

খবরের কাগজের স্তূপটা ওলোট-পালোট করে তারিখ দেখে খুঁজতে খুঁজতে শেষে একটা কাগজ বার করে পড়তে লাগলেন হোম্স্। মোরকারের কাউন্টেসের গয়নার বাক্স থেকে, “নীল পদ্মরাগ” নামে একটি মূল্যবান পাথর চুরি করার জন্য জন হর্নার নামে ছাব্বিশ বছর বয়সী এক চিমনি মিস্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। হোটেল কস্মোপলিটনের ওপরতলার পরিচালক জেমস্ রাইডার এই মর্মে এজাহার দিয়েছে যে, চুরির দিন সে হর্নারকে মোরকারের কাউন্টেসের ড্রেসিংরুম দেখিয়ে দিয়েছিল যাতে চুল্লির দু-নম্বর শিকটা সে আঁট করে বসাতে পারেÑশিকটা হঠাৎ আলগা হয়ে গেছিল, কিন্তু পরে অন্যখানে ডাক পড়ায় তাকে চলে যেতে হয়। ফিরে এসে সে দেখে যে হর্নার অদৃশ্য হয়ে গেছে, দেরাজের পাল¯œা ভাঙা ও খোলা, আর ছোট একটা মরক্কো গয়নার বাক্স ড্রেসিং-টেবিলে খোলা পড়ে আছে। পরে জানা যায় যে ওই বাক্সটাতেই কাউন্টেস তাঁর মুণিমুক্তো রাখতেন। রাইডার তৎক্ষণাৎ ভয় পেয়ে বিপদের সংকেত করে আর সেইদিনই সন্ধেবেলায় হর্নারকে পুলিশ ধরে। কিন্তু পাথরটা তার কাছে পাওয়া যায় নি। কাউন্টেসের দাসী ক্যাথারিন কুশাক এই মর্মে সাক্ষী দিয়েছে যে, রাইডার এমন ভীতভাবে চেঁচিয়ে ওঠে যে সে তক্ষুনি ছুটে গিয়ে ঐ ঘরে ঢোকে ঘরের জিনিসপত্র তখন কি অবস্থায় ছিল এ সম্বন্ধে সে যে বর্ণনা দেয় তা রাইডারের এজাহারের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। বি-বিভাগের ইন্সপেক্টার ব্র্যাডস্ট্রিট হর্নারকে গ্রেফতার করা সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছেন তাতে জানা যায় যে হর্নার নাকি গ্রেফতারের সময় প্রচ- ধস্তাধস্তি করেছিল ও উচ্চকণ্ঠে নিজের নির্দোষিতা ঘোষণা করেছিল। চুরির অভিযোগে আগে একবার হর্নার জেল খেটেছিল। এটা জেনে ম্যাজিস্ট্রেট এ সম্বন্ধে তৎক্ষণাৎ কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে তাকে বিচারের জন্যে আদালতে সোপর্দ করেছেন। বিচারের সময় হর্নারের চোখে-মুখে তীব্র মনস্তাপ ফুটে ওঠে। শেষটায় সে অজ্ঞান হয়ে যায় বলে তাকে আদালত থেকে বহন করে নিয়ে যেতে হয়।