

'সমস্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ বিচারসাপেক্ষে আসামি আয়ুস্মান আহসান সূর্যকে এই আদালত বিশ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করছে। আর এই মামলার বিচারাধীন আরেকজন আসামি পারিজাত চৌধুরীকে নির্দোষ ঘোষণা করে এই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলো।' মাননীয় জাজ সাহেবের ঘোষণাটা বেশ সাদামাটা ভাবেই শেষ হয়। আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে শান্তভাবেই রায়টা শোনে সূর্য, মনে মনে একটা স্বস্তি টের পায়। যাক, বিচারের চূড়ান্ত ফয়সালা হয়ে গেল; একদিক দিয়ে ভালোই হলো। এবার সব মায়ার বাঁধন ছিঁড়ে, আশার আলোটুকু নিভিয়ে একদম একাকী হয়ে যাবে। মা এসেছে, একবার মাথা তুলে তাকায় সূর্য। এখনো কেঁদেই চলছে। মনটা খারাপ হয়ে যায় সূর্যের। আচ্ছা, মা ওকে ছাড়া এখন থাকবে কী করে? এই শহরে ও ছাড়া আর যে কেউ নেই মায়ের! আর ওর পারিজাত, ওর প্রিয় মানুষ, ও কি ভুলে যাবে সূর্যকে? পারিজাত যে বলেছিল, 'পারিজাত শুধু সূর্যের জন্যই ফোটে, সূর্যের স্পর্শেই তার ভালোবাসা পূর্ণতা পায়।' পারিজাত কি অপেক্ষা করেছিল সূর্যের ফিরে আসার জন্য? মা মেহেরুন্নেসা কি আইনের বেড়াজাল থেকে মুক্ত করতে পেরেছিল সূর্যকে? পুরো গল্পটা একটা মায়াময়, শুদ্ধ, সুন্দর ভালোবাসার গল্প।