
মগের মুল্লুক না? সোবহান সাহেব রীতিমতো গর্জন করে ঘরে তিনমাত্রার কম্পন সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কয়ে্কটা কৌতূহলী চোখ উঁকি দিয়ে আবার সুট করে সরে গেছে। ‘এটা বাংলা মুল্লুক । শুনেন বিয়ে করার জন্য অনেক খরচাপাতি হয়েছে — বড় যাত্রী ভাড়া করে এনেছি, আলাদা গাড়ি ভাড়া, হ্যানত্যান বহুত হাঙ্গামা গেছে এখন বউ দেন নিয়ে যাই। ‘ ‘তুই তো বেটা সুলতান না! তোকে কেন মেয়ে দিব?আহ্,আজব তো — হইলাম না হয় আজ থেকে আবু সামাদ ক্যাপ্টেন সুলতান। ছোট বেলায় মা আদর করে বলত ‘সুলতান সুলেমান ‘ সে হিসাবে মিথ্যা ও বলি নাই। আর বিমান আমার ট্যাক্সির নাম সে খবর আপনারা নেন নাই দায় তো আপনাদের। আর হাঙ্গামা ভাল্লাগতাসে না। আমার বিয়া করা বউ দেন বগলদাবা করে নিয়ে যাই। ‘ আমি ড্রাইভার বলে তুমি হয়তো আমার পরিচয় দিতে লজ্জা পাবা। তুমি ঢাকা ভার্সিটি থেকে ম্যাথে অনার্স। আমি ও স্টুডেন্ট খারাপ ছিলাম না — একসময় জগন্নাথে দর্শনে পড়তাম। দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার শুরু করল, ‘ সংসারে একমাত্র মা ছিল — তার হলো রাজরোগ। তার দেখাশোনা সংসার চালানো সব করতে গিয়ে আর কিছু হলো না। তবে মানুষটা আমি সৎ এটুকু গ্যারিন্টি দিতে পারি। ভুল তোমার বড় ভাইয়ের, উনি খবর ভালো করে নেননি। যদি নিতেন তাহলে আর তুমি পিছনের সিটে বইসা থাকতা না। ‘ রেণু কিছু বলল না। স্বপ্ন মনে হচ্ছে সবকিছু কিন্তু স্বপ্ন না। ওইতো রাস্তার ধুলা উড়ে এসে চোখে লাগল। চোখটা কড়কড় করছে। ‘ বুঝলা শহরটাই অভাবের এখানে ভাব মাইরা কোন লাভ নাই । পেটে খিদা থাকলে মুখে লজ্জা রাখতে নাই । ‘