

বিশাল বাড়ি, নামী ঘর, গা ভর্তি দামি শাড়ি গয়না, সংসারের কর্তৃত্ব, যাচ্ছেতাই করার স্বাধীনতা, বনেদী ব্যবসায়ে অংশীদারিত্ব, বন্ধুসুলভ শ্বশুরবাড়ি - এতকিছুতেও একটি মেয়ের কেন মন ভরে না। এরপরও কেন মেয়েটি তালাক নেয়? এধরণের সংগত একটি বিয়ের পরে তালাকটি কি অসংগত হয়ে যায় না? পাঠক বলবেন, বইটি পড়ে।
তামান্না আপুর লেখা মানেই বাস্তবধর্মী সাবলীল লেখা। গল্পের প্রতিটি চরিত্র বিন্যাস বরাবরের মতোই ভালো হয়েছে। অবশ্যই সুখপাঠ্য
Read all reviews on the Boitoi app
এক বসায় পড়ে শেষ করলাম এই বইটা।আসলে অনেক সময় আমাদের চোখের দেখার পর ও অদেখা কিছু থেকে থাকে,যা আমরা বুঝতে পারি না। গল্পের সেতু চরিত্রটাও তেমন।তার বাহ্যিক সবকিছু সুখের হলেও পকৃত অর্থে সে সুখী নই।এরকম সেতু আমাদের সমাজে অনেক আছে যে চাইলেও বলতে পারে না তার দুঃখটা কোথায়! গল্পের সেতু সঠিক একটা সিদ্ধান্ত নিতে পারছে,যা চাইলেও অনেক সেতু নিতে পারে না। ভালো লাগলো গল্পটা পড়ে,সাথে সেতুর সিদ্ধান্ত নেওয়াটাও আমার পছন্দ হয়েছে।
অল্প সময়ে চমৎকার একটা উপন্যাস পড়লাম। এক কথায় অসাধারণ। সেতুর মতো উপলব্ধি প্রতিটা মেয়ের হোক। প্রতিটা মেয়ে আত্মসন্মান নিয়ে বেঁচে থাকুক নিজের ভুবনে।
❝আমরা হাতে মারবো না, ভাতে মারবো। ❞ কি খুব অবাক হচ্ছেন, তাই না? বই রিভিউ করতে এসে শেখ মুজিবের ভাষণ কেন বলছি এই ভেবে! অবাক হওয়ারই কথা, তবে "একটি সংগত বিয়ে অসংগত তালাক" বইটি পড়লে এর ব্যাখ্যা পেয়ে যাবেন। এক বছর আটমাস সংসার করার পর সেতু স্বামী সুজনের থেকে তালাক চাচ্ছে। তালাক কেন চাচ্ছে তার আগে একটু সেতুর সংসার সম্পর্কে বলে নেয়া যাক। সেতুর শাশুড়ি নীলিমা চৌধুরী তাকে রাজরানী করে রেখেছে। ছেলের প্রেমের বিয়েতে শুরুতে অমত করলেও পরবর্তীতে সেতুর হাতে সংসারের চাবি পর্যন্ত তুলে দিয়েছেন। সেতুর গা ভর্তি সবসময় থাকে গয়না, দামী শাড়ি। এমনকি শাশুড়ি বেঁচে থাকতেও সংসারের সব দায়িত্ব সেতুকে বুঝিয়ে দিয়েছেন! শ্বশুর নিজামউদ্দিন তো স্ত্রী এবং সন্তানের চেয়েও সেতুকে বেশী বিশ্বাস করেন৷ ব্যবসার গুহ্য কথা, টাকা পয়সার হিসাব, এমনকি গদি ঘরের চাবিটাও সেতুর জিম্মায় রাখেন। কিসের অভাব সেতুর! দেবর-ননদও ভাবীর জন্য পাগল। দেবর সুমন তো প্রথম দিনেই প্রায় সমবয়সী হওয়ায় সেতুকে নিজের বেষ্ট ফ্রেন্ড হওয়ার প্রস্তাব দেয়, তার দেখাদেখি জমজ বোন সামিয়াও সেতুর বেষ্ট ফ্রেন্ড হয়ে যায়। সেতু একবেলা বাসায় গেলে ওরা প্রত্যেকে কয়েকবার ফোন দেয়। সেতুকে যেন চোখে হারায় সবাই! আর স্বামী সুজনের কথা কি বলবো! তার একক পছন্দ এবং জেদের ফলস্বরূপই তো সেতু অত বড় ঘরের বউ হতে পেরেছে। এরপরও সেতু তালাক চায়! ওর কি মাথা খারাপ! আচ্ছা, এইজন্যই কি মানুষ বলে ❝সুখে থাকলে ভূতে কিলায়!