

সীমাহীন আকাশে উদাসী বাতাসে বৃষ্টি ঝরছে ঝিরিঝিরি। মুহূর্তটা যেন থমকে আছে। বাগানের মাঝে দুহাত মেলে শুয়ে আছে নিক্কি। নিক্কির ওপরে শুয়ে আছে নীহু। ঘুম ভাঙতেই চোখ বন্ধ করে আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসে নীহু। চোখ মেলে তাকাতেই দৃষ্টিতে দৃশ্যমান হয় সে বিছানায় নয়, নিক্কির ওপর শুয়ে ছিল, আর এখন নিক্কির ওপরই বসে আছে। আর মাথার ওপর খোলা আকাশ, আর ছুঁয়ে দিচ্ছে বাতাস। ভ্রু কুঁচকে কপালে ভাঁজ ফেলে নীহু বলে, "আমরা না গাড়িতে ছিলাম, বাড়িতে এলাম কখন?" নিক্কি নীহুর পানে চেয়ে আদুরে স্বরে বলে, "আমরা পৌঁছে গেছি।" নীহু প্রশ্নাত্মক স্বরে বলে, "ঘরে না গিয়ে বাগানে আছি কেন?" নিক্কি ওষ্ঠদ্বয়ে সূক্ষ্ম হাসি টেনে বলে, "দরজাটা কে খুলবে, চাবি আছে নাকি আমাদের কাছে? আমরাই আগে এসে পৌঁছেছি।" নীহু ভাব নিয়ে বলে, "তালা খুলতে আবার চাবি লাগে নাকি? আমি হলেই তালা চাবি দিয়ে খুলে দিই।" নিজের কথার সমাপ্তি টেনে উঠে দাঁড়ায় নীহু। নিজের দুপায়ের জুতো খুলে, জুতো দিয়ে বারি দিচ্ছে সদর দরজায় ঝোলানো তালায়। নিক্কি নীহুর পেছনে গিয়ে উদিগ্ন উদগ্রীব হয়ে বলে, "নীহু, এটা তুই কি করছিস? কোনো দিনও তুই তালা এই জুতোটা দিয়ে ভাঙতে পারবি, পাগল। কোনো দিনও তো মাথাটা ইউজ কর।" নিক্কির কথা কর্ণে পৌঁছাতেই নীহু তৎক্ষণাৎ নিজের মাথা দিয়ে সদর দরজায় লাগানো তালাতে বারি দিতেই থমকে যায় নিক্কি। বিস্ফোরিত হয়ে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে রয় নীহুর পানে। নীহু নিজের মাথায় দুহাত দিয়ে চেপে ধরে পড়ে যেতে নিতেই তৎক্ষণাৎ নিক্কি নিজের সাথে নীহুকে মিশিয়ে নিয়ে উন্মাদ হয়ে বলে, "নিঃশ্বাসে তুই, প্রশ্বাসে তুই।"
