

এটা মনে রাখতে হবে যে, আমরা ইসলাম সম্পর্কে যা কিছু গতানুগতিকভাবে জেনে এসেছি তাতে ভুলও থাকতে পারে এবং সন্দেহ নেই যে, অনেক ভুল আছে - ইসলামের অনেক বিষয় নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্যই তার প্রমাণ। সুতরাং ইসলাম-বিরোধীদের কোনো প্রশ্ন যদি যথার্থ হয়ে থাকে তাহলে তাতে প্রমাণিত হবে না যে, ইসলামে ভুল আছে, বরং প্রমাণিত হবে যে, ইসলাম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানে ভুল আছে। অতএব, গভীরভাবে পর্যালোচনা ও গবেষণার ফলে যদি প্রমাণিত হয় যে, আমাদের কোনো ধারণায় ভুল আছে তাহলে অবশ্যই তা শুধরে নিতে হবে; এতে ইসলামের লাভ বৈ ক্ষতি নেই। বিশেষভাবে অত্র গ্রন্থ সম্পর্কে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, অত্র গ্রন্থের লেখাগুলো কিছুটা ভিন্ন আঙ্গিকে লেখার চেষ্টা করেছি অর্থাৎ শেষের লেখাটি ব্যতীত অন্য লেখাগুলো সরাসরি ইসলামের অকাট্য জ্ঞানসূত্রসমূহের দলীলের ভিত্তিতে না লিখে মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতার নির্যাস থেকে এবং ইসলামী চেতনা মর্মমূলে সংমিশ্রিত করে লেখার চেষ্টা করেছি। এ গ্রন্থের লেখাগুলো তৈরী করতে গিয়ে কতক ক্ষেত্রে বিভিন্ন গল্প ও রূপকথারও সাহায্য নিয়েছি এবং সেগুলো গল্প ও রূপকথা হিসেবেই উপস্থাপন করেছি। এ প্রসঙ্গে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, গল্প ও রূপকথা কাল্পনিক বটে তবে তাতে যখন মানুষের জীবনের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় থাকে তখন তা অবশ্যই কল্যাণকর। তাছাড়া অনেক মানুষ নেহায়েত নীরস উপদেশ শুনে শুনে বা পড়ে পড়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, কিন্তু তা-ই যখন কোনো গল্প বা কাহিনীর মধ্য দিয়ে পেশ করা হয় তখন তা গ্রহণ করা তাদের পক্ষে সহজ হয়। হযরত শেখ সা‘দী (র.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ গোলেস্তন্-এর বিভিন্ন অধ্যায়ে এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন; এটাই উক্ত গ্রন্থের বিশ্বব্যাপী বিরাট জনপ্রিয়তার কারণ। অত্র গ্রন্থের কয়েকটি আলোচনা ফার্সী সাহিত্যিক মানুচেহর দনঈর লেখা থেকে গ্রহণ করেছি - যা তিনি ইন্টারনেটে প্রকাশ করেন; এ জন্য আমি তাঁর নিকট বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
