
জেলার অফিসের অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে ঘরে একদিন মুখোমুখি হলো অতীত আর বর্তমান। কঠোর ও দুর্নিবার খ্যাতির জেলার আজমল সাহেব হঠাৎ দেখতে পেলেন তাঁর শৈশবের শিক্ষককে—একজন ভগ্ন, অনুতাপে জর্জরিত বৃদ্ধ মানুষ, যিনি আজ এসেছেন এক ভয়ঙ্কর অপরাধীর পিতা হয়ে। সেই অপরাধী আর কেউ নয়, আজমলের শৈশবের সহপাঠী রফিক—যে একদিন স্কুলের মাঠে ডাব চুরি করে ধরা পড়লেও বাবার ছত্রছায়ায় বেতের আঘাত থেকে রেহাই পেয়েছিল। এক মুহূর্তে ভেসে ওঠে পুরনো দৃশ্য—গ্রীষ্মের দুপুর, মাঠের ধুলো, বেতের আঘাত, আর পালিয়ে যাওয়া রফিকের ব্যঙ্গমাখা হাসি। বছর ঘুরে সেই অবিচারের শেকড় কীভাবে ধীরে ধীরে বিষ বৃক্ষে পরিণত হলো, তারই মর্মান্তিক পরিণতি দাঁড়িয়ে আছে জেলার অফিসের দরজায়। এ গল্প শুধু একজন অপরাধীর কাহিনী নয়; এটি এক শিক্ষকের অনুশোচনা, নৈতিক সংকট, এবং সময়ের নির্মম বিচারের কাহিনী। “স্নেহ”—যেখানে প্রশ্ন জাগে—শাস্তি কি আদালত দেয়, নাকি সময়ই দেয় সবচেয়ে কঠিন রায়?