❞ বইয়ের শুরুটা পড়ে আমার মাথায়ও ঠিক একই জিনিস ঘুরপাক খাচ্ছিল। অবশ্য এটাই স্বাভাবিক। বই এর চকচকে মলাট দেখে কি আর ভিতরের আনাড়ি কিংবা নোংরা লেখার আভাস পাওয়া যায়! সেতু কিন্তু একদম সুস্থ মস্তিষ্কে স্বাভাবিক চিন্তা-ভাবনা করেই তালাক চেয়েছে। ব্যাপারটা কেমন হ-য-ব-র-ল হয়ে গেলো না? উঁহু মোটেও না৷ সেতু আমাদের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত৷ পাঠক বইটি শেষ করে কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে যাবেন, মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে থাকবেন কি থেকে কি হয়ে গেলো! আমরা সবসময় মানিয়ে নেই, কিন্তু মনে নেই না। সমাজকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বাঁচতেও শিখি না। নিজেকে খুব ছোটো মনে করি। যেমনটা সেতু নিজেকে মনে করতো, অতি সাধারণ। সবশেষে ঘটনার পরিক্রমায় সে এখন বুঝেছে, মোটেই তা না। ওর জীবনে ওই অসামান্যা এবং সবচেয়ে মূল্যবান ও নিজেই। আর তাই যেই বিয়েটা খুবই সংগত ছিল, সেটাকেই একটা অসংগত তালাকে সমাপ্তি টানতে হয়েছে। লেখিকার লেখনশৈলী এবং গভীর ভাবনা এক কথায় আমাকে পরিতৃপ্ত করেছে। আপনারাও চাইলে বইটই অ্যাপস থেকে ই-বুকটি পড়তে পারেন। হ্যাপি রিডিং! ▪️বই: একটি সংগত বিয়ে অসংগত তালাক ▪️লেখায়: ফৌজিয়া খান তামান্না ▪️ধরণ: ই-বুক ▪অধ্যায়: ৯ টি ▪️মূল্য: ৪০ টাকা
একবারে পড়ার মতো চমৎকার একটা গল্প। প্লট ভালো লেগেছে।মূল চরিত্র ঠিকমতো লেখা হয়েছে। পার্শ্বচরিত্ররাও যথাযথ।
বাহ্! সেতুরা এগিয়ে যাক্। সাথে এভাবেই চলুক লেখকের কলম-ও। নিরন্তর শুভকামনা রইল।
বড়োগল্প হিসেবে একটানেই পড়ে ফেললাম। সংসারটা বানোয়াট আর ফাঁসের মতো ছিল সেতুর জন্য। সেটা সময়মতো বুঝে কাটিয়ে বেরোতে পেরেছে সেটা ওর জন্য ভালো। তবে শেষটা আরেকটু লেখা যেত। বেরিয়ে আসার আগে সবাইকে আরেকটু বুঝিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। ওদের শিক্ষা হবে না, তবু পাঠক হিসেবে আমাদের মনে তৃপ্তি পেতাম। সবমিলিয়ে সামাজিক জনরার জন্য পারফেক্ট একটা গল্প। ফৌজিয়া আপুর লেখার সাফল্য কামনা করি।
সামাজিক বাস্তবতার উপর দারুণ লিখেছেন আপু। অনেক ধন্যবাদ।
ভালো লেগেছে। এমনটাই হওয়া উচিৎ
শেষের অংশটা অসমাপ্ত মনে হলো আর কিছু কিছু জায়গায় মনে হয়েছিল সঠিক এবং সরাসরি শব্দটা ব্যবহার করা হয়নি। যেমন শেষে সেতু সুমনকে কি করলো বুঝলাম না। তবে গল্পের প্লট বেশ ইউনিক বলা যায়।