

এই কথা শুনার সাথে সাথে ময়নার মাথায় সত্যি সত্যি মৃদ রাগ এসে যায়। হাজার হোক নারীরা কোন অপবাদ সহ্য করতে পারে না তা ময়নাকেও দেখে বুঝা যাচ্ছে। সেই সতী নারী হোক বা অসতী নারী হোক। সতীত্ব বিষয় নিয়ে প্রায় নারী সচেতন থাকে। সতীত্ব ব্যাপার নিয়ে নারীর মনে শৈশব থেকে বিশেষ একটা কাজ করে। তবে বেশি ভাগ নারী খুব কম জানে সতীত্ব জিনিসটা কি?এটা কি খায় নাকি গায়ে দেয়। সতীত্ব হারালেও এক সময় অপবাদ পেতে হবে তা খুব কম নারী জানে।ময়না অপমানিত হয়ে মৃদ রাগের মাথায় বলে, এই সব কি বলো হাসু বু? কিছু তো বুঝতে পারছি না। নিজ স্বামী ছাড়া এই সব আর কারো সাথে হতে পারে নাকি? হঠাৎ হাসুর বুকে ঘুমন্ত মাতৃত্ব জেগে উঠে। হাসুর সামনে যত দৃষ্টি যায় তত অন্ধকার দেখে। হাসুও পাগলের মতো ডাকতে থাকে, খোকা,খোকা,খোকা তোরা কোথায়? খোকাদের মুখে শুধু মা ডাক ছাড়া আর কোন শব্দ নেই। আজ তারা শুধু মাকে চিনে।মা ছাড়া আর কাউকে চিনে না।তারা মাকে শুধু আর্জি জানাচ্ছে, মা,এতো দিন তুমি কোথায় ছিলে?আজ আমাদের রাস্তার ধারে ডুবার জলে বসবাস কেন?দেখ মা,আজ আমরা অনেক বড় হয়েছি।আমাদের একটু কোলে নিয়ে আদর করো।আমাদের পৃথিবীতে আসার পথ থেকে বিদায় দিয়েছ কেন? আমাদের উপর এতো অবিচার কেন? আমরা কি দোষ করেছি?আজ আমাদের জীবনের কোন পরিচয় নেই কেন? আজ যত দোষ সব মায়ের। এরা মাকে ছাড়া আর কিছু চিনে না। মা কি শুধু একা দোষ করতে পারে? মা এতো দোষী হয় কেন? সন্তানদের খাওয়াতে না পারলেও দোষী।পৃথিবীর মুখ দেখাতে না পারলেও দোষী। মায়ের জীবনে এতো কষ্ট কেন? হাসুর বুকে সন্তানদের জন্যে আকুতি। সেই বার বার সন্তানদের ডেকে যাচ্ছে, খোকা তোরা কোথায়? একটু আমার বুকে আয়।তোদের একটু বুকে নিয়ে এই জীবনের সব যন্ত্রণা দূর করি।খোকা তোরা আর আমার সাথে অভিমান করিস না। আমাকে তোরা ক্ষমা করে দিস। মানব জীবনের এক জটিল বিষয় নিয়ে রচিত উপন্যাসটি।বাংলা সাহিত্যের বিশাল এক মাইলফলক। মানব জীবনে শৈশব ও কৈশোর কালের পরে আসে যৌবন কাল। এই যৌবনকালে যুবকেরা কোন পথে ছুটে চলে বেশি?তাদের হাত ধরে ব্যক্তিত্ব,পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র কোন পথে ছুটে যাচ্ছে? একদল যুবক, ময়না ও হাসুর জীবনের মধ্যে দিয়ে পথখানি উঠে এসেছে এই উপন্যাসের ভিতরে।আশা করি বইখানি পাঠ করলে সাহিত্যের সকল রস উপভোগ করা যাবে।

অনেক সুন্দর উপন্যাস
Read all reviews on the Boitoi app
আন্তরিক ধন্যবাদ