

তিয়ানা হাত বাড়িয়ে বাবার চোখের পাতা বন্ধ করে দিলো। রৌদ্রুপ সাহরীফ চোখ খুললেন না। মেয়ের কথায় বন্ধ রাখলেন। সঙ্গে-সঙ্গেই যেন তার মানসপটে স্পষ্ট কিছু দৃশ্য ভেসে উঠল। নৈঋতার পরনে শাড়ি। তার কোমল হাত দুটি শক্ত করে ধরে রৌদ্রুপ সাহরীফ ঝুম বৃষ্টিতে দাঁড়িয়ে আছেন। নৈঋতা হাসছে। উচ্ছলতা নিয়ে কথা বলছে। রৌদ্রুপ সাহরীফ তার ভেজা কপালে চুমু খাচ্ছেন। তার মনে হচ্ছে এসবকিছু এই মুহূর্তেরই ঘটনা। এই তো নৈঋতা তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে। তাকে ছুঁয়ে আছে। কী স্পষ্ট পরিচিত অনুভূতি! কিছু মুহূর্তের জন্য রৌদ্রুপ সাহরীফ পুরোপুরি স্থির হয়ে গেলেন। তিয়ানা আগ্রহী চোখে বাবার মুখের দিকে তাকিয়ে আছে। বাবাকে চুপ দেখে সে শুধাল, “মাকে দেখতে পাচ্ছ বাবা?” রৌদ্রুপ সাহরীফ চোখ মেলে মেয়ের দিকে তাকালেন। তার বৃষ্টিতে ভেজা চোখ জোড়া টকটকে লাল হয়ে উঠেছে। মুখে কেমন আবেগের ছাপ। মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে তিনি অস্পষ্ট কন্ঠে বললেন, “ধন্যবাদ মা।” তিয়ানা আনন্দিত হয়ে বলল, “মাকে কি আনন্দিত দেখেছ বাবা?” “তোমার মা আমার চোখে আনন্দ নিয়েই ধরা দেয়।” “মা এখন আমাদের কাছেই আছে, তাই না বাবা?” “সে সবসময় কাছে থাকে।” “এরপর থেকে তুমি আমার সঙ্গে বৃষ্টিবিলাস করবে, ঠিক আছে বাবা? মা আমাদের দেখে খুশি হবে।” “ঠিক আছে মা।”
♦ অনুভূতি প্রকাশঃ গল্পের নামঃ তারা মেঘ হয়ে আসে লেখকঃ ইলোরা জাহান ঊর্মি পড়ার মাধ্যমঃ বইটই পৃষ্ঠাঃ ৫০ (নিজস্ব বইটই অনুযায়ী) [বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই ইবুকটি পড়ার আগে ‘কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে’ গল্পটি পড়ে নিলে চরিত্রগুলো বুঝতে একটুখানি সুবিধা হবে] এই পৃথিবীতে ভালোবাসা বিষয়টিই অদ্ভুত বলে মনে হয় কেনো যেনো । যখন আসে পৃথিবী উজাড় করে দিয়ে আসে । সবকিছুকে ভীষণ অদ্ভুত বলে মনে হয় যেনো । প্রতিটি ভালোবাসার গল্প আমার কাছে যেন মনে হয় একরাশ সুখের মেঘ । এই মেঘের মতো সুখের সুরে বড় হাপিত্যেশ করে কোথাও একটা গান বাজে যেন, কেউ যেন তার সাথে ভেসে যাওয়ার জন্য লিখে যায় ছন্দ মিলিয়ে রাখার মতো করে কবিতা । সেই কবিতাগুলো অনুভব করতে গিয়ে যখনই আমার মনে পড়ে, কেমন একটা করে উঠি যেন আমি । ভীষণই আবেগে আপ্লুত হয়ে উঠি । মনে হয় যেন প্রতিটি ভালোবাসার গল্পগুলো আলাদা, প্রতিটি চরিত্র আলাদা । যে সুরে জীবনে ভালোবাসা বয়ে