

“ঘুমিয়েছো কৃষ্ণময়ী?” নিস্তব্ধ রজনীতে এমন আদুরে ডাকে নড়েচড়ে উঠলো পূর্বাশা। অবশ্য সে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন নয়। শুধুমাত্র চোখ বন্ধ করে বিছানায় পড়ে ছিল এতক্ষন। জায়ানের ডাকে চোখ মেলে তাকালো মেয়েটা। ছোট করে উত্তর দিল, “না।” জায়ান নিজের হাত বাড়িয়ে পূর্বাশার এক হাত মুঠোবন্দী করলো। আবদারের সুরে বলল, “চলো না আজ রাতটা চন্দ্র বিলাসেই পাড়ি দেই আমরা দুজন।” কি নিদারুন আবদার। এই আবদার ফিরিয়ে দেওয়ার সাধ্য আছে নাকি কারো? পূর্বাশাও ফিরিয়ে দিতে পারলো না জায়ানকে। তার হাতে হাত রেখেই উঠে বসলো মেয়েটা। জায়ান চোখে হাসলো। স্ত্রীর হাত ধরে আলতো পায়ে হেঁটে এলো তার কক্ষের সাথে সংযুক্ত ঝুল বারান্দায়। বারান্দার এক পাশে স্থান পাওয়া সুন্দর ঝুলন্ত দোলনায় বসালো পূর্বাশাকে, অতঃপর মেয়েটার হাতে হাত রেখে জায়ানও বসে পড়লো তার পাশে। পূর্বাশা ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো বাহিরের দিকে। আকাশে গোল থালার মতো এক রূপালী চাঁদ জ্বলজ্বল করছে। চারদিকে মুগ্ধতা ছড়িয়ে দিচ্ছে তার মিষ্টি আলোর দ্বারা। পূর্বাশা কিঞ্চিৎ সময় নিয়ে তাকিয়ে রইলো আকাশের পানে। সেদিকে দৃষ্টি রেখেই বলল, “আজকের চাঁদটা ভীষণ সুন্দর।” জায়ান তাকালো না আকাশের পানে। তার দৃষ্টি নিবদ্ধ চাঁদের আলো গায়ে মেখে বসে থাকা পূর্বাশার পানে। চাঁদের আলোয় কি স্নিগ্ধ লাগছে মেয়েটাকে। হতে পারে পূর্বাশা মেয়েটা অসুন্দর কিন্তু জায়ানের দৃষ্টিতে পৃথিবীর সকল নারীদের তুলনায় অধিক সুন্দরী সে। কেন যেন এই মেয়েটা ব্যতীত জায়ানের অন্য কোনো নারীর পানে নজরই যায় না। কি আছে এই মেয়েটার মধ্যে জানা নেই জায়ানের, সে শুধু মাত্র এই টুকু জানে যে এই নারী ব্যতীত তার আর কোনো গতি নেই। দীর্ঘক্ষণ জায়ানকে চুপ করে থাকতে দেখে তার দিকে ফিরে তাকালো পূর্বাশা। আবার বলল, “চাঁদটা সুন্দর না?” ধ্যান ভাঙলো জায়ানের। তবে সে দৃষ্টি ফেরালো না পূর্বাশার দিক থেকে। মেয়েটার পানে দৃষ্টি নিবদ্ধ রেখেই বলল, “আমার কৃষ্ণময়ীর থেকে অধিক নয়।” জায়ানের কথায় ঠোঁট প্রসারিত করে তাচ্ছিল্যের হাসি হাসলো পূর্বাশা। অতঃপর বলল, “কুৎসিত বলে তিরস্কার করছেন?” জায়ান উত্তর দিল না পূর্বাশার কথার, শুধু মাত্র হাসলো একটু খানি। অতঃপর হুট করেই মাথা রাখলো মেয়েটার কাঁধে। মৃদু কন্ঠে বলল, "তুমি যে আকাশের চাঁদের চেয়েও অধিক রূপসী তাই তো আমি তোমার পানে চেয়ে থাকি, আমার