

-- সুপ্তি, এই সুপ্তি! --- এক্সকিউজ মি, (ওর ডাক নাম শুনে মনে মনে তাজ্জব হয়ে গেল ও।) --- হুমম, তোমাকেই তো ডাকছি। --- আজব তো! আপনি আমার নাম জানলেন কোত্থেকে? এটা তো আমার নিক--- --- সুপ্তি, আমি মিহির। --- জি, আমি কী আপনাকে চিনি? যতদূর মনে পড়ে, আমি কোনো মিহিরকে চিনি না। --- আরে শোনো, ও সব পরে হবে। আগে বলো, তুমি কেমন আছো? এখন কোথায় থাকো? --- এক্সকিউজ মি, আমি অপরিচিত কারো সাথে কথা বলি না। কথাটা বলেই মুখটা ঘুরিয়ে এগিয়ে যেতে চাইল। --- আরেএএএ সুপ্তি, আমি মিহির। --- আরে ধুরররর! আপনি মিহির, কিহির, ছিহির যে'ই হোন না কেন, তাতে আমার কী? আমি তো বললাম, আপনাকে চিনি না, তারপরও আপনি কেনো পিছু ছাড়ছেন না---- --- হা হা হা, এমনটাই আশা করেছিলাম তোমার কাছে। অনেক দিন পর তোমার এমন ত্যাড়া ব্যাড়া কথা শুনলাম। সেই চিরচেনা ভঙ্গী, চিরচেনা সুর। --- জাস্ট এ মিনিট, আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনি আগে আমার কথা অননেএএএএক শুনেছেন? --- হুমম, শুনেছি তো! তোমার উদ্ভট কথা না শুনলে যে ঘুমই হত না আমার। --- মানে কী? কী বলছেন আপনি? এই দাঁড়ান, দাঁড়ান, আপনার পা দুইটা দেখি! জ্বিন ভূত না তো আবার আপনি! --- এখানে দাঁড়িয়েই সব কথা শেষ করবে? চলো, কোথাও বসি। তারপর ধীরেসুস্থে আমরা কথা বলি। তখন পা দেখো আমার। কথাটা শেষ করে মিহির হা হা হা করে হেসে উঠল। --- মাথা খারাপ? আপনার কী মনে হয়, আমি সাইকো? এমন এক আজব মানুষের সাথে বসে তার কথা শুনব? মোটেও না, আমি চললাম, বাই। বলে সুপ্তি সামনে হাঁটা শুরু করল। --- এই সুপ্তি, শোনো, তুমি আমাকে চেনো, আমি মিহির। গোপীবাগের মিলিদের পাশের বিল্ডিংটা আমাদের। আমি তোমার পাশের বারান্দায় ---- --- ওওও মাই গড! আপনিই সেই লোক, সেই মিহির, কিহির, চিহির? আমার সেই অদেখা অদৃশ্য ভূতুরে প্রেমিক! যার সাথে আমার বহু দিন গোপন পিরিত চলেছিল। আহা, কত্ত কত্ত ইশক মোহাব্বত ছিল আমাদের মাঝে। তাই না? কী জানি বলে! কত্ত মাখামাখি, দিনে রাতে শুধু চলত দুজনের ইটিশপিটিশ, কত্তো কত্তো সময় অতি রোমান্সে চুম্মা চুম্মিও হত আমাদের মধ্যে। ভাগ্যিস, দুই বারান্দায় গ্রীল ছিল, নাহলে তো দুই একটা বাচ্চাও পয়দা হয়ে যেত ওই প্রেমের টানে। তাই না? ঠিক বলছি না আমি, মিস্টার -- --- মিহির। --- আরে ধুরররররর মিয়া, আপনি পড়ে আছেন আপনার নাম নিয়ে, আর আমি আছি আমার এত মহব্বতের রসালো গালগপ্পের নায়ক, আমার হৃদ ভ্রমরে। যার সাথে এত গভীর প্রেমে ডুবে ছিলাম আমি, যার সাথে এত সম্পর্ক হইল আমার, যার চুম্মাচুম্মিতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে লজ্জায় আমাদেরকে বাসাটাও ছাড়তে হল। আমার সেই প্রেমিক পুরুষকে আগে একটু ভালো করে দেখে নেই। আরে নাহ, কী যে বলি, দাঁড়ান, আপনার সাথে কয়েকটা ফুডু তুলি। আম্মুকে নিয়ে দেখানো যাবে, আম্মু, দেখো, এই সেই প্রেমিক আমার, মজনু আমার। ইশশ, এই লাভস্টোরীর রোমিও কে তা জানার জন্য এই আপনারে আমি কুত্তা খোঁজা খুঁজেছি সেই সময়ে! কী ও কেমন ছিল মিহির আর সুপ্তির প্রেমের কাহিনি, তা জানতে পড়ুন "পাশাপাশি বারান্দায়"।
সাবলীল লেখনীর সুন্দর গল্প "পাশাপাশি বারান্দায়"। সায়লা সুলতানা লাকী আপু জীবনকে গভীরভাবে দেখা গল্পকার। উনি যখন কোন গল্প লেখেন ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে খুব স্বাভাবিকভাবে, একেবারে বাস্তব জীবনে যেমন দেখা যায়। চরিত্রগুলো বড় চেনা হয়, তাদের আচরণ, চিন্তা-চেতনা। আপু আমার পছন্দের লেখক একারণেই সবচাইতে বেশি। এই গল্পে ভালো লাগলো মিহিরের ভালোবাসায় শেষ পর্যন্ত সুপ্তিকেও রাঙতে দেখে। অনেক বাজে পরিস্থিতি, অনেক চড়াই-উতরাই পার হয়ে দু'জনে কিভাবে এক হলো, দু'পরিবারের মানুষগুলো কিভাবে কাছাকাছি এলো জানতে সবাইকে আমন্ত্রণ রইলো বইটা পড়ার। বেশি কিছু বলে স্পয়লার দিতে চাই না। তৃপ্তি চরিত্রটা ভালো লেগেছে। এমন ছোটবোন থাকলে জীবন মধুর হয়।
Read all reviews on the Boitoi app