

"সম্পর্কের জটিলতা লেখক সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত অতসীর পদক্ষেপ ছিল বেশ সাহসী। পরমবাবুর জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে। সুজয়দা কে বোকা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সে আদতে বোকা নয়। প্রথমে নিমকির জন্য বেশ খারাপ লাগলেও শেষ পর্যন্ত বুঝলাম যে সে সবকিছুই জানতো তবুও সুজয়দা কে ভালোবেসেছে। গল্পের একপর্যায়ে চেয়েছি যে সুজয়দার সাথে নিমকির বিয়েই হোক। তবে শেষ পর্যন্ত পড়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে বেশ কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু গল্পের শেষে নিমকির কথা অনুযায়ী বোঝা যায় যে অতনু হয়তো সুজয়দার সন্তান কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব। আর তবে নিমকি এমন কথা বললই বা কেন আর সুজয় এত চমকালই বা কেন। জায়গাটা কিছুটা খটকা লাগছিলো। কিন্তু অতসী তার কাজের জন্য নিজেকে নিজে শাস্তি দিলেও সুজয়দা কি আদৌ অপরাধবোধে ভুগেছিল? মনে হয় না কারণ সে তো বোকা মানুষ। তবে এখানে মনস্তাত্তিক ব্যাপার বেশ স্পষ্ট ছিল। সব মিলিয়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে।"
উঠানে যখন আর কেউ নেই, খালি সুজয়দা একা অতনুকে কোলে নিয়ে হাঁটছে, তখন অতসী চুপিচুপি সন্ধ্যাকালের অন্ধকারে সুজয়দার সামনে এসে দাঁড়ায়। মৃদু আওয়াজে কঠিন ভাষায় বলে, “আপনার পিঠে মেরুদণ্ড নেই সুজয়দা? নিজে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না?'' অকস্মাৎ অতসীকে দেখে এবং ওর মুখে ওরকম চড়া কথা শুনে সুজয় থতোমতো খেয়ে যায়। কাচুমাচু করে বলে, “কেন, কী হয়েছে?'' “আপনি আর কতকাল মানুষের কথায় উঠবেন আর বসবেন বলুন তো? নিজে একটু চালাক-চতুর হয়ে চলতে পারেন না?'' “আমি বোকামির কী করলাম আবার?'' সুজয় বিব্রতবোধ করে। “আপনার রুচিতে বাঁধে না আমার মতো রাঁড়ি মেয়েকে বিবাহ করতে? আমি যে অন্যের উচ্ছিষ্টা, সে কথা কি আপনি জানেন না?'' অবাক বনে যায় সুজয়। অপলকে চেয়ে থাকে। “একটা মানুষ বোকা হতে পারে, কিন্তু মাথার ভিতর অন্তত সাধারণ জ্ঞানটুকুও তো থাকা চাই। সারাজীবন কেউ বোকা থাকে? এসময়ে অতনুকে কোলে নিয়ে আপনার আদর আহ্লাদ করা কতখানি লজ্জাজনক ব্যাপার আপনি বোঝেন?'' সুজয় মাথা চুলকায়। কোলের একটি নিষ্পাপ শিশু, তাকে আদর করার মাঝে আবার কীসের লজ্জা-শরম! “খুব বাপ হয়েছেন.. না?'' অতসী সুজয়ের কোল থেকে অতনুকে প্রায় ছিনিয়েই নিল। “পরের ছেলেকে নিয়ে আদিখ্যেতা হচ্ছে! আপনি আর কক্ষনো আমার ছেলেকে কোলে নিবেন না। খবরদার।''] অতসী খুব সাধারণ একটি মেয়ে। গ্রামদেশের মেয়েরা যেভাবে বেড়ে ওঠে তার বেড়ে ওঠাও সেরকম। কৈশোরে তার চোখে ছিল রঙিন চশমা। যা দেখত সবই রঙিন মনে হত। নিজের প্রিয়মানুষটিকে একান্তই নিজের করে পাবার নেশায় সে ছিল বিভোর। কিন্তু সেসময় জীবন