

পাড়ায় রূপবতী বলে বিশেষ সুখ্যাতি আছে তিন্নির। কিন্তু শুধু রূপ থাকলে হবে কি, গুণও তো কিছু থাকা চাই! গুণহীনা অলস-অকর্মন্য তিন্নির জন্য যখন কিছুতেই পাত্র পাওয়া যাচ্ছিল না তখন খোঁজ পাওয়া গেল মেহরাবের। ছেলের সব যোগ্যতা আছে শুধু চেহারাটাই যা খারাপ। শুধু খারাপ নয়, একেবারেই খারাপ। কুশ্রী। অতএব আত্ম অহংকারী তিন্নির পছন্দ হলো না তাকে। বিয়েতে মত নেই। তবুও বিয়েটা হলো শেষ অবধি। কিন্তু নতুন সংসারে কিছুতেই মানাতে পারলো না তিন্নি। শুরু হলো নতুন অশান্তি। নানান ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে চলে। সবটা সুন্দর হতে গিয়েও হতে পারে না কোনো এক দুর্ঘটনার কারণে। যা থমকে দেয় জীবনকে। কিন্তু তারপর? গল্পের ইতিতে কি রইলো? রূপকথার গল্পের মতো সুন্দর সমাপ্তি নাকি অন্য কিছু?
"চমৎকার একটি বই। ছোট্ট একটা প্রেমের গল্প। প্রধান চরিত্র তিন্নি-মেহরাব হলেও প্বার্শ চরিত্র মেহরাবের মা মাসুদা কেও ভালোলেগেছে। পড়তে পারেন। হতাশ হবেন না নিশ্চয়ই! ❤️"
মেহেরাব এতো ভালো কেনো আপনি.....
Read all reviews on the Boitoi app
#রিভিউ #বাতাসে_বহিছে_প্রেম (ই-বুক) #মৌরিন_আহমেদ ❝বাতাসে বহিছে প্রেম হৃদয়ে লাগিয়াছে জোয়ার! ভ্রমর গাহিছে গান, ভালোবাসার।❞ ◾নামকরণের স্বার্থকতা: গল্পের নাম গল্পের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে, গল্পটা পড়ার জন্য পাঠকদের আগ্রহী করে তোলে। সুন্দর নামকরণের মাঝেই গল্পের স্বার্থকতা ফুঁটে ওঠে। "বাতাসে বহিছে প্রেম" নামটা শুনলেই কেমন যেনো ভালোলাগা নামক এক অনুভূতির সৃষ্টি হয়! হালাল বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া, অপরিচিত থেকে পরিচিত হওয়া, অপ্রিয় থেকে ভীষণ প্রিয় হওয়া অতঃপর প্রণয়। দীর্ঘ অপেক্ষার শেষে পূর্ণতার সুখ 'আরেফিন' দম্পতির সাথে প্রকৃতিকেও যেনো সুখী করে, প্রেমময় আবহে 'বাতাসে প্রেম বহে'। গল্পটার থিম আর নাম যেনো একে অপরের পরিপূরক। ◾গল্পের পটভুমি: খুব সাধারণ প্লটের একটা গল্প। জনরার দিক দিয়ে রোমান্টিক আর সম্পূর্ণ গল্পটাই বাস্তবতায় ভরপুর। কিছু কিছু মানুষ সুন্দরের পূজারি, মনের নয় বাহ্যিক সৌন্দর্যের পূজারি। বাইরের রূপ টাই তাদের কাছে সব। তারা বুঝে না বাহ্যিক সৌন্দর্যই সব কিছু নয়, মানুষের সৌন্দর্যের বাহক তার ব্যক্তিত্ব রূপ নয়। গল্পটায় এই বিষয় টা খুব সুন্দর ও সাবলীল ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সংসারে বউ শাশুড়ির কিছু চিত্র, তাদের সম্পর্ক খুব সুন্দর ভাবে তুলে ধরা হয়ে। ◾কাহিনী সংক্ষেপ: গল্পের কাহিনী খুব আহামরি কিছু নয়। সাধারণ তবে কিছু তো একটা ছিলো গল্পটায়, যা আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে। রূপবতী মেয়ে তিন্নি। তার কাছে রূপ ই সব। অন্যদিকে রূপহীন এক পুরুষ মেহরাব। সে দেখতে কেমন? তিন্নীর ভাষায় 'আফ্রিকান নিগ্রো' বা 'কাল্লু মিয়া'। তাদের পছন্দ,রুচি, অভ্যাসের অমিল, মনের অমিল। কিন্তু ভাগ্যের ফিরে বাধা পরে হালাল বাঁধনে। এরপর শুরু হয় তাদের পথচলা। এতো অপছন্দের ভীড়ে তাদের একসাথে পথচলা কেমন ছিলো? তিন্নী কি পেরেছিলো রূপহীন মেহরাব কে মেনে নিতে? তাকে ভালোবাসতে? নাকি হুট করে কোন ঝড় এসে সব ধ্বং'স করে দিয়েছিলো? ◾চরিত্র: "বাতাসে বহিছে প্রেম" ছোট একটা গল্প। চরিত্র সংখ্যাও খুব অল্প। তবে সবগুলো চরিত্র নিজ অবস্থানে অনন্য। ▪️মেহরাব আরেফিন: গল্পটায় সবচেয়ে প্রিয় চরিত্র। শান্তশিষ্ট তবে প্রবল আত্মমর্যাদা সম্পন্ন একটা চরিত্র মেহরাব। স্বামী বা সন্তান দুই দিক দিয়েই পার্ফেক্ট একটা চরিত্র। মেহরাব চরিত্রটা যত পড়েছি ততই মুগ্ধ হয়েছি। তিন্নির প্রতি তার ভালোবাসাটা ভীষণ সুন্দর ছিলো। রূপহীন তবে শতগুণে পরিপূর্ণ এক পুরুষ। রূপই কি সব? কই! মেহরাব তো প্রমাণ করে দিলো রূপ ছাড়াও মানুষকে আরো অনেক কিছু দিয়ে বিচার করা যায়। মানুষ রূপে নয় গুণে আর ব্যক্তিত্বে সুন্দর। ▪️তাহারাত আনজুম তিন্নি: ডানপিটে, বেপরোয়া আর রূপের জন্য অহংকারী একটা মেয়ে। পড়ালেখায় ঢেঁড়স আর খানিকটা প্লে-গার্ল। তিন্নির বয়ফ্রেন্ড ঘটিত ঘটনা গুলোতে প্রচুর হাসি পেয়েছে। তিন্নির ব্যাবহারে তার উপর মাঝে মাঝে প্রচুর রাগ উঠতো আর মনে হতো, চটা'স চটা'স করে কয়েকটা থা'প্পর দিতে পারলে শান্তি পেতাম। তবে ভুল করার পর যখন উপলব্ধি করে অনুশোচনায় ভুগতো তখন ভালো লাগতো। 'প্রকৃতির প্রতিশোধ' বলে একটা কথা আছে। প্রকৃতি খুব সুন্দর করে তিন্নিকে বুঝিয়ে দিয়েছে রূপ ই জীবনের সব না। ▪️মাসুদা আরেফিন: শক্ত খোলসে আবৃত নরম মনের একটা চরিত্র। শাশুড়ি হিসেবে হোক বা মা হিসেবে চরিত্রটা ছিলো অমায়িক। উপরে উপরে রাগ ঝাড়তেন আবার নিরবে ভালোবাসতেন। তার পরিণতি টা আমায় প্রচুর কষ্ট দিয়েছে। ▪️তারিন-তাইজুল সাহেব: তিন্নীর বাবা-মা। মেয়ের ভবিষ্যৎ চিন্তায় অতিষ্ট। চরিত্র দুটোও ভালো ছিলো। মেয়েকে সুপাত্রের হাতে তুলে দিয়েছেন। জোর করে বিয়ে দেওয়ার বিষয় টা আমার