

থমকে আছে যেন সময়। ক্লাস নিচ্ছে আগুন ইয়াফি অগ্নি। সবাই নিস্তব্ধ, নিশ্চল হয়ে আছে। হঠাৎ নিস্তব্ধতা-নিশ্চলতা চিরে ভেসে আসে শিসের আওয়াজ। শিসের আওয়াজ কর্ণে পৌঁছাতেই বিস্ফোরিত হয় অগ্নি। কর্ণে পৌঁছানো শিসের আওয়াজ অনুসরণ করে অগ্নি এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ায় শিক্ষার্থী মারিয়া রহমান মোমের সামনাসামনি। অগ্নি এগিয়ে যেতেই মারিয়া আনমনেই উঠে দাঁড়ায় বেঞ্চ ছেড়ে। অগ্নি মারিয়ার পানে ভস্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চিৎকার করে বলে, “শিস দিলে কেন?” মারিয়া অগ্নির পানে চেয়ে মুখশ্রী কুঁচকে বলে, “কেন স্যার, আমি শিস দিতেই কি আপনার পেয়ে গেছে?” অগ্নি মারিয়ার পানে ভস্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে চিৎকার করে বলে, “কি?” মারিয়া ফিসফিসিয়ে বলে, “হিঁসু।” অগ্নি মারিয়ার পানে ভস্ম দৃষ্টি নিক্ষেপ করে নিজের দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ করে আগ্নেয়গিরির ন্যায় বেরিয়ে যায় ক্লাস থেকে। অগ্নির যাওয়ার পানে একদৃষ্টে চেয়ে মারিয়া আনমনেই বলে, “হট চকলেট।” পরিশেষে, টমবয় মেয়ে মারিয়া রহমান মোম। খেলাধুলা, আড্ডাবাজি, মারামারি, চুলোচুলি, ছোটাছুটি ছাড়া কিছুই বোঝে না সে। হাওয়ার বেগে বাইক আর সাইকেল নিয়ে চলাচল, শিস দেওয়া, ইভটিজিং—এসব তার জন্য বিশেষ কিছু নয়। কিন্তু মাদকাসক্ত মারিয়াকে থমকে দেয় হট চকলেট। আগুন ইয়াফি অগ্নি হলো সেই হট চকলেট। নিকোটিন, অ্যালকোহল, পাউডার ড্রাগ, পাইপ ড্রাগ, ইনজেকশন ড্রাগসহ কোনো নেশাই তার হট চকলেটের নেশা কাটাতে পারে না। মুহূর্তে মুহূর্তে হট চকলেটকে নিয়ে মারিয়া পাড়ি দেয় ফ্যান্টাসিতে। টমবয় মেয়েটা যেন মুহূর্তেই বদলে গেল। টমবয় থেকে কখন যে মেয়ে হয়ে উঠল, বুঝতেই পারল না। নিজেকে গল্প, কবিতা, উপন্যাস, সাহিত্য, সিনেমার নায়িকারূপে সজ্জিত করতে মেতে উঠল মেয়েটা। হট চকলেটের দু’চোখে হারিয়ে যেতে চাইলো এক পলকে। হট চকলেটের সাথে পাগলামি করতে, হট চকলেটকে জ্বালাতে মত্ত হলো মেয়েটা, মুহূর্তে মুহূর্তে। চাইল হট চকলেটের হতে, কিন্তু তারপর… রুক্ষ অন্তর্মুখী ব্যক্তিত্বের হট চকলেট আগুন ইয়াফি অগ্নি কি মারিয়ার ভালোবাসায় সাড়া দেবে? নাকি মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাবে সবটা…?
