

মেয়েটা বাইরের দিকে মুখ করে ট্রেনের দরজার হাতল ধরে অনেকটা সময় দাঁড়িয়ে আছে। এতটা সময় ধরে প্রকৃতি দেখছে! ফেলে আসা ফসলের ক্ষেত, মাঠে গরু ঘাস খাচ্ছে, এছাড়া দেখার মতো ইন্টারেস্টিং কিছু নেই। নাকি অন্য কোন উদ্দেশ্য আছে। হয়তো চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাপ দেওয়ার কথা ভাবছে কিন্তু সাহসে কুলাচ্ছে না বলে পারছে না। মনের মধ্যে আত্মহত্যার ভাবনা থাকলেও দরজার হাতলটা শক্ত করে ধরে রেখেছে। হয়তো মৃত্যুর আগে প্রিয় মানুষ গুলোর চেহারা মনে করছে। এটুকু বয়সে মেয়েটা কেন মরতে চাচ্ছে! কী দুঃখ থাকতে পারে ওর? পারিবারিক কোন সমস্যা? বাবা মা'র বিচ্ছেদ? নাকি প্রেমিক প্রতারণা করেছে! হ্যাঁ, এটাই হবে। আজকালকার মেয়েদের কমন দুঃখ। বয়ফ্রেন্ড চিট করেছে। জীবন দেওয়ার জন্য এই সামান্য ব্যাপারটাই যথেষ্ট। আগে পরে কিছু ভাববে না। এমনকি নিজের বাবা মা বন্ধুদের কথাও না। চলে আসবে সুইসাইড করতে। হয়তো গলায় দড়ি দিয়ে ফ্যানের সাথে ঝুলে যাবে। নয়তো ঘরে ইঁদুর তেলাপোকা মারার ঔষধ পেলে খেয়ে ফেলবে। অনেকে তো আবার স্যাভলন ট্যাভলনও খায়। এই মেয়েটা অনেক ভেবে মোটামুটি ভিন্ন একটা পথ খুঁজে নিয়েছে। চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেবে। ভালোই তো। "এক্সকিউজ মি আপু।" অভ্র মেয়েটির পেছনে এসে দাঁড়িয়ে খুব স্বাভাবিক ভাবেই তাকে ডাকল। সে ভাবছিল ডাকার সাথে সাথে যদি মেয়েটি লাফিয়ে পড়ে তাহলে আর তার কিছু করার থাকবে না। কিন্তু না, মেয়েটি তা করলো না। এখন পর্যন্ত লাফায়নি সে। দীর্ঘ আধ ঘণ্টা ধরে দাঁড়িয়ে থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আরও কতক্ষণ সময় নিবে কে জানে। অভ্র আবার বলল, "হ্যালো আপু! শুনছেন? একটু সাইড দিবেন? বাইরের প্রকৃতিটা দেখতা... পেছনে কোন পুরুষ কন্ঠ পেয়ে চোখ মুছে ঘুরে দাঁড়াল নীতি। মাঝবয়েসী একটা ছেলে। হয়তো তার থেকে দু’য়েক বছরের বড় হবে। চোখে উৎসুক দৃষ্টি। খুব আগ্রহ নিয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করছে। ভেবেছে সে হয়তো সুইসাইড করতে যাচ্ছে। তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় এসেছে। মনে মনে হাসল নীতি। অভ্র লক্ষ করল মেয়েটার চোখের পাপড়ি গুলো জলে ভেজা। কোন মেয়েকে কাঁদতে দেখে পৃথিবীর কোন পুরুষই চোখ ফিরিয়ে নিতে পারে না এটা মনে হয় সত্যি কথা। কান্নারত মেয়েদের একটু বেশিই মায়াবী লাগে। কিছুটা সময়ের জন্য অভ্র এই রহস্যময় চোখ জোড়ার গভীরে নিজেকে হারিয়ে ফেলল। পুরুষের মুগ্ধতার দৃষ্টি মেয়েদের থেকে কে বেশি জানবে? অভ্রর চোখের ভাষা বুঝতে নীতির অসুবিধা হলো না। মনে মনে হাসল সে। অথচ ছেলেটা প্রথম সাক্ষাতেই তাকে আপু বলে সম্মোধন করেছে। হোক সে বয়সে ছোট বা বড়। তা না জেনেই তাকে আপু ডেকেছে। এই চোখজোড়া কিন্তু এখন আপু বলছে না। " সরে দাঁড়ান একটু।" মেয়েটার কন্ঠস্বর অভ্রর কানে মধুর শোনাল। এত কোমলতা, এত নমনীয়তা কারো গলায় থাকতে পারে? অভ্র নিজের মধ্যে ফিরে এলো। ট্রেন,ট্রেনের মানুষ, তার সামনে দাঁড়ানো মেয়েটার অস্তিত্ব টের পেয়ে খানিকটা লজ্জিত হলো। সরে দাঁড়িয়ে নীতিকে যাওয়ার জায়গা করে দিল। ওকে পাশ কাটিয়ে চলে এলো নীতি। নীতি চলে গেলে অভ্র ফোঁস করে দম ফেলল। নিজেকেই বুঝতে পারছে না সে। মানুষ এরকম রহস্যময় হয়! এসেছিল মেয়েটাকে বাঁচাতে, এখন মনে হচ্ছে সে নিজেই ফেঁসে গেছে। সম্পূর্ণ অচেনা একটা মেয়ের উপর পা পিছলে গেছে ওর। "তোর থেকে এটা আশা করা যায় ব্যাটা! তুই মেয়েটার নামটাও জানিস না।" নিজের মাথায় চাপড় মেরে সীটে ফিরে এলো সে। কিন্তু ভাগ্যের কী পরিহাস! তার সামনের সীটেই মেয়েটি বসে আছে।
খুব সুন্দর একটি গল্প। সবচেয়ে ভালো লেগেছে মিষ্টি বন্ধনগুলো। শেষটুকুও ভালো ছিল।
Read all reviews on the Boitoi app
Shesh ta r ektu bhalo hote parto. ❤❤❤
আপু আপনার লেখা আসলেই সুন্দর।
লেখনী তো অবশ্যই সুন্দর, তবে দুই বন্ধুর সম্পর্ক যতটা স্পষ্ট ছিল, দুই বান্ধবীর নিজের কথাগুলো আরেকটু থাকলে পড়তে ভাল লাগত।take care.
সুন্দর সাবলীল লেখা। বন্ধুর জন্য বিচ্ছেদ, বন্ধুর জন্য ভালবাসা কেমম জানতে হলে পড়ুন গল্পটি।
অসাধারণ, আপুর লেখা সবসময়ই ভালো লাগে
গল্পটা আমার কাছে ভালোই লেগেছে তবে আরেকটু বড় হলেও পারতো। কেন জানি মনে হচ্ছে শেষ হয়েও হইলো না শেষ।
the book feels incomplete :")
দারুন একটা গল্প।সবাই এতো ভালো কেনো?????