কাছে একদম ভালো লাগে না। তবে তিন্নি যা সুন্দর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে রেখেছিলো তাতে জোর করে বিয়ে দেওয়া ছাড়া উপায় ও ছিলো। কোন বাবা-মা না চায় মেয়ে সুখে থাকুক? সে ক্ষেত্রে তিন্নির বাবা মায়ের সিদ্ধান্ত আমার খারাপ লাগে নি। তবে তাদের উচিত ছিলো মেয়ে আহ্লাদ দিয়ে মাথায় না তুলে সঠিক সময়ে সঠিক শা'সন করা। ▪️তুর: মিষ্টি একটা চরিত্র। তিন্নির সাথে তুরের খু'ন'শু'টি গুলো দারুণ ছিলো যদিও সেটা অল্প ছিলো। ◾প্রিয় কিছু লাইন, “আচ্ছা এক রাতের ব্যবধানে কি কখনো ভালোবাসা হয়? কে জানে! তবে মায়া হয়। সুতীব্র মায়ায় জড়িয়ে ফেলা যায় কাউকে। সে জন্য এক রাত লাগে না, একটা মুহূর্তই যথেষ্ট।” “রিকশায় উঠলে শাড়ির আঁচল টেনে বসতে হয়। নইলে কাউকে আঁচল গোছানোর অধিকার দিতে হয়!” “কিছু জিনিস শুনে নয় হৃদয় দিয়ে বুঝতে হয়।” “সুখ স্মৃতি ভুলে গেলেও দুঃখের স্মৃতি চির অমলিন হয়ে থাকে।” ◾প্রিয় অংশ: মাথা নাড়িয়ে পা বাড়িয়ে ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়েছিলো তিন্নি। মেহরাবের হঠাৎ কি হলো কে জনে! উঠে এসে ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দিলো মোমবাতিটা। তিন্নি খুব অবাক হলো আবার মেহরাবকে নিজের খুব কাছে আবিষ্কার করে একটু অস্বস্তিও হলো। বুক ধড়ফড় করে ওঠলো। হৃৎপিন্ড নামক যন্ত্রখানা বুকের ভেতর ধুমধাম দামামা বাজাতে লাগলো।লোকটা এমন হুটহাট কাজ করে কেনো? হুটহাট কাছেই বা আসে কেনো? কিন্তু কিছু বলবে তার আগেই মেহরাব ফিসফিস করে বললো, “মোমের আলোয় আপনাকে অনেক বেশি সুন্দর লাগে, তাহারাত। তাই নিভিয়ে দিলাম।” কথাটায় যেন কি ছিলো। সম্মোহিত হয়ে গেলো তিন্নি। বোকার মতো বললো, “তাহলে আলো নেভালেন কেনো? ” “আপনাকে যে ছোঁয়া বারণ!” কথাটা কি হৃদয় ছুঁলো? হুট করে তিন্নির চোখে জল চলে এলো। কেউ এমন করে বলে? অথচ এই লোকটাকে চেয়েও মানিয়ে নিতে পারছেনা সে। নাকি মেনে নিয়েও কোনো বাহানা করছে? করছে কোনো ছল? আচ্ছা, মানুষের মন এতো নিষ্ঠুর কেনো? মোমবাতি নিভিয়ে দিয়ে নিজের জায়গায় ফিরে গেলো মেহরাব। চেয়ারে বসে অনুরোধ করলো, “তাহারাত, আমার পাশে বসবেন?” ◾লেখনী: সহজ, সাবলীল,মার্জিত লেখনি। সুন্দর শব্দচায়ন, গোছানো লেখনি লেখার প্রতি ভালোলাগা বাড়িয়ে দিয়েছে। লেখিকার গল্প গুলো সাধারণ তবে গল্পের মাধুর্যতা, থিম, লেখনি অসাধারণ। ◾ভুলত্রুটি: গল্পটায় তেমন ভুল ত্রুটি চোখে পড়েনি। তবে হাতে