যায়, সেই সুরের প্রতিটি মুহূর্ত আলাদা তবু ভালোবাসার গল্পগুলো মনে পড়ার পরে নিঃশ্বাসগুলো একরকম ভাবেই আবেগ ছড়িয়ে যায় কেনো বারবার! কেনো বারবার সুখ, কষ্ট আর বিরহের গল্পগুলোতে অনুভব করার সময়ে একই রকম অনুভূতিগুলো ডানা ঝাপটায়! বোধহয় এই অনুভূতিগুলো একই রকম ভাবে সব আবেগে আবেগতাড়িত করে দেয় বলেই ঘটে । ঠিক নামের জন্য কিনা জানি না, এই গল্পটি পড়ার সময়ই আমার মনে হয়েছিল এই গল্পটি আমার ভালো লাগবে । যতটা ভালো লাগলে জীবনে ভালোবাসাকে কাছের হয়ে আসা নিঃশ্বাস বলে মনে হবে ততটা কাছের বলে মনে হবে । মনে হবে যেন, এই পৃথিবীতে সবই কাছের । কোথাও যেন রাতের আঁধারে অন্ধকারকে বুকে আঁকড়ে ধরে রাখার মতো । সাধারণত কোনো গল্প কিংবা উপন্যাস আমার দৃষ্টিতে পছন্দ বা প্রিয় হয় কিভাবে তার পটভূমিটা বর্ণনা করা হয়েছে , কিভাবে পটভূমিটা সাজানো হয়েছে । ঠিক কতটা গল্পে গভীরতা রাখা হয়েছে । যদিও সব গল্পে গভীরতা থাকে না । কোনো প্রেক্ষাপটে অযাচিত কোনো আবহ এসে গল্পের প্রতি অনুভূতি নষ্ট করে দিয়েছে কিনা । কোনো চরিত্র গঠনে পটভূমিতে কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ এবং ভারসাম্যপূর্ণ রাখা হয়েছে । গল্পের গভীরতায় তা পটভূমিতে সঠিক ভাবে গড়ে তোলা হয়েছে কিনা এসবই কারণ হয়ে দাঁড়ায় । কারণ সব পটভূমিতে গভীরতা সম্পন্ন অনুভূতি কেনো যেন মানিয়ে যায় না । বেশ প্রাণবন্ত আবহ তৈরি করে দেয় না । মূলত লিখনশৈলীতে অদ্ভুত একটা ছাপ রাখার যে সৌন্দর্য, সাজিয়ে তোলার যে চেষ্টা তা বরং কাছের হয়ে যায় বেশি । সেজন্যই কিনা জানি না, গল্পের পটভূমি এবং যে পদ্ধতিতে ওই পটভূমিকে গল্পে ব্যবহার করা হয় সেটা মূলত গল্পকে ভারসাম্য বজায় রেখে তাকে ফুটিয়ে তোলে পাঠকের কাছে । এই গল্পের পটভূমিতে অদ্ভুত ভাবেই আমি দুই রকমের ছাপ পেয়েছি । কোথাও একটা গভীরতা সম্পন্ন জীবনের ছাপ । কোথাও যেন একটা সরলতা মাখা চাহনির দৃষ্টিকোণ । অদ্ভুত ভাবে ঠিক এই দুই রকমের ছাপে ফেলা ধাঁচের জীবন আমার বেশ প্রিয় হয়ে ধরা দিয়েছে । কারণ গল্পের ভারসাম্য রক্ষায় এই আবহ সৃষ্টি করা এবং তা প্রকাশে প্রেক্ষাপটেও সামান্য কিছুটা আবেগতাড়িত করার জন্য যেরকম শব্দচয়ন করার ব্যাপার এসেছে তা বড্ড কাছের হয়ে ধরা দিয়েছে । মূলত এই ধারায় জীবন বজায় রাখতে গেলে, একই সূত্রে গাঁথা রাখতে হলে দারুণ কিছু করার চেষ্টা করতে হয় । না করতে পারলে তখন খুবই খারাপ অনুভব হওয়ার পাশাপাশি