

ধবধবে সাদা রঙের সূতি সেলোয়ার-কামিজ পরিহিত আহি ব্যস্ত ভঙ্গিতে দুয়ারের সামনে বেরিয়ে এলো। উঠানে আর. এফ. এল.-এর তিনটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে বসা তিনজন ব্যক্তি। একাব্বর মিঞা, তার বউ জমিলা, আর আহির মামা আরফান আলী। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মামি এলেন তিনজনের জন্য পান নিয়ে। একাব্বর মিঞার বউ পান মুখে দিয়ে আহির দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে তাকাল। মাথা দুলিয়ে রহস্যময় হাসতে লাগল মহিলাটি। নানি আহিকে সামনে যেতে বললে সে মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হলো। বুঝে নিল, উনারা ঘটক, ঘটকী। মনের বিরক্তি দীর্ঘশ্বাস রূপে বের করে মৃদু পায়ে এগিয়ে গেল। মিষ্টি সুরে সালাম দিল ওদের, - আসসালামু আলাইকুম। সে নিশ্চিত ছিল, এরা তার জন্য কোনো না কোনো সম্বন্ধ নিয়ে এসেছে। কিন্তু কার সম্বন্ধ, সে সম্পর্কে জানত না। ধারণার বাইরে ছিল যে, ছিল অবিশ্বাস্যও। সালামের জবাব ফিরিয়ে একাব্বর মিঞা বললেন, - মাশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ, এ তো দেখি সত্যিই হুরপরী। তার বউ আহির রূপে মুগ্ধ হয়ে গালে হাত রাখলেন। বললেন, - হেগো মেয়ে তো দেখি শান্তিনগর না রূপনগরের অধীশ্বরী। তালুকদারের পোলার চোখ আছে জমিলা। খ্যাঁকিয়ে হেসে কথাটা বললেন একাব্বর। পানের পিক ফেলে জমিলা ওঠে দাঁড়ালেন। আহির সামনে এসে চিবুক ছুঁয়ে বললেন, - আ লো মেয়ে, কোন বাড়ি থিকা তোর সম্বন্ধ আনছি জানোস? বিরাট বড়োলোক। ঢাকায় বিরাট ব্যবসা, হুনছি বিদেশতেও ব্যবসা আছে। তালুকদার বাড়ির বড়ো পোলায় তোর রূপে পিছিলা পড়ছে ছ্যাঁড়ি, হেই খবর শুনছস? পোলার মায় কাইল আমারে লোক পাঠাইয়া নিয়া গেছিল শহরতে। কী বিশাল বাড়ি! এত কালান খালি হুনছিই। কাইল যাইয়া দুইডা চক্ষে দেইখাও আইলাম। কী ভাগ্যরে তোর কী ভাগ্য! তোর কপাল ধুইয়া গেলাসে গেলাসে হগ্গলের পানি খাওন উচিত। আ লো পাপ্পুর মাও, ছ্যাঁড়ির ভাগ্য যে খপ কইরা খুইলা গেছে। ছুনের ঘরে শেষা-মেষা এসি আইতাছে গো। জমিলা তার বিস্তর বর্ণনা শেষ করে আহির বা পাশের ভূমিতে পিক ফেললেন। একাব্বর মিঞা খ্যাঁকখ্যাঁক করে কেশে বললেন, - ছুনের ঘরে তো এসি আইবই জমিলা। গোবরে যদি পদ্ম ফুটতে পারে ছুনের ঘরে এসি আইব না ক্যাঁ। গেদির শইল থিকা তো দেহি রূপ খইসা খইসা পড়তাছে। বক্ষগহ্বর, মগজ উভয়ই দপদপিয়ে ওঠল আহির। পায়ের নিচ থেকে যেন মৃত্তিকা দু'ভাগ হয়ে সরে গেল। সে যেন হারিয়ে গেল পাতালে। শরীরের প্রতিটি লোমকূপে কাঁটা দিয়ে ওঠল নিমিষেই। সেদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনাটির পর এই প্রস্তাব নিঃসন্দেহে ভয়াবহ একটি দুর্ঘটনা বলা চলে। ভেবেছিল, দোষ না থাকা সত্ত্বেও মেরীর মাধ্যমে হ্যাভেন তালুকদারের নিকট ক্ষমা চাইবে সে। যতই হোক, তারা বড়ো বাড়ির বড়ো মাপের ক্ষমতাসীন মানুষ। এছাড়া লোকটা আগামীতে সম্মানজনক আরো একটি ক্ষমতায়ও আসবে। বিপদে আপদে যে কোনো মুহূর্তে এদের শরণাপন্ন হতেই হবে। তার মতো মেয়ের এতবড়ো লোকের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া কুফল বৈ সুফল বয়ে আনবে না। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার আগেই এ কী ঘটে গেল। মামা রাজি হয়ে গেলেই তো মুশকিল। পূর্বের প্রস্তাবগুলো যতই ফিরিয়ে দিক, এবার নিশ্চয়ই এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেবেন না মামা। তালুকদার বাড়ি বলে কথা। এই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়া মানে তো বিপদ। এমন একটি বিয়ের প্রস্তাব এলো, সে প্রস্তাব গ্রহণ করলেও বিপদ, প্রত্যাখ্যান করলেও বিপদ।
Heaven talukdar and kalo gayer color ata Ami onno golpe poreci. Ata ki apni copy korecen nki oi golpo ta apnr e cilo???
