এক কথায় অসাধারণ 🥰🥰🥰🥰
যদিও আমি লেখিকার নতুন পাঠক।" তুমি নামক প্রিয় অসুখ " বই থেকে পড়া শুরু আর এটা দ্বিতীয়। সত্যি বলতে অসাধারণ একটা কাহিনি লিখেছেন মন ছুঁয়ে গেছে। কিছু কিছু অনুভূতি যেমন সুখের ছিল তেমনই শেষের কিছু অনুভূতি খুবই বিষাক্ত ছিল। পড়তে গিয়ে চোখ এমনিতেই ভীজে উঠেছে, কষ্ট হয়েছে, যন্ত্রণা দিয়েছে! মনে হয়েছে এমনটা না হলেও পারতো, এতোটা কষ্টও কী কেউ ডিজার্ভ কর? তারপরও প্রাণস্পর্শী এক অসাধারণ লেখেনি। আরশি. চঞ্চল, সহজ-সরল, বোকা একটা মেয়ে। যার জীবনে পরিবার পরিজন আপন বলতে তার মামা.আতিকুল রহমান, মামি. চামেলি বেগম, বোন. মেঘলা। বাবা থেকেও নেই আর মা, সে তো ওই দূর আকাশের তারা। যাকে প্রতি জন্মদিনে ফানুস উড়িয়ে মনের কথা পাঠায়। কিশোরী মেয়ের মনে প্রথম অনুভূির জন্ম, প্রথম ভালোবাসা, ঠিক একইভাবে প্রথম ভালোবাসা হারানোর কষ্ট, প্রথম অনুভূতির মৃত্যু। কিন্তু ভাগ্য বলেও একটা কথা আছে। আরশি ছোট থেকে হারিয়েছে বলে হয়তো জীবনের বড়ো প্রাপ্তিটা সে পেয়েছে। আহির. এর চরিত্রটা চোখে লাগার মতো। আহিরের পার্সোনালিটি খুব ভালো লেগেছে। হুট করেই প্রেমে পড়ার মতো ছিল না আর না আবেগ দিয়ে চিন্তা করেছে। আরশিকে ভালোবাসতেও সে সময় নিয়েছে নিজেকে বুঝেছে। আরশি যখন তাকে নিজের অনুভূতির কথা প্রকাশ করেছে তখন চাইলেই সে আরশিকে মনের কথা বলতে পারতো, কিন্তু সে উল্টা আরশির অনুভুতিকে আবেগের নাম দিয়েছে। আরশিকে নিজের মাঝের পার্থক্য কতোটা তা বুঝিয়েছে। সবসময়ই আরশিকে সে একটা বাচ্চা মেয়েই বলে সম্মোধন করে এসেছে যাতে আরশির প্রতি সহজেই নিজে উইক না হয়ে পড়ে। কিন্তু মন তো আর এতো শাসন বারন শুনবে না। আহিরও পারেনি নিজের মনকে আটকাতে, যেই ছেলের মনে কাউকে নিয়ে অনুভূতির জন্ম নেয়নি শেষে গিয়ে এক বাচ্চা মেয়ের জন্য জন্ম নিয়েছে। যার বোকা বোকা কথায় সে মুগ্ধ হয়েছে, মুগ্ধ হয়েছে তার আলতা রাঙা পা দেখে! বিমোহিত হয়েছে তার নূপুরের রিনঝিন শব্দের ঝংকারে। মেঘলার প্রতি তার বন্ধুত্ব পূর্ণ সূলভটাও চমৎকার ছিল। মেঘলাকে যা বলেছে সরাসরি বলেছে কোন লুকোচুরি ছিল না। আহিরের এই কিছু বিষয়গুলো অনেক ভালো লেগেছে। মেঘলা. চমৎকার একটা চরিত্র। অসাধরণ একটা মেয়ে। আরশির জন্য তার ভালোবাসা ছিল নিস্বার্থ। নিজের রক্তের বোনকেও হয়তো সবাই এমন করে ভালোবাসে না যেমনটা মেঘলা আরশিকে বেসেছে। নিজেকে সবসময় আরশির জন্য নিয়জিত রেখেছে। আরশির খুশিটাই মেঘলার জন্য আগে ছিল। কিন্তু মেঘলার সাথে যা হয়েছে সেই ব্যাপারটা মেনে নিতে কষ্ট হয়েছে। মেঘলার জীবনটা কেমন মেঘের আধারেই ঢেকে গেলো। আতিকুর রহমান. এই মানুষটার চরিত্রটাও খুব ভালো লেগেছে। মেয়ে আর ভাগ্নিকে সে আলাদা চোখে দেখেনি আর না কোন ভেদাভেদ করেছে। আহিরকে নিয়ে তার কখনোই মাথা ব্যথা ছিল না। মেঘলা যখন বলেছে সমস্যা কি তেমন কিছু হলে ওদের বিয়ে দিয়ে দিবে, এই কথাতে চামেলি