গল্পটাও খারাপ লাগার একটা ভয় চলে আসে । অদ্ভুত হলেও সত্যি, এই গল্পে সেই আবহ, আবহ তৈরি করার জন্য আবেগ, কিংবা আবেগ সৃষ্টিতে পটভূমিতে বিচিত্রতা আনার যে চেষ্টা তা দারুণভাবে সাজানো হয়েছে । গিটারিস্ট মশাই এর সাথে বৃষ্টি কন্যার প্রেমের গল্পে মূলত প্রেম এই গল্পে আবেশিত করে দেয় না । কোথাও একটা অনুভব করিয়ে দেয় ভালোবাসার জন্য অদ্ভুত শিক্ষা । এই গল্পের চরিত্র গঠনেও যেন অদ্ভুত কিছু মুহূর্ত এর সাক্ষী । রৌদ্রুপ সাহরীফ চরিত্রটির প্রতি ভীষণ আবেগে ভেসে গিয়েছি আমি । তার চরিত্রটির গঠন, উপস্থিতি এবং কাছে আসা, নিস্তব্ধতা এবং নিঃসঙ্গতা সবই যেন ভীষণ কাছে আসার মতো করে সত্যি । কাছে আসার মতো করে অনুভবের । এছাড়াও তিয়ানা চরিত্রটির মাঝে দারুণ কিছু সংযোগ পাওয়া গিয়েছে । কখনো চরিত্রটি প্রাণোচ্ছল, হাসিখুশি স্বভাবের, মজা করতে ভালোবাসে । কখনো চরিত্রটি গম্ভীর । এই দুইয়ের মিশেলে থাকা মুহূর্তগুলো বেশ ভালো । তাইরান চরিত্রটির গঠনও গল্পের চরিত্র গঠনে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ রাখা হয়েছে । এই পৃথিবীতে ভালোবাসা কেমন একটা মায়া যেন মনে হয় । অপেক্ষা আর ভালোবাসা যখন এক হয়ে দাঁড়ায় তখন পৃথিবীটা ভীষণ অন্যরকম বলে মনে হয় । কারো কাছে ভালোবাসার মানুষের পাশে থাকা সত্যি হয়ে দাঁড়ায়, কারো কাছে বরং তার অনুভব করতে থাকা মুহূর্তগুলোই পাশে থাকা বাস্তব বলে কাছের মনে হয় । এই গল্পের কিছু কিছু অংশের কথা মনে পড়লে যেন মনে হয় আসলেই তা সত্যি । এই পৃথিবীতে মানুষ সত্যিই মেঘ হয়ে আসে । এসে বৃষ্টি হয়ে ঝরে যায়, শুধু স্মৃতিই জমা হয়ে পড়ে থাকে । লেখকের লিখনশৈলী বেশ দারুণ । তার গল্প বলার প্রক্রিয়া এবং আয়োজন করে গল্প সাজিয়ে তোলা এবং ফুটিয়ে তোলার যে চেষ্টা তা দারুণ । সামান্য খানিকটা গভীরতা সম্পন্ন ছাপ রাখার চেষ্টাও করা হয় । এই গল্পেও সামান্য কিছু তা করা হয়েছে । শব্দচয়ন এবং ভালোবাসার গল্পে সংলাপে আবেগ তৈরি করতে কাব্যিক যে অনুভব তা পূর্ণ করতে যে চেষ্টা তাও বেশ ভালো ছিল । তবে বানান ভুল এর দিকে সামান্য নজর রাখা জরুরি । এই গল্পেও বেশ কিছু বানান ভুল হয়েছে । চরিত্রের নামেই বানান ভুল ছিল । রেটিংঃ ৪.৭/৫
Read all reviews on the Boitoi app
সত্যিই অসাধারণ ছিলো। স্পেশালি.... "মানুষ এমনি। তারা মেঘ হয়ে আসে, বৃষ্টি হয়ে ঝরে যায়। রেখে যায় কেবল ভেজা স্মৃতিগুলো।" তবে নৈঋতা কে খুবই মিস করেছি। ভালোবাসা.....