গোনা দুই তিনটা বানান ভুল পেয়েছি। ◾পাঠ প্রতিক্রিয়া: অল্প পর্বের ভীষণ মিষ্টি একটা গল্প। ই-বুক টা কিনতে দেরী এক বসায় চট করে পড়ে ফেলতে দেরী হয় নি। ছোট গল্প অথচ রংবেরঙের অনুভূতিতে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোথাও বিরক্ত লাগে নি, কোথাও মনে হয় নি অযথা টেনে বড় করা হয়েছে। গল্পের প্রয়োজনে যতটুকু লেখা দরকার ততটুকুই লেখা হয়েছে। ছোট গল্পের মাধ্যমে কিছু সুন্দর সুন্দর কাহিনী ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সন্তানের জন্য বাবা মায়ের চিন্তা, পারিবারিক বিষয়, বউ শাশুড়ির সম্পর্ক, স্ত্রীর প্রতি স্বামীর ভালোবাসা-যত্ন, ধীরে ধীরে প্রচন্ড অপছন্দনীয় মানুষটার প্রেমে পড়া, নিজের ভুল বুঝতে পারা সবকিছু খুব সুন্দর ভাবে ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটার কথা মনে পরলে এখনো কষ্ট হয়। খুব কি ক্ষ'তি হতো এরকম টা না হলে! সমাপ্তিতে তৃপ্তি পেয়েছি। যে যার কর্মের শা'স্তি পেয়েছে, শিক্ষা পেয়েছে। গল্পের শেষটা বিষাদময় প্রশান্তির ছিলো সাথে মনোমুগ্ধকর কর ছিলো। ভীষণ! ◾ই-বুক সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য: ▪️জনরা: রোমান্টিক ▪️মূল্য:৩০ ▪️পর্ব সংখ্যা: ১৩ ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭১ ব্যক্তিগত রেটিং: ৯/১০। #Ebook_review_of_mourin_ahmed
গল্পে সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে "তাহারাত" নামটি। আর শাশুড়ী মাসুদা আরেফিন কে। আমার মতে শাশুড়ী হিসেবে প্রত্যেককেই তার মতোন হওয়া উচিত। ছেলে বউয়ের সাথে রোজ ঝগড়া হলেও ছেলের কানে না নেওয়ার ব্যাপারটা সেটা আমাকে বিমোহিত করেছে। আর মুগ্ধ হয়েছি "মেহরাব আরেফিন" নামক কালো চামড়ার অধিকারী তিন্নির স্বামীর মায়ের প্রতি ব্যবহারে। গল্পটি আরো একটা বিষয় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেটা হলো, ❝অবহেলায় কোনো কাজ করতে নেই ! ❞ তিন্নি (তাহারাত) অবহেলায় কাজ না করলে মাসুদা আরেফিন আরো ক'টা দিন বেঁচে থাকতেন। কিন্তু যার হায়াত যতটুকু সে ততদিন-ই বাঁচবেন। এই লাইনটা আমার মন ছুঁয়েছে। সবকিছুর পরেও তিন্নিকে মেহরাবের মেনে নেওয়ার যে বিষয় টা সেটা দারুণ। রেটিং: ১০/১০
