

শিক্ষালাভের যে উদ্দেশ্য, শেখানোর যে পদ্ধতি তা নিয়ে কথাবার্তা, আলোচনা, লেখালেখি, গবেষনা হয় অনেক কিন্তু দুটি বিষয় থেকে আমরা যেন বেরিয়ে আসতেই পারছিনা। প্রকৃত শিক্ষা শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ের মধ্যে থাকেনা, শিক্ষার্থীরা এর মাধ্যমে প্রকৃত সৃজনশীল হয়না-এটি আমরা বুঝেও বুঝতে চাইনা। দ্বিতীয়টি হচেছ, আমাদের প্রচলিত মূল্যায়ণ পদ্ধতিও একাডেমিক বিষয়টিকেই গুরুত্ব প্রদান করে আসছে কারণ তার উপর নির্ভর করে উচচশিক্ষায় ভর্তি এবং চাকুরি। একজন শিক্ষার্থীর ভেতরের মেধাকে ও সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে পারে এমন কোন উন্নত মূল্যায়ণ পদ্ধতি উচচতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিদাতা সংস্থাগুলো আবিষ্কার করতে পারেনি, যার ফলে প্রকৃত মেধাবী ও সৃজনশীলরা কোথাও মূল্যায়িত হচেছন না। এটি এক ধরণের লার্ণিং ক্রাইসিস। শিশুশিক্ষা থেকে শুরু করে সর্বোচচ পর্যায়ে সবস্তরের শিক্ষাই এখন আনন্দহীন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষায় যে ঘাটতি রয়ে গেছে তা পূরন করতে পারে অপ্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা, শিশুকিশোর সংগঠন, লাইব্রেরি, খেলাধুলা, শিশু কিশোর সাহিত্য পত্রিকা।এ বিষয়গুলো হচেছ লার্ণিং অপরচুনিটি। বহুল আলোচিত 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লব' এবং এর ধনাত্মক ও কতটা ঋণাত্মক প্রভাব নিয়ে আলোচনা রয়েছে বইটিতে। একজন শিক্ষার্থীর ভেতরের মেধাকে ও সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে পারে এমন কোন উন্নত মূল্যায়ণ পদ্ধতি উচচতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও চাকরিদাতা সংস্থাগুলো আবিষ্কার করতে পারেনি, যার ফলে প্রকৃত মেধাবী ও সৃজনশীলরা কোথাও মূল্যায়িত হচেছন না। এটি এক ধরণের 'লার্ণিং ক্রাইসিস।' শিক্ষার্থীদের জন্য নিজেদের গৃহে আনন্দ নেই, আনন্দ নেই বিদ্যালয়েও। ওদিকে ছুটির ঘন্টা বাজতে না বাজতেই তাদেরকে ছুটতে হয় কোচিং সেন্টারে। করতে হয় একটির পর একটি হোমওয়ার্ক, মনে ধারন করে হোমওয়ার্ক না নিয়ে গেলে ক্লাসে শারীরিক কিংবা মানসিক শাস্তি, সবার সামনে কটুক্তি শোনা, শিক্ষকের অস্বাভাববিক ও ভয়ংকর মুখমন্ডল দর্শন। এগুলো সবই নিরানন্দ, অনিরাপদ অবস্থা। অথচ পাঠ্যবইয়ের বাইরে সৃজনশীল ও আনন্দদায়ক বই পাঠ করে, খেলাধুলা ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করে 'লার্ণিং অপরচুনিটি' সৃষ্টি করা যায়। বইটিতে আরো আছে 'চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে'র পজিটিভ ও নেগেটিভ দিকের আলোচনা।
