
তিনি পা সরিয়ে নিতে গিয়েই টের পেলেন সাপ নয়, সরু রক্তের একটা ধারা বয়ে চলেছে। রক্ত। রক্তটা কোথা থেকে এল? তিনি রক্তের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখেন সেটা এসেছে তার সামনের চেয়ারের তল থেকে যেখানে বসে আছে লোকটি যাকে মতি ধারাল ক্ষুর দিয়ে সেভ করে দিচ্ছে...তিনি ঝট করে মুখ তুলে তাকালেন মতি নামের নাপিতের দিকে। মতির হাতের ক্ষুর রক্তে লাল হয়ে আছে। তখনো টপ টপ করে রক্ত পড়ছে। “স্যার একটা মিসটেক হইছে।” “কি?' কম্পিত গলায় জানতে চান মোতালেব সাহেব। মতি চোখের ইশারায় চেয়ারে বসা লোকটাকে দেখায়। মোতালেব সাহেব তখন উঠে দাঁড়িয়েছেন। তিনি দেখেন চেয়ারে বসা লোকটা হা করে আছে। চোখ দুটো খোলা। তার গলাটা নিপুণভাবে দু ফাক করে কাটা। সেখান থেকেই রক্ত হোস পাইপের মতো নেমে আসছে! প্রায় নিঃশব্দে। “স্যার বেখেয়ালে পোস দিয়া ফেলছি.....” মোতালেব সাহেব প্রচণ্ড ভয় পেলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সেলুন থেকে প্রায় লাফ দিয়ে বাইরে এলেন। তার মনে হল পিছনে তিনি একটা হাসির শব্দ পেলেন। মতিই হেসেছে কিন্তু তার কেন যেন মনে হল গলা কাটা মৃত লোকটিও কি হেসেছে মতির সঙ্গে? দুজন মানুষের হাসির শব্দ শুনতে পেয়েছেন তিনি । ছুটতে ছুটতে এসে যেখানে দাঁড়ালেন সেখানে সেই লোক দুটো তখনো বসে আছে। তাদের হাতে অবশ্য তখন কোনো বিড়ি জ্বলছিল না। তাদের দুজনকে দেখে তিনি যেন সাহস পেলেন। এদেরকে কি বলা উচিৎ ঘটনাটা? একটু আগে মতির দোকানে একটা খুন হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মতিই করেছে। তারাই কথা বলে উঠল। তাদের একজন ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল, “কি স্যার চুল কাটাইলেন না?” “মতি মতি...” তিনি বলার চেষ্টা করলেন ঘটনাটি কিন্তু তার আগেই তাদের একজন বলে উঠল, “মতি গলা কাটছে?” স্তব্ধ হয়ে গেলেন মোতালেব সাহেব। এরা জানল কিভাবে? আর তখনই তিনি খেয়াল করলেন লোক দুটো তার দিকে মাথা তুলে আঙুল দিয়ে তাদের গলার দিকে দেখাল । তিনি হতভম্ব হয়ে দেখেন তাদের দুজনেরও গলা দুটো কাটা। ঠিক সেলুনের লোকটির মতো করে। মোতালেব সাহেবের মনে হল তার পা দুটো দশ মণ ওজন হয়ে মাটিতে যেন গেঁথে গেছে। তার কি হল তিনি দশ মণ ওজনের পা নিয়ে আছড়ে পাছড়ে ছুটতে লাগলেন। কতক্ষণ ছুটেছেন তার খেয়াল নেই। হঠাৎ একটা রিকশা পেলেন। এত রাতেও রিকশা থাকে! “এই রিকশা যাবে?”

Hmm
Read all reviews on the Boitoi app