

রক্ত স্রোতের মাঝে বসে আছে এক উদাস রমনী। শরীর বেয়ে রক্তের বন্যা বইছে অথচ চোয়ালে ব্যাথার আভা নেই লেশমাত্র। উদ্ধিগ্ন নেত্রে নির্বিকার রমণীকে দেখল দীপ্ত। কাছেপাশে বসে বলল, " চলো আমরা বিয়ে করে ফেলি!" রমনী চোখ মেলল। এই রক্তডুবিতে ভেসে কারো মনে বিয়ের সাধ জাগে! এই ছেলেটা এত অদ্ভুত কেন? সে হতাশাগ্রস্ত রক্তিম চাহনিতে চেয়ে বলল, " অসম্ভব। আপনি আমার পিছু ছাড়ুন।" দীপ্ত সৌম্য মুখখানায় হাসি ফুটিয়ে বলল, " নীল কাগজে আমার নামে সই করে পাশে থাকতে দাও, পিছু ছেড়ে দিব।" "কাউকে লাগবে না, আমার ভালো একা থাকাতেই। " বিষন্ন চোখে প্রগাঢ় প্রেমের দৃষ্টি নিবিদ্ধ করে বলল, " লাগবে তোমার আমাকে, আমার তোমাকে। কারণ, তোমার, আমার, আমাদের ভালো একসাথে থাকাতেই। " বিষাদী রমনী প্রচন্ড বিরক্তি নিয়ে বলল, " ভুলে যান।" বিপরীতে সৌম্যপুরুষের চোয়াল কঠিন হলো, "তোমাকে ভোলার ক্ষমতা যদি আমার কাছে থাকতো, তবে আমি কখনো তোমাকে স্মরণই করতাম না।" যেই হৃদয় একবার মরেছে, সেই হৃদয় ভালোবাসার সংস্পর্শে এসে কি পুনর্জীবিত হয়? অবেলায় এসে বেলার সুখে রাঙাতে পারে? এই কঠিন সমীকরণে বেঁধে গেছে দুটো জীবন। বিচ্ছেদের বিরহে নারীমন আর প্রেমের প্রতিক্ষায় থাকা সৌম্যপুরুষ। অতঃপর.....
পুরোপুরি ভালোবাসায় মত্ত হয়ে থাকা এই গল্পে শুধু ভালোবাসাকেই খুঁজে পেয়েছি আমি । পৃথিবী জুড়ে যেন ভালোবাসার অহরহ হাতছানি । ভালোবাসার এই গল্পে যেন মন কেমনের এক সুর । সেই সুরে বসন্তে খেয়াল নামে । ভালোলাগায় আন্দোলিত হয় সবকিছু । এই গল্পের পটভূমিটা বেশ ভালো । পুরোপুরি ভালোবাসার এই গল্পে পটভূমিটা বর্ণনা করা হয়েছেও বেশ সুন্দর করে । বেশ সময় নিয়ে নিয়ে একেকটা প্রেক্ষাপট নিজস্ব স্বকীয়তায় যেন সাজানো হয়েছে । মুহূর্তগুলো যেন ভীষণ কাছের হয়ে তখন ধরা দেয় । প্রেক্ষাপট থেকে দৃশ্যপট গুলোতেও দারুণ এক মুগ্ধতা । বেশ সুন্দর ভাবে গল্পটার দৃশ্যপট এসেছে একে একে । কেমন এক মন কেমনের সুরে পুরো গল্পটি যেন গেঁথে ছিল । একেবারে শেষের মুহূর্তটির দৃশ্যপটে হুট করেই গল্পটা শেষ না হয়ে গেলে বোধহয় বাকিটা সময় গল্পটা বেশ ভারসাম্যপূর্ণ দারুণ ভাবে বয়ে যাচ্ছিল । সাথে অসাধারণ একটা আবহ সৃষ্টি করা হয়েছে পুরোটা গল্প জুড়ে । বেশ অনেকদিন পরে কোনো গল্পের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য আবহ এবং বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করতে ইচ্ছে করছে । দারুণ ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে পুরো গল্পটা । চরিত্র গঠনেও এই গল্পে বেশ সুন্দর কিছু ছাপ রাখা হয়েছে । দীপ্ত চরিত্রটির গঠন অসাধারণ । প্রেম তো অনেকেই করে, কিন্তু ভালোবাসায় কয়জনে পড়ে । ভালোবাসা নামক অদ্ভুত এক বন্ধনে বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা মানুষটিকে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, তার উপস্থিতি আনা হয়েছে তা বেশ দারুণ ছিল । অসাধারণ এক চেষ্টার মাধ্যমে চরিত্রটি গঠন করা যেন । শ্রাবণ চরিত্রের গঠন বোধহয় গঠনগত দিক থেকে এই গল্পের সেরা গঠন । যেভাবে চরিত্রটির প্রতিটি সূক্ষ্ম, সূক্ষ্ম বিষয়ে কাজ করা হয়েছে তা বেশ ভালো ছিল । তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য, জীবনের সমান্তরালে উঠা পড়া, দুঃখ, হাসি, কান্না প্রতিটি মুহূর্ত বেশ সুন্দর ভাবে তৈরি করা হয়েছে । এছাড়াও পার্শ্ব চরিত্রগুলোতেও বেশ দারুণ এক ছাপ তৈরি করা হয়েছে । চরিত্রের গঠন হিসেবে প্রতিটি চরিত্রই বেশ দারুণ চেষ্টা ছিল । শব্দচয়ন, বর্ণনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আবহ সৃষ্টি এই গল্পের সবথেকে প্রিয় বিষয় আমার কাছে । সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম বিষয়গুলো দারুণ ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে যেন । ভালোবাসার মানুষটিকে সুখে রাখার জন্য অধিকারবোধ, কাছে আসা এবং কাছে থাকা, নিঃশ্বাস একসাথে থাকা মুহূর্তগুলো বেশ দারুণ ভাবে ছিল পুরো গল্পজুড়ে । সবকিছু মিলিয়ে বেশ ভালো একটি গল্প ছিল এটি । লেখক আফিয়া খোন্দকার আপ্পিতা এর লিখনশৈলীর কথা মনে পড়লেই আমার মনে পড়ে, বেশ কয়েক বছর আগের কথা । তার একটা গল্প পড়েছিলাম আমি । গল্প পড়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম খুব । গল্পটির নাম, প্রেমোদ্দীপক । এত সুন্দর ছিল ওই গল্পটি যে আমার ভালো লাগায় মন ভেসে গিয়েছিল । সেরকমই এক সুর এই গল্পেও যেন ভেসে এল । লেখকের লিখনশৈলী, পটভূমি বাছাই, গল্পে ভারসাম্যপূর্ণ আবহের তৈরি সব জায়গাতেই দারুণ চেষ্টা ছিল । তবে গল্পে বানান ভুলের দিকে মনোযোগ দেওয়া খুবই জরুরি । একটা সময় পরে যেন মনে হলো, প্রতিটি ছোট ছোট অংশেই বানান ভুলের ছড়াছড়ি । চরিত্রগত বানান ভুল, ‘দীপ্ত’ কখনও ‘দিপ্ত’ কখনোবা কিছু কিছু একইসাথে বানান ভুলে আসলে মনোযোগ ছেড়ে যায় । এত এত বানান ভুল থাকা আসলে কাম্য নয় । ভীষণ হতাশ করে দেয় কোথাও একটা । এগুলো আশা করি, লেখক খেয়াল রাখবে । তার লেখার জন্য শুভকামনা রইলো । রেটিংঃ ৪.৫/৫ (মূলত এই গল্পটিতে রেটিং আরেকটু বাড়তে পারতো, কিন্তু পটভূমিতে শেষের দিকে খানিকটা তাড়াহুড়ো এবং অগণিত বানান ভুলের ছড়াছড়ি রেটিংয়ে ছাপ ফেলেছে ।)
Read all reviews on the Boitoi app
খুব ভালো লাগছে
আমি বইটইয়ে খুব একটা গল্প পড়িনা।কাল রাতে ফেসবুকে ছোট একটা অংশ পড়ার পর থেকে মনে হচ্ছিলো না পড়লে সুন্দর কিছু বাদ পরে যাবে।আসলেই বাদ পরে যেতো।খুবই সুন্দর গল্পটা।এক বসায় শেষ করলাম
দারুণ একটা গল্প! দীপ্ত চরিত্রটা স্বপ্নের মতো!🥰🥰 আহ্! বাস্তবেও যদি এমন দীপ্তরা থাকতো!
ভীষণ মিষ্টি একটা গল্প ছিল।
আজকে সারাদিনে পড়ে শেষ করলাম। দীপ্তর মতো ভালো সবাই বাসতে পারেনা, আর সবার ভাগ্য হয় ও না এমন ভালোবাসা পাওয়ার। খুব সুন্দর আর গোছানো ছিল লিখা। আপুর লিখা সবসময় সুন্দর আর সাবলীল। শেহজা যেন না থেকেও পুরো গল্পটাতে ছিল সবার মাঝে, স্পেশালি শ্রাবণীর মনে। একটা সময় গিয়ে দীপ্তর সবাইকে না মানাতে পেরে ওর হার আর সবাইকে তার মানানোর চেষ্টা, ওর অসহায়ত্ব দেখে কান্না চলে আসছিল। পরে ওর উচ্ছ্বাস আর প্রাপ্তির মুখটা দেখে ততটাই আনন্দ দিয়েছে। শ্রাবণীর ব্যাপারে যত জেনেছি এতো কষ্ট লেগেছে, পাশাপাশি অদ্ভুত অনুভূতিও হয়েছে। গল্পটা পড়ার আগে আমার ধারনার বাহিরে ছিল শ্রাবণী আর দীপ্তর জীবন সম্পর্কে। তাই অবাক হয়েছি ভীষণ। আমি চাইনা ওদের দুজনের ব্যাপারে কিছু বলে স্পয়লার দিতে। স্পেশালি