বেগম রিয়েক্ট করেছে কিন্তু তার মাঝে এসব নিয়ে কোন ভাবান্তর দেখা যায়নি। তার কাছে মেঘলার খুশি যতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল আরশির খুশিটাও ততোটাই গুরুত্বপূর্ণ ছিল! এই ব্যাপারটা খুব ভালো লেগেছে। চামেলি বেগম. তাকে খারাপ বা স্বার্থপর বলা যায়না। আরশির জন্য তার ভালোবাসাটাও কম ছিল না। কয়জন এমন হয় যারা ননদের মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে চায়, তার দ্বায়িত্ব নিতে চায়! কিন্তু চামেলি বেগম ঠিকই আরশিকে আগলে রেখেছে, তার কষ্টকে অনুভব করেছে, তাকে ভালো রাখারও চেষ্টা করেছে। কিন্তু কথায় আছে না মা মা'ই হয়, মা'য়ের মতো কেউ কোনদিন ভালোবাসতে পারে না! কিছুসময় সন্তানের ভালোর জন্য মা'য়েরাও স্বার্থপরতা করে, নিজের বিবেক, মনুষ্যত্ব হারিয়ে ফেলে। চামেলি বেগমও তাই করেছে আরশির সাথে। মেঘলার কথা চিন্তা করে সেও স্বার্থপর হয়ে গেছে, ভুলে গেছে আরশিও তারই মেয়ের মতোই। ছোট থেকে কোন কিছুতেই সে মেঘলা আর আরশিকে এক করেনি কিন্তু মেঘলার জীবনের বড় একটা সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে সে ভুল করে ফেলেছে। একটা অসহায় মা হারা মেয়েকে কষ্ট দিয়ে বসেছে। কিন্তু যেই মেঘলার খুশির জন্য এতো আয়োজন সেই কিন্তু শেষে দুঃখের সাগর পড়ে গেলো।ভাগ্য কখন কাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়ে দেয় তা মানুষ কখনোই বলতে পারে না। আরাফের জন্যও খারাপ লেখা লেগেছে। একটা মানুষ ভালোবেসে গেছে কিন্তু নিজের সেই ভালোবাসার মানুষটাকে নিজের জীবনের শেষ সময় এসে হারিয়ে ফেলেছে। সবটা যখন ঠিক হবে ঠিক তখনই জীবনের মোড় ঘুরে গেছে, এমন ভাবে ঘুরেছে চাইলেও আর কোনদিন দু'জন এক হতে পারবে না। কিছু ভালো লাগার লাইন যদিও আরও অনেক আছে। "নারীকে আমি যতটা সম্মান করি আর কোনো জাতিকে এতোটা সম্মান করি না। " "ওহ, আগে বলবেন না, হামাগুড়ি দেয়া বাচ্চা। তাহলে তর্কে জড়াতাম না। " "হোয়াট! এটা আপনাদের বাড়ি? হে আল্লাহ! তুমি আমার সাথেই এমন করলে? আমাকে টেনেটুনে একটা মেন্টাল হাসপিটালে এনে পাঠালে? " "ওফ! আর কত প্যারা দিবি? এই জন্য বিয়ে করছি না। মেয়ে মানুষের এই যন্ত্রণা কে সহ্য করবে। ফটাফট বল।" "সামলাতে হবে না মানে? এই বয়সে প্রেম-ভালোবাসার দারুণ একটা বয়স। আমি যে অফিসের কাজে বিজি থাকব সেটা তো বুঝানো যাবে না। সারাদিন ফোন দেবে। কেটে দিলে দেখা যাবে বাসায় এসে অ্যাটমবোম দেখতে পাব। রেগে আগুন হয়ে থাকবে। আরও নানাবিধি কারণ আছে। " " এদের একটা চুমু দিতেও পারমিশন লাগে, বুঝলা?" সবমিলিয়ে অসাধারণ হয়েছে। এমন আরও লেখা পাবো আশা করছি। ভালোবাসা নিবেন।
বেশ ভালো লেগেছে। প্রাণ স্পর্শ করার মতো গল্প। স্বল্প কিছু চরিত্র নিয়ে কোনো প্যাচ বিহীন গল্প এটা। ভালো লেগেছে। লেখিকা মৌসুমী আপুর জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা!
