

তাতা ওর বড়ো আপা আর দুলাভাইয়ের সঙ্গে মিরপুর চিড়িয়াখানায় এসেছিল। লেকের দিকে এগোতেই হঠাৎ করেই বড়ো একটা কড়ই গাছের নিচে চোখ আটকে যায়। সবুজ পাঞ্জাবি পরা একটা ছেলে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে আছে। দুই হাতে কায়দা করে বড়ো একটা পোস্টার ধরা। তাতে একটা বাচ্চা কোলে নিয়ে আছে একজন এমন একটা বড়ো ছবি। নিচে বড়ো বড়ো অক্ষরে কিছু একটা লেখা। এখান থেকে ঠিকঠাক পড়া যাচ্ছে না। সাহায্য চাচ্ছে? কৌতুহল নিয়ে ও পায়ে পায়ে ছেলেটার সামনে এসে দাঁড়ায়। ছেলেটা ওর বয়সীই হবে হয়তো। কমও হতে পারে। তাতা পোস্টারের লেখাগুলোর দিকে তাকিয়ে থমকে যায়। বিড়বিড় করে পড়ে, "এখানে বাচ্চা কোলে নেওয়া হয়। দশ কেজি ওজনের বাচ্চার জন্য ঘণ্টা প্রতি ২০০ টাকা। দশ কেজির উপরে বাচ্চার জন্য প্রতি কেজিতে অতিরিক্ত ২০ টাকা করে দিতে হবে। আপনার চিড়িয়াখানা দর্শন আরামের হোক, সুখের হোক এই প্রত্যাশায়, জাহিদ (বি. এস. সি)" তাতা ঠিক বুঝতে পারে না, এই লোক অন্যের বাচ্চা কোলে নেবার কথা বলছে? মানে এমন সার্ভিসও আছে নাকি? তাতা ভালো করে তাকাতেই বুঝতে পারে পোস্টারে যে ছেলেটা একটা বাচ্চাকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সেটা এই সবুজ পাঞ্জাবি পরা ছেলেটাই। এর নামই জাহিদ। নামের পাশে আবার বিএসসি লাগিয়েছে। বেশ মজার তো। ও আরও দু' পা এগিয়ে গিয়ে কৌতুহলী গলায় বলে, 'আপনি বাচ্চা কোলে নেবার সার্ভিস দেন?' ছেলেটার মুখে একটা বিগলিত হাসি দেখা যায়, বিনীত গলায় বলে, 'বেকার সমস্যা দূর করতে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। আমি ভেবে দেখলাম এখানে অনেক বাবা মা ছোট ছোট কোমলমতি বাচ্চাদের নিয়ে আসেন। তার মধ্যে অনেক দুষ্ট বাচ্চা আছে যারা খাবলা মেরে বাবা মায়ের কোলে বসে থাকে। এরা কিছুতেই নামতে চায় না। আমি সেইসব বাচ্চাদের কোলে নিয়ে বাবা মায়ের মুশকিল আসান করে দেই। আপা, আপনার এই সার্ভিস লাগবে? আপনার বাচ্চা কই? আপনার চেহারা ছবি সুন্দর আছে, আপনার জন্য বিশ টাকা ছাড়।' তাতা ভ্রু কুঁচকে তাকায়, ছেলেটা তো অসম্ভব বাচাল! আর ফাজিলও আছে। ও বিরক্ত গলায় বলে, 'আমাকে দেখে কি মনে হয় আমার বিয়ে হয়েছে?' জাহিদ পিটপিট করে চেয়ে বলে, 'আপা, মানুষকে দেখে বোঝার উপায় নাই কার মধ্যে কি লুকাই আছে। এই যে আমি, জাহিদ বিএসসি, এটা পোস্টারে লেখা না থাকলে আপনি বুঝতেই পারতেন না আমি কে। উলটো আমাকে কোনো নাটকের নায়ক বলে ভুল করতেন।' তাতা বাঁকা হেসে বলে, 'অন্তত এই ভুলটা হতো না। উল্টো আপনার যা চেহারা তাতে ছেলেধরা বলে মনে হতো।' জাহিদ দুই ঠোঁট প্রশস্ত করে হেসে বলে, 'ভাগ্যিস মেয়েধরা বলে মনে হয়নি।' তাতা আগুন চোখে ওর দিকে তাকায়। এই ছেলে তো মহা ফাজিল। ও মুখ ঘুরিয়ে একরাশ বিরক্তি নিয়ে লেকের দিকে হাঁটা ধরে। জাহিদ হাসে। মেয়েটা সুন্দর। নাকটা বোঁচা, কিন্তু আদুরে। আহ, এমন একটা মেয়ের সাথে প্রেম থাকত!
গল্পটা এক কথায় চমৎকার! এতো সাবলীল আর সুখপাঠ্য। তাতা-জাহিদ জুটি আরও চাই।
Read all reviews on the Boitoi app
"হেমন্ত আসেনি মাঠে" খুব প্রিয় একটা গল্প। তাতা আর জাহিদ দুটোই আইকনিক চরিত্র। হিউমার, দুজনের অব্যক্ত গভীর প্রনয়, মানবতা ও জাগতিক স্বার্থহীন মানবিক জীবন দর্শন এই গল্পের মুল উপজীব্য। লেখকের অসাধারণ গল্প বুনন শৈলীতে এই গল্প সবার মন ছুয়ে যাবে।
'হেমন্ত আসেনি মাঠে' জীবনানন্দের কবিতা থেকে নেয়া নাম! নামটি অসাধারণ। পুরো বইটি জুড়ে মূল চরিত্রের humorous but witty কান্ডকারখানা পাঠককে আনন্দের সাথে ধরে রাখবে। আবার কাহিনীর সুক্ষ্ণতাও পাঠককে ছুঁয়ে যাবে। একদিকে হিউমার আরেকদিকে জীবনের গভীরতা দুইয়ের নিবিড় ঘনিষ্ঠতা লেখক অপূর্বভাবে ঘটিয়েছেন। পড়া শেষ করে সুন্দর অনুভূতি পাবেন পাঠক। অনেক শুভকামনা!
অনবদ্য একটি গল্প। অর্থপূর্ণ নির্মল বিনোদন। এতো ভালো লেখা বহু দিন পড়া হয় নি। ধন্যবাদ লেখককে, এত সম্বৃদ্ধ অবদান রাখার জন্য।