"বাতাসে বহিছে প্রেম হৃদয়ে লাগিয়াছে জোয়ার ভ্রমর গাইছে গান ভালোবাসার।" গল্পটা মাশাল্লাহ অনেক সুন্দর। একদম ভিন্নধর্মী কাহিনি নিয়ে গল্পটা সাজানো হয়েছে।সত্যি গল্পটা একদম হৃদয় ছুঁয়ে দিয়েছে।আসলেই কি মানুষকে ভালবাসার জন্য তার চেহারা সুন্দর হতে হয় নাকি মন সুন্দর হতে হয়? ★গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেহরাব ও তিন্নি। দুইজন দুই মেরুর বাসিন্দা হয়েও ভাগ্য কিংবা দূর্ভাগ্যবশত দুজনের চলার পথ এক হয়ে যায়।একজন আদর্শ স্বামীর যা যা বিশেষত আছে সবই মেহরাবের মধ্যে বিদ্যমান।স্বামীর কর্তব্য পালনে হরহামেশাই একপায়ে রাজী। কিন্তু তিন্নি? সে কতটুকু যোগ্য মেহরাবের স্ত্রীর হওয়ার?আদও তিন্নি পারবে স্বামী সংসার গুছিয়ে রাখতে?নাকি কোন এক ঝড়ে সব ধ্বংস হয়ে যাবে? গল্পের আরেকটি চরিত্র তিন্নির শ্বাশুড়ি মাসুদা আরফিন।আমার খুবই পছন্দের চরিত্র এটা।চমৎকার মনের অধিকারিণী।বউ শাশুড়ির মধ্যে হাজারটা সমস্যা থাকলেও তিন্নির প্রতি তার কোনপ্রকার ক্ষোভ ছিল না। বরং নিজের মেয়ের মতো ভালোবাসতেন।নিঃসন্দেহে একজন আদর্শ শ্বাশুড়ি ছিলেন মাসুদা আরফিন। ব্যক্তিগত মন্তব্য : একটি ছোট গল্পের মধ্যে একটি অসাধারণ কাহিনী ফুটিয়ে তুলেছেন লিখেকা।ছোট ছোট সাংসারিক বিষয় নিয়ে, পারিবারিক ঝগড়া, ভালোবাসার এক চমকপ্রদ দৃষ্টান্ত তুলে ধরা হয়েছে। শেষের ঘটনাটার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না।একদম লোমহর্ষক ছিল। বাকি সব পারফেক্ট ছিল। ব্যাক্তিগত রেটিং: আমি এই গল্পটাকে ১০/১০ দিব।
মৌরিন আহমেদ পড়ছি এখন।শেষ হতে দেরি নেই।বইটা অসম্ভব ভালো লাগছে!!ভিন্ন ধাঁচের। গড়পড়তা না।বাস্তবতা আছে, মুগ্ধতা আছে!!নায়কের সেই চিরপরিচিত রূপের বর্ণনার বাইরে গিয়ে সুন্দর একটা সম্পর্ক! শাশুড়ি বউমার বাস্তবিক রসায়ন টাও সুন্দর।তিন্নির পরিবারকে মাঝে মাঝে তুলে ধরলে আরেকটু খুশি হতাম।মোদ্দা কথা ই-বুক টা কিনে আমার কিছু কিছু ই-বুকের মতো বাজে অভিজ্ঞতা হয়নি।গল্পের বুনন সুন্দর। আমি অলস মানুষ তাই কমেন্টেই ছোট্ট খাটো রিভিউ দিলাম!!ভালোবাসা নিও লেখিকা আপি!!তোমার চলমান গল্পটাও সুন্দর।কিছু ছোট গল্প পড়েছি সেগুলো ও সুন্দর!!❤️
#বাতাসে_বহিছে_প্রেম "বাতাসে বহিছে প্রেম হৃদয়ে লাগিয়াছে জোয়ার ভ্রমর গাইছে গান ভসলোবাসার।" আচ্ছা একরাতের ব্যবধানে কি কখনো ভালোবাসা হয়? কে জানে? তবে মায়া হয়। সত্যি মায়ায় জড়িয়ে ফেলা যায় কাউকে। সেজন্য একরাত লাগে না, এক মুহূর্তই যথেষ্ট। ★ বহুদিন ইবুক পড়া হয় না। আমি সাধারণত হার্ড কভার পড়তে বেশি স্বাচ্ছন্দ বোধ করি। প্রিয় কিছু লেখকের ইবুক আসছে, তাই কিনতে ঢু মারলাম বইটই