

মুস্তফা মামুন একজন উঠতি লেখক। এখন পর্যন্ত তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে তার। দু'টি উপন্যাস ও একটি গল্পগ্রন্থ। শেষ উপন্যাস টা হয়েছে বেশ পাঠক নন্দিত। এখন নতুন একটা উপন্যাস লিখছে সে। লেখা প্রায় শেষ। চমৎকার এগিয়েছে গল্প। নিজেদের প্রয়োজনে গল্পের চরিত্ররা নিজেদের মতো করে কথা বলছে, সম্পর্ক তৈরি করেছে আবার সেই সম্পর্ক ভাঙছেও নিজেদের প্রয়োজনেই। মামুনের ধারনা, এসব ক্ষেত্রে আসলে ওর কিছু করার নেই। সে শুধু একটা গল্পের প্লট ঠিক করে লিখতে বসে। তারপর গল্পের চরিত্ররা চলে নিজেদের নিয়মে। নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী। মামুনকে তাদের স্রষ্টা হিসেবে যতটুকু সম্মান দেওয়ার ততটুকুই দেয় তাছাড়া তারা মামুনের ইচ্ছা অনিচ্ছার ধার ধারে না। এই যেমন, এখন যে উপন্যাসটা লিখছে মামুন, সেই উপন্যাসের শেষে নায়িকার নায়ককে খুন করার কথা কিন্তু কোন ভাবেই নায়িকাকে দিয়ে খুন করানো যাচ্ছে না। নায়ক কত শত বার যে খুন হওয়ার মতো অপরাধ করেছে তাও নায়িকা খুন করতে রাজি নয়। খুনের হুমকি দেয়, খুন করার জন্য বটিতে ধার দিয়ে রাখে কিন্তু খুন করে না। অথচ মামুনের দরকার নায়কের মৃত্যু।