

অতসী ধীরে ধীরে জাদুঘরের দরজার সামনে দাঁড়ায়। মায়ের কিছু পুরনো ছবি আর ডায়েরি নিতে এখানে সে এসেছে। তার ইচ্ছা আগামীকাল সকালে এ বাড়ি থেকে চলে যাবে। তবে একই সাথে তার মন রাজিবের জন্যও পিছু টানে। দোটানা মন নিয়ে একাকী বলে, “মায়ের হত্যার প্রতিশোধ আমি নিতে পারিনি, কারণ এই প্রতিশোধ আমার হাতে লেখা ছিল না। তবে সত্য সামনে আনতে চেয়েছিলাম। আজ সেটা হলো। কিন্তু… রাজিব এতকিছু জানার পর কি সিদ্ধান্ত নেবে? তখন পিছন থেকে ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে রাজিব। তার চোখে জল। ভেজা কণ্ঠে বলে, “আমার পিতা কখনোই আমার গর্ব ছিল না, অতসী। কিন্তু তুমি আজ প্রমাণ করে দিলে, তুমি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য। আমি চাই সব ভুলে আমরা একটা নতুন জীবন শুরু করি। যেখানে কোনো মিথ্যা থাকবে না, কোনো প্রতিশোধ থাকবে না। এখন যদি তুমি আমাকে একা ফেলে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নাও, তাহলে আমার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে।” রাজিবের কথা শুনে অতসীর চোখে জমে ওঠে অশ্রু। রাজিব চুপচাপ অতসীর হাত ধরে। অতসী পরম স্নেহে রাজিবকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলে, “এখানে যত্ন করে আগলে রাখব, থাকবা তো আমার কাছে? আমি বিশ্বাস করি যে তোমার বাবার চরিত্র তুমি তোমার মাঝে ধারণ করোনি। যদি এক অতসীর প্রতি আসক্ত হয়ে থাকতে পারো, তাহলে আমিও তোমায় আগলে রাখতে রাজি।” তখন রাজিব অতসীকে আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বলে, “চুপ, তুমি এখনো আমাকে চিনতে পারোনি। এক অতসীর জন্যই আমি এতগুলো দিন ধরে পাগল ছিলাম, আছি এবং থাকব।” অতসী ব্যাকুল কণ্ঠে বলে, “ভেবেছিলাম কখনো বিয়ে, সংসার করব না। তবে এখন শুধু একটা ঘর চাই। তোমার সাথে সংসার করতে চাই। তাহার আগমনী গান শেষে এবার আমি গাইতে চাই জীবনের গান।”