
আমার যে সমস্ত জীবনটাই মিথ্যা, এক মিথ্যা কাচের প্রলেপ এর উপর ভর করে আমি এত দিন জীবনকে উপভোগ করেছি। অথচ এটা এমন এক ডুমুরের ফুল যা আমার এত গুলা বছরকে ক্ষনিকের মধ্য অদৃশ্য করে দিয়েছে। আমি ভেসে আছি একটা ছোট মসের উপর। যে কোনো মুহুর্তে ভার সইতে না পেরে সে মস থেকে আমাকে ছিটকে পড়ে যেতে হবে। বারান্দার মেঝেতে হাত পা ছুড়ে বসে আছি আমি। আকাশের চাদটা যেন মেঘের সাথে খুনশুটি করছে৷ কখনো পুরো চাঁদটাই মেঘের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে, কখনো মেঘের গায়ে গা ঘেঁষে নিজেকে করে দেয় ধূসর বর্ণের। কখনো আবার হয়ে যায় অর্ধ চন্দ্র। কখনো কখনো নিজের তিব্র আলোকে আধারে ঢেকে বিবর্ন হয়ে থাকে কিছুক্ষণ। চাঁদটার মত যদি আমি ও এখন মায়ের এই ডায়েরির লেখা গুলোকে ঢেকে দিতে পারতাম আমার জীবন থেকে। আমার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেন দুমড়ে মুচড়ে ক্ষত বিক্ষত হয়ে গেছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত পাচ্ছি আমি। আমার এই এত বড় কষ্টের বোঝা আমাকেই একা বইতে হচ্ছে, এই এমনই এক কষ্ট যা আমার আপন জনকে বলা যায় না, যদিও আমি নিজেই এখন দ্বিধাগ্রস্ত এ আছি, আমার আপন জন কে চিনে নিতে!