

সারাজীবন শুনে এসেছে, স্যারেরা বৌয়ের সাথে ঝগড়া করে, ছাত্রের খাতায় নম্বর কম দেয়। এই প্রথম দেখলো, ছাত্রের খাতায় নম্বর কম এসেছে বলে কোনো স্যার বৌয়ের সাথে ঝগড়া শুরু করে দিলো! ব্যাপারটা বুঝে আসতেই তাজ্জব হয়ে গেল ফোটন। আশ্চর্য কণ্ঠে বললো, – আপনার ছাত্র কম পেয়েছে এটা আমার দোষ না-কি? আমি কি তাদের বলে এসেছি, তোমরা পড়ো না? জাফর ভয়ঙ্কর রেগে ওর দিকে তাকালো। অসম্ভব ক্রোধে চোখ-মুখ রক্তবর্ণ ধারণ করেছে। সেই লালচে চেহারা, আর ফোলা নাক দেখে ফোটন আরেকবার প্রেমে পড়ল। ইচ্ছে করলো নাকের ডগায় টুপ করে চুমু এঁকে দিতে। কিন্তু বেচারীর সমস্ত সুখ সুখ ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে চেঁচিয়ে উঠলো জাফর, – সবসময় আজেবাজে কথা। যাও বলছি, আমার সামনে থেকে। এক্ষুনি যাও! ব্যস্! ফাটা বেলুনের মতো চুপসে গেল মেয়েটা। মনে মনে ভেংচি কাটলো, – বৌয়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন? ঠিক আছে, অভিশাপ দিচ্ছি। আপনার ছাত্র আরও ফেল করবে। একটা না, পুরো ব্যাচ ফেল করবে। ফেল করতে করতে ওদের জনম যাবে! আর আপনার প্রেস্টিজ জলে ভাসবে! হুহ্! বলেই খেয়াল হলো, একজনের দোষে অন্যজনকে শাস্তি দেয়া কেন? ছি ছি। এসব কি কথা? ধমক দিয়েছে গম্ভীরমুখো মাস্টার আর অভিশাপ দিচ্ছে ভোলাভালা ছাত্রদের? ওদের ফেল করিয়ে দিতে? এ-তো মহা অন্যায়। তৎক্ষণাৎ ফোটনের মনে পড়লো, সেও একবার ফেল করেছিল। কলেজের সান্মাষিক পরীক্ষায় ফেল এসেছিল, তাও তার বাপের সাবজেক্ট ফিজিক্সে! সেই রেজাল্ট শুনে, বাড়ি এসে কি বেদম মারটাই না মেরেছিলেন ফারুক আহমেদ। ভাবলেও গায়ে কাটা দেয়! ভয়ে বুকে ফুঁ দিয়ে তড়িঘড়ি করে নিজের অভিশাপ ফিরিয়ে নিলো ফোটন। আপনমনে বিড়বিড় করলো, – ইসস! এক্ষুনি এই খাটাশ লোকের জন্য কতোবড় একটা পাপ করতে যাচ্ছিলাম! তওবা , তওবা। বদখত লোক একটা!
পুরো গল্পটি ছিল খুবই সাবলীল ভাষায় লেখা যা লেখিকার নান্দনিক লেখনীর পরিচয় দেয়। গল্পের কাহিনীটিও ছিল ভীষন বাস্তববাদী। গল্পের নায়ক সম্পর্কে বলতে গেলে সে ছিল কাঙ্ক্ষিত একজন স্বামী যেমনটা প্রত্যেক নারী তার জীবনে চেয়ে থাকে। একজন স্বামী হিসেবে সে তার স্ত্রীর ইচ্ছের মর্যাদা দিয়েছে। তার স্ত্রীর মাঝে লুকোন লেখিকা সত্বাকে অনুসন্ধান করে সমগ্র জাতির নিকট তুলে ধরেছে। এককথায় অসম্ভব ভালো লেগেছে গল্পটি।
Read all reviews on the Boitoi app
রাত জেগে পড়ে শেষ করেছি। ভালো লেগেছে গল্পটা।এ বছর শুরু হলো এই গল্প দিয়ে।সবাই বাইরে নতুন বছর উপলক্ষে মজা করছিল আর আমি এই গল্প পড়ছিলাম।মনে হয়েছিল ঘটনাগুলো আমার সামনেই ঘটছে।ফোটন নামটা খুব ইউনিক এর আগে শুনিনি।নাম এর মতো ফোটন চরিত্রটিও ইউনিক।
দুষ্টু মিষ্টি ফোটন আর গম্ভীর জাফরের সাধারণ প্লটের মিষ্টি একটা গল্প। রাতের আকাশে তারা গুণতে গুণতে তাদের জোৎস্না বিলাশ আর জাফরের গল্প বলার অংশগুলো ছিলো মন ভালো করার মতো। অভিমানী ফোটনের অভিমান আবার অল্পতেই অভিমান ভেঙে লজ্জা পাওয়ার, খুশি হওয়ার ব্যাপারটা দারুণ ছিলো। জাফরের ফোটনের সাথে সহজ হয়ে ওঠা, ফোটনের স্বামী হওয়ার আগে বন্ধু হওয়ার চেষ্টা আর শেষটায় ফোটনকে না জানিয়েই ফোটনের স্বপ্নপূরণে সাহায্য করা ব্যাপারটা ভীষণ ভালোলেগেছে। মোট কথা গোটা মাস্টার মশাইটাই ছিলো আস্ত এক ভালোলাগা, যদিও একটু গম্ভীর ছিলো আবার ভীষণ রোমান্টিক ও ছিলো। গল্পটায় খুব সুন্দর একটা ম্যাসেজ ছিলো। "আমাদের সবাইকে কেনো ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে? আমরা যে কাজটা করতে ভালোবাসি, যে কাজটাতে নিজেকে খুঁজে পাই, সুখ পাই এবং সে কাজটা যদি হয় ভালো তবে সেটাতেও তো সফলতা অর্জন করা যায়। মনের বিরুদ্ধে গিয়ে আসলে কোনো কাজ করা উচিত না।" মৌরি ফুল!