চাঁদ বদনী স্নিগ্ধ প্রেয়সী।" ( কলমে : সাদিয়া শওকত বাবলি ) এইটুকু বলে একটু থামলো জায়ান আবার বলল, “তুমি নিজেও জানো না কৃষ্ণময়ী তুমি ঠিক কতটা সুন্দর।” পূর্বাশা যেন আজ অবাক হয়ে যাচ্ছে জায়ানের কথা গুলোতে। জায়ানকে পূর্বাশার সাথে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বিষয়টা নিতান্তই আজ মিথ্যা মনে হচ্ছে। জায়ানের চোখে, কন্ঠে আজ যেন সে অন্য এক অনুভূতির অস্তিত্ব টের পাচ্ছে। তার ধারনা কি সত্যি? তবে কি জায়ান ভালোবাসে তাকে? কিন্তু মন যে মানতে চাইছে না। সে যে বারবার বলছে, “তোর মতো কুৎসিত মেয়েকে কেউ ভালোবাসতে পরে না, কেউ না।” তাছাড়া মাত্র একদিন হয়েছে তাদের বিয়ের বয়স। এর আগে জায়ান না তার সাথে কথা বলেছে আর না কখনও তেমনভাবে দেখেছে তাকে। তাহলে ভালোবাসাটা কিভাবে হবে? হয়তো সবটাই তার ভুল ধারনা। পূর্বাশার ভাবনার মধ্যেই আবার মুখ খুললো জায়ান। মৃদু কন্ঠে বলল, “আমি চলে গেলে তুমি মিস করবে আমাকে?”
আপুর লেখা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। এককথায় অসাধারণ লেগেছে ইবুকটা । বিশেষ করে পূর্বাশার প্রতি জায়ানের নিখুঁত ভালোবাসার দিকটি।
Read all reviews on the Boitoi app
গল্প পড়ে অনেক ভালো লেগেছে, চমৎকার লিখেছেন আপু। ওদের আবার পড়ার ইচ্ছে জাগছে। অসাধারণ ছিলো গল্পটা💗💗
আপনার লেখা আমার অনেক ভালো লাগে।এই গল্পটাও অনেক সুন্দর ছিল।
অনেক সুন্দর হয়েছে
অনেক ভালো লেগেছে
অনেক সুন্দর গল্প টা।মন ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।
গল্পটা অসাধারণ... আমাদের সমাজে কালো মেয়েদের অনেক তিরস্কার শুনতে হয়, তবে এই গল্প একদম ভিন্ন রকমের... খুব ভালো লেগেছে...❤️
অবশেষে ইবুক টা পড়ে শেষ করলাম। আপু লেখা বরাবরই ভীষণ সুন্দর ফেসবুকে যতটা ওদের ভালো লাগছে জায়ান পূর্বাশা কে এখানে এরচেয়ে বেশি ভালো লাগছে। এই জুটি টা ভীষণ ভীষণ সুন্দর। একটা মেয়ের বৈহিক্য সুন্দর যে সবকিছু না তা-ও এই সমাজে কুটুকথা থেকে লাঞ্ছনা অপমান হতে হয় পূর্বাশার মতোই এমন অনেক মেয়ে। সবশেষে বলবো পূর্বাশার সুখের একটা সংসার হলো এটাই গল্পতে সুন্দর।
জাষ্ট অসাধারণ একটা বই,ধন্যবাদ লেখিকা আপু আমাদের সমাজের মানুষের নোংরা মস্তিষ্ক এইভাবে তুলে ধরার জন্য,তবে জায়ান ওর মতো একজন সুন্দর মস্তিষ্কের মানুষ সব কৃষন্ময়ী ওর কপালে জুটুক😍
ইবুক টা দারুন লাগলো আপু । আপনার লেখা পড়তে গিয়ে বরাবরই মুগ্ধ হই .. জায়ানের কৃষ্নময়ী 🖤🫰