শ্রাবণীর জীবন সম্পর্কে কিছুই বলতে চাইনা। তবে আমি খুব করে চাইছিলাম যে আরেক শেহজা আসুক তার মায়ের দ্বিতীয় পূর্ণতা রূপে। এখান টা একটু পোষেনি মনটা। কেন যেন ওর মায়ের ওর প্রতি ভালোবাসাটা দেখে মনে আশাটা এসেই গেছিল। তবে লেখিকার লিখা ভালো লাগার খাতিরেই লোভী হয়ে গেছি বোধহয়। কেননা গল্পটা শেষ করার মুহূর্তে যেই সুন্দর আর তৃপ্তিকর পরিবেশের আবহ লেখিকা লিখেছে সেই সময় পড়া শেষ করে মনটা আনন্দে আর পরিপূর্ণতায় তৃপ্ত হয়ে ওঠেছে। গল্পটা পড়তে পড়তে কিছু প্রশ্ন বারবার মনে হয়েছে: *আমাদের সমাজের মানুষের ধ্যান-ধারণা কবে বদলাবে? *একটা শিশুর মৃত্যুর কারনে মা কি কখনো দায়ী হতে পারে? মানুষের চিন্তা ভাবনা কবে পরিবর্তন হবে? *কেন শ্বশুর বাড়ির অত্যাচার আজও সমাজের বাস্তব চিত্র? গল্পের প্রতিটি চরিত্র স্ব স্ব জায়গায় দারুন লেগেছে। মনে হয়েছে চরিত্র গুলো যদি নিজেদের এভাবে না রাখত তাহলে গল্পটা সুন্দর করে ফুটে ওঠত না। দীপ্তর বারবার শ্রাবণীকে সামলানো, ওরে ভালোবেসে আগলে রাখা, ওর ভালোবাসার ধরন সবকিছু একটু বেশিই ভালো লেগেছে।
আশ্চর্য পড়া শুরু করলাম পড়তে লাগলাম, পড়তেই থাকলাম আর সমাপ্তি এসে গেলো। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে পুরোটা পড়েছি। ট্রাস্ট মি গল্পটা এত্তো সুন্দর ছিলো।পড়তে পড়তে গল্পের মাঝেই হারিয়ে ছিলাম। দুঃখের সমাপ্তিলগ্নে প্রাপ্তির সুখের সূচনা। সরোবরে সাত পুষ্পের সবচেয়ে বড় পুষ্প হওয়ার পরেও গল্পটা নিয়ে একটা আক্ষেপ রয়েই গেছিলো। ওদের প্রেমটা কেমন ছিলো? বিয়ের পর ওদের জীবন টা কেমন হবে? আরহাম শ্রাবণীর সংসারটা কেমন হবে? এবারে যেনো সবটা পূর্ণতা পেলো। (যদিও বইয়ের গল্পটার সাথে এই গল্পটার পার্থক্য আছে।) সবকিছু কি সুন্দর করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবুও মনে হয় আরো একটু পড়তে পারলে ভালো হতো। প্রাপ্তির সুখের সূচনার পর ওদের সুখময় জীবনের গল্পটা পড়তে মন চাইলো। এরপর ওদের জীবনটা কেমন হবে? ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা পেয়ে সৌম্যপুরুষ দীপ্তর জীবনটা কেমন কাটবে? (দীপ্ত চরিত্রটা একদম মন ছুঁয়ে গেছে। এভাবেও ভালোবাসা যায়!) শ্রাবণী চাওয়াটা কখন পূর্ণতা পাবে? (শ্রাবণীর জন্য খুব খারাপ লেগেছে। শ্রাবণীর কষ্ট, আফসোস, দুঃখ, বিষাদ সবটা প্রচুর কষ্ট দিয়েছে।) কখন শ্রাবণীর মেয়ের জন্য হাহাকার সমাপ্তি পাবে? ইদের সময় ভুঁইয়া বাড়িতে ছেলে ছেলের বউ নিয়ে আনন্দঘন এক পরিবেশ সৃষ্টি হবে? এরপর, এরপর আরো অনেক কিছু।গল্পটা চলতে থাকুক আমি পড়তেই থাকি। মনে হচ্ছে এতোটুকুতেও মন ভরে নি। লেখিকাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ এতো সুন্দর একটা গল্প উপহার দেওয়ার জন্য। লেখিকার লেখনীর ফ্যান তো সেই আগে থেকেই। সবসময়ের জন্য শুভকামনা। গল্পটায় বেশ কয়েক বানান ভুল ছিলো। টাইপিং মিস্টেক টাইপ যেমন যেখানে ছু'রি হবে সেখানে চুরি, ছড়িয়ের জায়গায় চড়িয়ে, দিনের জায়গায় দিকে এরকম আরো কিছু ভুল ছিলো। মুগ্ধতার আবেশ নিয়ে গল্পটা পড়ার সময় এই ভুলগুলো বেশ বিরক্ত করেছে। পরিশেষে: ভুলত্রুটি নিয়েই গল্পটা খুব খুব সুন্দর ছিলো। আমার পাঠক মন আরো পড়তে চাইলেও এতোটুকুতেও তৃপ্ত।