তোমার গল্প গুলো তোমার মতই মিষ্টি আর সুন্দর। মৌরি ফুল, কখনো সময় হলে ফাহমিদা ফাইরুজ এর উত্তম পুরুষে লেখা "কোন গোপনে মন পুড়েছে" গল্পটা একটু লিখে ফেলো তো। আমার তো লেখিকা ফোটনের কাঁচা হাতের লেখা এই গল্পটাও পড়ার ইচ্ছে জাগছে।
এক কথায় অসাধারণ!! ❤️ প্রথমত ফোটন নামটাই আমার খুবই পছন্দ হয়েছে!আর জাফরকে দেখে আমার নিজেরই শিক্ষক বিয়ে করতে ইচ্ছে হচ্ছে!! সাথে অসাধারণ লেখনী... এক চমৎকার সংমিশ্রণ!
জাফর আর ফোটন এর কেমিস্ট্রিটা অসাধারণ ছিল।সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল এই গল্পের ফোটনের লেখক হয়ে উঠাটা!জাফরের সহযোগিতা,অনুপ্রেরণা জাস্ট অসাম ছিল!মৌরিন আপি এভাবেই এগিয়ে যাও!
লেখিকা গল্পের মাধ্যমে আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটা ভুল ধারণাকে সুধরাবার চেষ্টা করেছেন। সেটা হলো, নব বধূকে, বর পক্ষের ভগ্নিপতি বা অন্যান্য পুরুষ আত্মীয়র কোলে চড়িয়ে বাসায় প্রবেশ করানোর ব্যাপার টা, যা আমাদের সমাজে প্রচলিত অন্যতম অনিয়ম গুলোর একটি। তো, গল্পে আমরা দেখতে পাই, জাফরের পরিবারের সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে সে নিজেই ফোটনকে বাসায় প্রবেশ করানোর মাধ্যমে সমাজের একটি অনিয়মকে রোধ করার চেষ্টা করেছেন। গল্পের এই পার্টটিকে পজিটিভলি মার্ক করা যায়। সবশেষে, গল্পের অন্যতম ফানি পার্ট হলো, যখন ফোটন জাফরের অন্ধকার ভীতির কথা মাথায় রেখে, তাকে জব্দ করার জন্য জাফরকে ভেবে ওয়াসরমের লাইট অফ করে দিয়ে, তার শশুর জুলফিকার সাহেবকে বলে, "কি জুলফিকারের পোলা এখন কেমন লাগে?", তখন জুলফিকার সাহেব বলে, " আমি জুলফিকারের পোলা না মা, আমি কুদ্দুসের পোলা, লাইটটা জ্বালায় দেও" 😁! এই পার্ট টা দারুন আপনি হাসতে বাধ্য! যাইহোক, গল্পটা পড়ে ভালো লেগেছে! লেখিকার জন্য শুভকামনা! তার লেখা-লেখির মাধ্যমে সে সফলতার অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাক সেই প্রত্যাশা!
Onk oshadharon hoise boi ta. Amr onk valoi lagche. But prothom e tor expression dekhe vabchilam boita asholei onk beshi romantic hoiche. Jkhn porlam tkhn bujhlam atotao romantic na. Tor bandhubi hishebe eta amr kache onk kom romantic lagche. Asha kori amr demand onujai akta likhe felbi 🙃🙃 Shobshesh etai boli onk valo hoiche boi ta
সাধারণ একটা গল্পকে লেখিকা তার লেখনিতে অসাধারণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।অসম্ভব সুন্দর হইছে। আশা করি এমনি সুন্দর সুন্দর উপন্যাস সামনে আরও পাব
অসম্ভব সুন্দর একটা বই। জাফরের মতোই উচিত সকল স্বামী দের বউয়ের পাশে থাকার। তাদের নিজের যোগ্যতায় যোগ্য করে তুলার।মানুষের মন যখন যেটায় টানে তার সেটাই করা দরকার। জোড় করে হয়না কিছু, ঠিক যেমন ক্যারিয়ার জিনিস টাও জোড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায়না বা হয়না। সামাজিক ভাবেই বাস্তবতার মিলে এতো সুন্দর হয়েছে লেখিকা আপুকে অনেক ধন্যবাদ। আমাদের এতো সুন্দর লেখা উপহার দেওয়ার জন্য। মৌরিন আপুকে অনেক অনেক ভালোবাসা ❤️
আমার খুব ভালো লেগেছে। লেখিকার লেখার ধরন সুন্দর।