এ্যাপে। হঠাৎ চোখে পড়লো মৌরিন আহমেদ এর প্রথম ইবুক "বাতাসে বহিছে প্রেম"। প্রচ্ছদটা ভালো লাগলো তাই একটু পড়লাম। খন্ডাংশটাও আকর্ষণীয় মনে হলো। তারপর চলে গেলাম লেখকের খোঁজ নিতে। সার্চ দিয়ে তার পেইজ পেলাম, সেখানে বেশকিছু ধারাবাহিক আছে একটু একটু পড়লাম। দু একটা ছোটোগল্পও পড়ে দেখলাম। সত্যি বলতে সমসাময়িক সাবলীল লেখা হলেও লেখকের লেখায় একটা টান আছে। পাঠককে গল্পের মধ্যে ধরে রাখে। তারপর কিনে ফেললাম বইটি। ★ গতকাল একটানে শেষ করলাম মাঝারি সাইজের এই ই বুকটি। শব্দসংখ্যা হিসেবে দাম খুবই রিজেনেবল। সহজ কথায় সাবলীলভাবে বর্ননা করা তাই পড়তে আরাম লেগছে। চরিত্রের বিশ্লেষণ সুন্দর ছিলো। ★এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেহরাব ও তিন্নি। দুজন একদমই দুই মেরুর বাসিন্দা। কিন্তু ভাগ্য কিংবা দূর্ভাগ্যক্রমে দুজনের চলার পথ এক হয়ে যায়। স্বামী হিসেবে একজন পুরুষের মধ্যে যা যা গুন থাকা দরকার মেহরাবের মধ্যে তার সবগুলোই বিদ্যমান। কিন্তু তিন্নি? স্ত্রী হিসেবে তিন্নি কতটুকু পার্ফেক্ট? অবুঝ, রাগী, একরোখা তিন্নি কি পারবে মেহরাবের সাথে গুছিয়ে সংসার করতে? হঠাৎ আসা এক ঝড়ে কি ধ্বংস হয়ে যাবে মেহরাব ও তিন্নির বিবাহ বন্ধন? ★ গল্পের আরেকটি চরিত্র আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। তিনি হলেন মেহরাবের মা মাসুদা আরফিন। একজন চমৎকার মনের মানুষ তিনি। সামনাসামনি গড়পত্তা শাশুড়ীদের মতো আচরণ করলেও তিন্নির জন্য সে ছিলেন একজন আদর্শ মা ও শাশুড়ী। ★ ছোটো ছোটো সাংসারিক দৃশ্য, পারিবারিক মেলবন্ধন ও ভালোবাসার এক অন্যরকম দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে গল্পটিতে। ছোটো ছোটো কিছু বানান ও শব্দের হেরফের ছাড়া তেমন ভুল চোখে পড়েনি। তবে শেষটায় তিন্নির প্রতি রাগ ও লাগছে আবার মায়াও। সব মিলিয়ে ভালোই বলব।
মাশাআল্লাহ, অসাধারণ ভিন্নধর্মী একটি গল্প,,,,,পড়ে ভীষণ ভালো লেগেছে,,,,বিশেষ করে মেহেরাব সত্যিকারের বিশুদ্ধ পুরুষ,,,, গল্পের তিন চরিত্র ই তাদের স্বীয় স্বকীয়তা বজায় রাখতে পেরেছে,,, একরাশ শুভকামনা ও ভালোবাসা রইলো 💖💖💖💖
গল্পটা প্রেম ও ভালোবাসার এক অপূর্ব মিলনের। পরিবার, মা, কাজ ও ভালোবাসা সকলকে নিয়ে চলার নামই আসলে জীবন।
চমৎকার একটি বই। ছোট্ট একটা প্রেমের গল্প। প্রধান চরিত্র তিন্নি-মেহরাব হলেও প্বার্শ চরিত্র মেহরাবের মা মাসুদা কেও ভালোলেগেছে। পড়তে পারেন। হতাশ হবেন না নিশ্চয়ই! ❤️