Read all reviews on the Boitoi app
খুব সুন্দর একটা গল্প এতো সুন্দর কিউট কাঁপল গুলো 🥺🥺
জান্নাতুল নাইমা আপুর লেখা আমি প্রথম পড়েছি ফেসবুকে ওহে প্রিয় উপন্যাসটি। আমার পছন্দের একটা উপন্যাস এটি। আহি-হ্যাভেন আমার পছন্দের চরিত্র। এদের নিয়ে লেখা এই ই-বুকটি অনেক অনেক সুন্দর হয়েছে। শুভ কামনা আপুই।
এটা আমার পড়া প্রথম ইবুক,তাও তোমার গিফট দেওয়া। 🥺🦋 হ্যাভেন-আহি আমার বরাবরই পছন্দের চরিত্র। আহির ব্যাক্তিত্ব আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লাগে।আর আমাদের ব্ল্যাক ডায়মন্ড হ্যাভেনকে এখানে নতুন রুপে পেয়েছি।সত্যি বলতে গেলে প্রতিটা চরিত্র,কাহিনি আমার খুব ভালো লেগেছে। ব্যস্ততা কাটিয়ে শেষ করেছি।যাই হোক।ভালোবাসা রইল আপু।অনেক দূর এগিয়ে যাও..🌸💫
শেষ হয়েও হইলোনা শেষ। তাদের ভালোবাসার মুহূর্তগুলো পাবার তৃষ্ণা পড়া শেষেও রয়ে গেলো
এটা অসাধারণ সুন্দর একটা গল্প। 🥺 আমার ব্লাক ডায়মন্ড! হ্যাভেন আর আহি তাদের আরও একটা গল্প আছে ফেসবুকে। সেটাও অসাধারণ। আর এটাও জাস্ট ওয়াও। 😌 হ্যাভেন জান্স এর ভালোবাসা এতো নিখুঁত! মাশাল্লাহ। তার সুন্দরীকে সে অসম্ভব ভালোবাসে।কিন্তু সুন্দরী তা বুঝলে তো! 🤧 আমার জান্সকে কতো কষ্ট দিলো 😒 কিন্তু শেষটা ভীষণ সুন্দর ছিল।😌 ভালোবাসা নামীপু। 😘 রেটিং :৫/৫ আহানা🤍🥀
খুব সুন্দর। তবে মন আরো বেশি হলে মনে পরিপূর্ণ তৃপ্তি আসত।
অসম্ভব সুন্দর হয়েছে বইটি আপু অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে প্রিয় লেখিকা 🥰🥰🥰🥰🥰
অসাধারন লেগেছে গল্পটা। হ্যাভেন এর শাস্তি দেওয়ার উপায়টি খুব সুন্দর লেগেছে। তোমার প্রতি টা গল্পই আমার হৃদয়স্পর্শ করে এটাও তার মধ্যে একটি। সব ছেলে যে সুন্দরের পূজারীর সাথে খুব সুন্দর মনের অধিকার হই এই গল্পটিতে সেইটি খুব ভালো ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিয়ের পরবর্তী নিয়ে আর একটু লিখলে খুব ভালো হতো সাথে হ্যারির জন্য একটা জীবনসঙ্গী এলে আরোও ভালো লাগতো। লেখিকার জন্য ভালোবাসা ও আগামীর জন্য শুভ কামনা।
অসাধারন হয়েছে গল্পটা ❤️❤️❤️💙💙💙