
এভাবে বেশ কয়েক দিন হয়ে গেছে। একদিন আমরা ঠিক করেছি। হাইওয়ে একশ-এক ধরে বিচে যাব। প্রশান্ত সাগরের তীরে খুব সুন্দর কয়েকটা ক্যাম্প গ্রাউন্ড আছে, তার কোনো একটাতে রাত কাটানোর ইচ্ছা। আমাদের রওনা হতে হতে দেরি হয়ে গেল। ওয়াশিংটন স্টেটে খুব বৃষ্টি হয়। বাংলাদেশের মতো ঝমঝম বৃষ্টি নয়, প্রায় ঘন কুয়াশার মতো টিপটিপ। বৃষ্টি, আজকেও সে রকম বৃষ্টি শুরু হয়েছে। রাস্তা পিচ্ছিল, ডেভিডের লক্করঝক্কর গাড়ির টায়ার ক্ষয়ে গেছে, কোনো ট্র্যাকশান নেই তাই সে আস্তে আস্তে চালাচ্ছে। হাইওয়ে একশ-এক ধরে পশ্চিমে যাচ্ছি, ম্যাপে দেখার কিছু নেই তবু আমি ম্যাপটা দেখছি। হঠাৎ আবিষ্কার করলাম সামনে একটা রাস্তা দক্ষিণ দিকে বের হয়ে গেছে, নাম কানাগুয়া লেন, সেটা ধরে গেলে প্রায় ষাট মাইল বাঁচিয়ে ফেলা যাবে। আমি ডেভিডকে বললাম, “ডেভিড, শর্টকাট মারতে চাও?” ডেভিড হি হি করে হাসল, বলল, “আমার অভিজ্ঞতা বলে পৃথিবীতে কোনো শর্টকাট নাই। আমি জীবনে যতবার শর্টকাট নিতে গিয়েছি ততবার ধরা খেয়েছি।” আমি বললাম, “ষাট মাইল বাঁচানো যাবে। এই রাস্তায় প্রায় দেড় ঘণ্টা সময়।" ডেভিড বলল, "আমি তোমাকে গ্যারান্টি দিতে পারি দেড় ঘণ্টা বাঁচাতে গিয়ে আমাদের দুই ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে।” আমি বললাম, "ঠিক আছে তাহলে । তুমি ড্রাইভার তুমি ভালো জানো।" ডেভিড বলল, “আমি ভালো জানি না। কিন্তু যেহেতু আমাদের ট্রেন ধরতে হবে না প্লেনও ধরতে হবে না তাই আমার নূতন রাস্তায় চেষ্টা করতে কোনো আপত্তি নেই। যেহেতু ঘুরতেই বের হয়েছি- না হয় আরো দুই ঘণ্টা বেশি ঘুরে ফেললাম, সমস্যা কী?” আমি হাতে কিল দিয়ে বললাম, “এইটাই হচ্ছে আসল কথা।" ডেভিড বলল, "তবে" “তবে কী?” “আমার ম্যাপটা অনেক পুরানো, তাই রাস্তার পাশে কোনো গ্যাস স্টেশন থেকে জেনে নিতে হবে সেই রাস্তা আসলেই আছে কী না।” নাম গ্যাস স্টেশন কিন্তু আসলে সেখানে গ্যাস বিক্রি হয় না। এগুলো পেট্রল পাম্প, আমেরিকাতে পেট্রলকে বলে গ্যাসোলিন, তাই পেট্রল পাম্প হচ্ছে গ্যাস স্টেশন যাই হোক আমরা পরের গ্যাস স্টেশনে থামলাম। ভেতরে বুড়ো মতো একজন লোক বসে আছে। তাকে ম্যাপ দেখিয়ে রাস্তাটা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। সে কেমন অবাক হয়ে আমাদের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, “তোমরা এই কানাগুয়া লেন দিয়ে কেন যেতে চাও?"

এই গল্পটা অনেক ভালো। আমি আলী বলছি। MD Ali Hussain Shyam এটা আমার আইডির নাম।
Read all reviews on the Boitoi app
Khub valo laglo
Hah