

নিশ্চুপ, নিবার্ক পলকহীন ভাবে চেয়ে রইলাম তার দিকে। মনে ভাবনায় গেঁথে গেল তার অপ্রকাশিত রাখাটা ভালোবাসা। ভালোবাসি না বললেও ভালোবেসে আগলে নেন। তার কথায় অভিমান গুলো পানি হয়ে গেল নিমিষেই। ভালোবেসে জায়গা পেলাম তার বুকপকেটে, উঁহু ভুল! তার মতে মনপকেটে। কভার অংশ: বাবার কর্মস্থল পরিবর্তনের কারনে আমাদের বাসা ও পরিবর্তন করতে হয়। নতুন জায়গা,নতুন পরিবেশের সাথে খাপখায়িয়ে নিতে হয়। আমাদের নতুন বাসাটা তিনতলা ভবন বিশিষ্ট একটি বাড়ি। আমরা থাকি দোতলায়। আমরা আগে যে বাসাতে ছিলাম, সেখানে নিচ তলায় ছিলাম। সেখানে বাসার সামনের অংশটা ঘিরে বেশ বড় অংশ বাগান ছিল। আমার ঘরের জানালা দিয়ে বাগান দেখতে পেতাম। নিচতলায় থাকায় বিকেলের গোধুলীর লগ্ন দেখতে পেতাম, রাতের আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে পেতাম। পড়ার ফাঁকে সময়টা আমার এভাবেই অনায়াসে কেটে যায়। ছোটবেলা থেকে বাগান করা আমার একটা শখের মধ্যে পড়ে। বাড়ির সামনে বাগানটাই আমি মৌসুমি ফুলের চারা রোপন করেছিলাম। প্রতিদিন সকাল এবং বিকেল বেলা নিয়মিত আমার শখের গাছগুলোর পরিচর্যা করতাম। আমার শখের এর মাঝেই ঘটলো এক বিপত্তি! একদিন বিকেল বেলা গাছগুলোতে পানি দিচ্ছিলাম। তখন এক ছেলে বাড়ির সামনে এক গাছে হেলান দিয়ে আমার তাকিয়ে দেখছিলো। ছেলেটার বয়স হবে উনিশ কিংবা বিশ। আমি তাকিয়ে না তাকানোর ভান করলাম। আমি আমার কাজ শেষ করে বাসার ভেতর চলে গেলাম। ছেলেটা আমায় কিছু বলল না, তবে চুপচাপ সেখানেই দাঁড়িয়ে ছিল। সেদিন রাতে আমি পড়তে বসেছিলাম। বই খুলে বসে রয়েছি। তবে পড়ায় পড়ায় মনোযোগ বসছে না। আমি পড়ার টেবিলের সামনে জানালা ছিল। সেই জানালা দিয়ে আমি আমার দৃষ্টি রাতের আকাশের দিকে নিবন্ধ করলাম। রাতের আকাশে পূর্ণিমা চাঁদ আলো ছড়াচ্ছে চারপাশে। তাকিয়ে থাকতে বেশ ভালো লাগছিল। হঠাৎই কারও আসার টোপর পেয়ে বইয়ের দিকে নজর দিলাম। আমার ঘরে কেউ ঢুকতেই পিছম ঘুরে তাকালাম। দেখলাম মা এসেছে। মা আমায় কিছু না বলে আমার সামনে এসে জানালা বন্ধ করে দিল। আমার পাশে দাঁড়িয়ে শাসন সুরে বললেন,,, ' আজকের পর থেকে জানালা খুলা তোমার জন্য নিষিদ্ধ। প্রয়োজন পড়লে দিনের বেলা তাও লাইট অন করে পড়বে। তাও জানালা খুলবে না। আর আজ থেকে বাহিরে যাওয়া ও তোমার চলবে না। তোমার বাগান করার প্রয়োজন নেই। পড়াশোনায় মনোযোগ দাও। আর যেগুলো কথা বলেছি তা যেন থাকে।' বলেই মা চলে গেলেন। আমি বসে গেলাম থব্দ মেরে বসে রইলাম। ছোটবেলা থেকে মায়ের কথার অমান্য হতে পারিনি। আজকেও তার ব্যতিক্রম হলো না। মা হয়তো বিকেলের ঘটনা দেখে ফেলেছেন। তাই হয়তো আমার সাথে এই কাজটা করলেন। মায়ের মুখের উপর কথা বলার এ পর্যন্ত আমার সাহস হয়ে ওঠেনি। তুই চুপ করে সব শুনে গেলাম। মাকে বলতে গেলে আমি যমের মতো ভয় পাই। মা আমাদের দুবোনকে ছোটবেলা থেকে কড়া শাসনে উপর রেখেছেন। বাবাও মাকে ভয় পায়। মা রেগে গেলে বাবার নিজ থেকে একটা কথা বলতে পারেনা। আমার ছোট বোন ঈশাও মায়ের কড়া শাসনের উপর বাধ্য। কি বা করার? আমার না ভাগ্যটাই হয়তো এমন!
গল্পটা জাস্ট অসাধারণ ছিল🌸, এতদিন কিনবো কিনবো করে কিনা হয়নি সময় ও পাই নি পড়ার মতো।তো আজকে সময় পেয়েছি তাই ভাবলাম আমার প্রিয় লেখিকার ই-বুক টা পড়েই ফেলি. আমি দোয়া করি আপু তুমি অনেক দূর এগিয়ে যাও
Read all reviews on the Boitoi app
ইশশশ প্রিয় লেখিকার প্রিয় বই বলে কথা! না পড়ে থাকতে পারি? যখনই জানলাম তার ই-বুক আছে তখনই পড়ে ফেললাম। যদিও দেরি হয়েছে বলে মন খারাপ হয়েছে তবুও পড়ে মনটা একদম ফুরফুরে হয়ে গেলো। কতোদিন ধরে এরকম শান্ত ন্যাকামিবিহীন গল্প খোজছিলাম আর পেয়েও গেলাম। অসাধারণ ছিল পৃথা আর পূর্বর নিরবে নিভৃতে আড়ালের ভালবাসা। মাশাল্লাহ দারুণ একটা গল্প ছিল...