“আমাদের দেখা হবে মা খুব শিঘ্রই। পৃথিবীতে কেউ আমাকে ভালোবাসে না, মামিও না। মেঘ আপুও আর বাসবে না। আহির বাবুও ঘৃণা করে আমাকে।কেউ আমাকে বুঝল না মা।” আহিরের ভিতর যন্ত্রণায় জর্জরিত হচ্ছে... #আপু অসাধারণ, পুরো পরে আমার চোখে পানি চলে আসছিল... ভালোবাসার মানুষটাকে পেয়ে এভাবে হারালে কতটা কষ্ট,,, পুরো উপন্যাস টা চোখের সামনে ভাসে...
মৌ আপুর গল্পে আমি একদম নতুন পাঠিকা একদমই নতুন বলা যায় রোশন স্যার -সারাহ এই দুই চরিত্র ধারা তার গল্পের সুচনা আমার কিন্তু তার পর ও ওনার পেজে যক্ত হয়ে আমি প্রাণস্পর্শীর অংশ বিশেষ দেখে নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি অনেক আগ্রহ ছিলো কখন পড়ব পড়ার জন্য মন আগ্রহী ছিলো আর আম আমি ও মন কে প্রাধান্য দিয়েছি আর পড়েছি ও পড়ে হতাশ হইনি কারণ নামের সাথে গল্প টা যেন পুরোপুরি জুড়ে আছে পাঠিকা হিসেবে আমার প্রাণ স্পর্শ করেছে।কি ভাবে তা তুলে ধরা যায় আমার তা জানা নেই। যে খানে আহিরের আর্শির প্রতি বিরক্তি দিয়ে শুরু হয়েছিলো সেইখানে সাগর সমান ভালোবাসা দিয়ে শেষ হয়েছে,এক ষোড়শী চঞ্চল তরুণী প্রাণ স্পর্শ করেছিলো এক প্রাপ্ত বয়স্ক যুবকের যার প্রাণ স্পর্শ করতে হাজার হাজার সুন্দরী নারী ব্যার্থ হয়েছিলো সেই খানে এক ষোড়শী কন্যা তার নুপুরের রিনিঝিনি শব্দে তার চঞ্চলতা দিয়ে প্রাণ কে স্পর্শ করতে সক্ষম হয়েছিলো তার আলতা দেওয়া পা ও স্পর্শ করেছিলো সুদর্শন যুবকের প্রাণ। তবে কষ্ট হয়েছে মেঘলার জন্য কষ্ট হয়েছে বললে ভুল হবে অনেক কান্না ও পেয়েছে তার করুন পরিনতি দেখে তার সাথে হয়তো এমন টা না হলে ও পারত।তবে তার মতো বোন পাওয়া যেন ভাগ্যের ব্যাপার যেই খানে মানুষের নিজের বাবা মা না থাকলে সমাজে অবহেলিত হতে হয় সেই খানে আর্শির ছিলো ভালোবেসে আগলে রাখার মতো বোন যার সাথে রক্তের সম্পর্ক না থাকে ও কতটা ভালোবেসে আগলে রেখেছে। তবে গল্পে ভালোবাসার মতো অনেক কিছু ছিলো যেটা না পড়লে হয়তো মিস করে যেতাম তবে আমি মিস হওয়ার সুযোগ টা দেইনি আর মৌ আপুর কথা কি বলব তার গল্পের তো তুলনাই হয়না আমার কাছে ভালোলেগেছে আরর্শি আহিরের প্রেমের শেষ মুহুর্ত অনেক সুন্দর যে এতো সুন্দর করে লিখতে জানে তার মন না জানি কত সুন্দর আসলে একজন লেখিকার সৌন্দর্য্য আমরা তার লেখা দিয়েই বিবেচনা করি তার লেখা গল্প হোক বা উপন্যাস আমাদের মনে জায়গায় নিতে পারলে আমাদের তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ভালোবাসা তৈরি হয় আমার ও ঠিক তেমন ভালোবাসা নিবেন আপু। আশা করব সামনে আমাদের জন্য আর ও সুন্দর কিছু রাখবেন
মৌ আপুর গল্প আমি সবসময় পড়ি।মৌ আপু বই ও কিনেছি।বরাবরের মতো প্রাণস্পর্শী গল্পটা খুবই ভালো লেগেছে।গল্পটা পড়ে সত্যি আমার প্রাণস্পর্শ করেছে।আরশি আর আহির দুজনের চরিত্র আমার খুব ভালো লেগেছে। সবাই আরশি আর আহিরের প্রেমে পরেছে কিন্তু আমি একজন মেয়ে হয়ে মেঘলার প্রেমে পড়েছি।আমার কাছে মেঘলার চরিত্রটা সবচেয়ে সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে।ছোট থেকে মেঘলা আরশির পাশে থেকেছে। এই গল্পের সবার চরিত্র খুব ভালো লেগেছে। সবশেষে এটাই বলবো প্রাণস্পর্শী গল্পটা আমার খুব ভালো লেগেছে❤️❤️❤️