

অত্র গ্রন্থ সম্পর্কে উল্লেখ করা প্রয়োজন মনে করি যে, এ গ্রন্থে প্রধানতঃ সামাজিক নৈতিকতা সংশ্লিষ্ট কতোগুলো প্রবন্ধ সংকলিত করেছি - যেগুলোর বেশীর ভাগই ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়; এগুলো ভাষাগত দিক থেকে পরিমার্জিত করে ও কতক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংযোজন সহ এ গ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত করেছি। অপ্রভাবিত নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গির গ্রন্থাবলীর পাঠকপ্রিয়তা লাভের সম্ভাবনা খুবই কম বিধায় এ ধারায় লিখিত আমার গ্রন্থাবলীর জন্য প্রকাশক পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও যে সত্যে উপনীত হয়েছি পাঠকপ্রিয়তা বা পৃষ্ঠপোষকতা লাভের প্রত্যাশায় তার ব্যাপারে আপোস করা সম্ভব হয় নি। কোনো কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী কিছুটা আপোস করে হলেও সমাজে বিদ্যমান ইসলামী ধারাসমূহের কোনো-না-কোনোটির সহযাত্রী হবার জন্য পরামর্শ দিয়েছিলেন। তাঁদের মতে, একা কিছুই করা যাবে না, তাই বিদ্যমান কোনো ধারার সাথে যুক্ত হলে ইসলামের কিছু-না-কিছু খেদমত করা সম্ভব হবে। তবে আমি মনে করি যে, ফলাফলের চিন্তা না করে আমাকে শুধু আমার দায়িত্ব পালনের জন্য চেষ্টা করতে হবে, তাই কোনো সহযোদ্ধা না পেলে একাই স্রোতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে হবে। বিশেষ করে এ কারণে যে, হযরত রাসূলে আকরাম (ছাঃ) একাই স্রোতের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন এবং এর ফলে এক সময় স্রোত পরিবর্তিত হয়ে গিয়েছিলো। অবশ্য অনেক নবী-রাসূলের (‘আঃ) কাজের ফলে স্রোত পরিবর্তিত হয় নি, কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁরা সফল ছিলেন, কারণ, তাঁরা তাঁদের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। একজন মু’মিনের দায়িত্ব হচ্ছে যে কোনো বিষয়ে সত্যে উপনীত হবার চেষ্টা করা এবং উপনীত সত্য অন্যদের সামনে সাধ্যানুযায়ী তুলে ধরা। আল্লাহ্ তা‘আলা কাউকে কোনো সমাজ বা জনগোষ্ঠীকে পরিবর্তনের জন্য কোনো অপরিহার্য দায়িত্ব দেন নি এবং এ জন্য নিজ ধারণা অনুযায়ী কর্মপন্থা নির্ধারণ করে তার অনুসরণের অনুমতিও দেন নি, বরং সাধ্যানুযায়ী সত্যকে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন। এমনকি তিনি নবী-রাসূলগণ (‘আঃ) সম্পর্কেও বলেছেন যে, তাঁদের ওপর আল্লাহ্ তা‘আলার বাণী পৌঁছে দেয়া ছাড়া কোনো দায়িত্ব নেই। সুতরাং যে সব সুস্থ বিবেক সত্যে উপনীত হতে পেরেছেন তাঁদের উদ্দেশে আবেদন জানাবো যে, পার্থিব সাফল্য-ব্যর্থতার চিন্তা না করে দায়িত্ব পালনে ঝাঁপিয়ে পড়ুন।