তাকে নিয়ে নিষ্ঠুর খেলা খেলে। তাকে তার প্রিয়মানুষের কাছ থেকে এক ঝটকায় বহুদূরে নিয়ে যায়। তারপর তো পেরিয়ে গেল কত সূর্যোদয়, কত রজনীতে ফুটেছে ফিনিকফোটা চাঁদের জোছনা- সময় আর নিয়তি তাকে আবার ফিরিয়ে আনে। জীবন তাকে তার প্রিয়মানুষটিকে একান্তই নিজের করে পাবার সুযোগ করে দেয়। একসময় যাকে কাছে পাবার জন্য তার তরুণী বুকে প্রচণ্ড জ্বালাপোড়া শুরু হত, এখন তার ঘরে যাবার সুযোগ পেয়ে কি অতসী সেইপথে পা বাড়াবে? কে জানে! সে হাঁটতে পারে, কিন্তু তার পায়ে যে প্রচণ্ড ব্যথা। জীবনের সঙ্গে আপোষের, ভালোবাসার সঙ্গে দায়িত্ববোধের তুমুল সংগ্রাম নিয়েই ‘অতসী’ উপন্যাস। একে উপন্যাস না বলে ‘জীবন্যাস' বলাই শ্রেয়। এই জীবন্যাসে বর্ণিত কয়েকটি চৌম্বকীয় উক্তি- * দায়িত্বের হাতে আমরা পুত্তলিকার মতন। ও আমাদের নিয়ে মানুষ-মানুষ খেলে। * সময় বরাবরই প্রতারক। একবার যেটাকে পৃথিবীর সবচাইতে মহৎ একটি কর্ম মনে হয়, বছর না ঘুরতেই সেটাকে কেন অমহৎ দুষ্কর্ম মনে হবে! মানুষের সাথে সময়ের এ কেমন বেঈমানি? * কে বলেছে বুকে কেবল দু'পিণ্ড নরম মাংস আর গর্ভধারণ ক্ষমতা থাকলেই একটি দীঘলকেশী শরীর নারী হয়ে গেল? নারী হতে হলে সবার আগে মায়াধারণ ক্ষমতা থাকা চাই। মায়াহীন কোনো শরীর কখনোই নারী হতে পারে না। * জীবনে কখনো না কখনো একটা সময় আসে, যখন আজীবন নিঃস্বার্থ মানুষটিও স্বার্থপরের মতো অন্যের অসুবিধা না দেখে কড়ায়-গণ্ডায় নিজের বখরা বুঝে নেয়। কিছু-কিছু অনুভূতি আছে যেগুলি অনুভব করার লিপ্সায় অতি বুদ্ধিমান ভদ্দরলোকও রামছাগলের মতো নির্বোধ কাণ্ড করে বসে। সেসময় তাদের মন কোথায় থাকে? কোন পাড়ায় বেড়াতে যায়?
সম্পর্কের জটিলতা লেখক সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন। শেষ পর্যন্ত অতসীর পদক্ষেপ ছিল বেশ সাহসী। পরমবাবুর জন্য সত্যিই খারাপ লাগছে। সুজয়দা কে বোকা হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও সে আদতে বোকা নয়। প্রথমে নিমকির জন্য বেশ খারাপ লাগলেও শেষ পর্যন্ত বুঝলাম যে সে সবকিছুই জানতো তবুও সুজয়দা কে ভালোবেসেছে। গল্পের একপর্যায়ে চেয়েছি যে সুজয়দার সাথে নিমকির বিয়েই হোক। তবে শেষ পর্যন্ত পড়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে বেশ কষ্ট হয়েছিল। কিন্তু গল্পের শেষে নিমকির কথা অনুযায়ী বোঝা যায় যে অতনু হয়তো সুজয়দার সন্তান কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব। আর তবে নিমকি এমন কথা বললই বা কেন আর সুজয় এত চমকালই বা কেন। জায়গাটা কিছুটা খটকা লাগছিলো। কিন্তু অতসী তার কাজের জন্য নিজেকে নিজে শাস্তি দিলেও সুজয়দা কি আদৌ অপরাধবোধে ভুগেছিল? মনে হয় না কারণ সে তো বোকা মানুষ। তবে এখানে মনস্তাত্তিক ব্যাপার বেশ স্পষ্ট ছিল। সব মিলিয়ে আমার বেশ ভালো লেগেছে।
Read all reviews on the Boitoi app
গল্পটা দারুন