

একটা শীত থেকে শুরু… ভাতগাঁওয়ের সেই টিনের ঘর, হু হু করে ঢুকে পড়া ঠান্ডা হাওয়া, আর একা একটা বালক ‘জিসান’। এগারো বছরের জিসানের মনে হয়েছিল, মাকে ছাড়া এই গ্রামে দশটা দিনও টিকে থাকা অসম্ভব। অথচ দিনগুলো থেমে থাকেনি। নানীর মালসার আগুনের উষ্ণতা, নানার জীবনকে নতুন করে দেখানোর প্রচেষ্টা, মোটা লেপের নিচে একটু একটু করে গড়ে ওঠা শীত মানানোর অভ্যাস, আর বন্ধু জালালের বন্ধুসুলভ ভালোবাসায় ভর করে বদলে যেতে থাকে তার জীবন। একটা শীত কাটাতে পারবে না ভাবা জিসান সেখানেই থিতু হয়। তারপর আসে বসন্ত… গ্রীষ্ম… বর্ষা… দুটো শীত পেরিয়ে গেলে জিসান বুঝে যায়, কিছু অভাব কখনো পূরণ হয় না, কিন্তু মানুষ তবুও বাঁচতে শেখে। “এক জীবনে কয়েক জীবন”—একটা ছেলের হারিয়ে যাওয়া, মানিয়ে নেওয়া, আর নতুন করে নিজের পৃথিবী খুঁজে পাওয়ার গল্প।
"ভীষণ হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প। মা হারা সন্তানের জীবন যে কতটা কঠিন, জিসানের জীবন থেকে সেটা অনুভব করেছি। পড়তে পড়তে বহুবার চোখ ভিজেছে। আরও ভালো লিখুন। শুভকামনা।"
ভীষণ হৃদয়স্পর্শী একটি গল্প। মা হারা সন্তানের জীবন যে কতটা কঠিন, জিসানের জীবন থেকে সেটা অনুভব করেছি। পড়তে পড়তে বহুবার চোখ ভিজেছে। আরও ভালো লিখুন। শুভকামনা।
Read all reviews on the Boitoi app
অনেক ভালো লাগলো!
কী যে ভালো লাগলো গল্পটা!
খুব সুন্দর একটা গল্প। আমার কাছে ভীষণ ভালো লেগেছে।
গল্পটি জিসানের, যাকে ছোটবেলাতেই মা কে হারাতে হয়। ভাগ্যের এই নির্মম পরিহাসে এরপর বাবা থেকেও অনেক দূরের মানুষ হয়ে যায়। বাস্তবের নিষ্ঠুরতার সঙ্গে সঙ্গে নানা-নানীর ভালোবাসা আর জালালের মতো বন্ধুত্বের আশীর্বাদে জিসান জীবনের অঙ্কগুলো খুব তাড়াতাড়িই শিখে যায়। স্বল্প পরিসরে এত সুন্দর করে গল্পটি লেখা যে জিসানের প্রতিটি অনুভূতি পাঠকের হৃদয়ে পৌঁছে যায়। আর গল্প শেষে জিসানের সাথে সাথে পাঠকদেরও চোখ ঝাপসা হয়ে যাবে। এমন একটি চমৎকার সাবলীল গল্পের জন্য লেখিকাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ আর রইল অফুরন্ত শুভকামনা। 🩷
পাঠপ্রতিক্রিয়াঃ জিসানের ছোট থেকে কষ্টের জীবনে বড় হওয়ার লড়াই টা ছিল খুবই করুণ। গল্প টা পড়ে জিসানের জন্য মন কেমন করেছে। একেক সময় দীর্ঘশ্বাস এসেছে ছেলেটার জন্য। এতটা কষ্ট ওর ছোট্ট জীবনে না আসলেও পারতো। এই ছোট বয়সে এত কিছুর ভার ছেলে টা কিভাবে সামলেছে! গল্প টা আমার খুব ভালো লেগেছে। জিসানের সাথে জিসানের বন্ধু জালাল চরিত্র টা চমৎকার লেগেছে। জিসানের সব বিপদে জালাল পাশে থেকেছে। সাহস দেখিয়েছে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।
কাঁদতে কাঁদতে গল্পটা পড়লাম। অসাধারণ ।
কিছু মানুষের জীবন যেন এক মহাসাগর কখনও শান্ত নীল জলরাশি, আবার কখনও উত্তাল ঢেউয়ের ঝাপটা। রুকসাত জাহানের ‘এক জীবনে কয়েক জীবন’ ঠিক তেমনি এক লড়াকু জীবনের আখ্যান। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র জিসানের জীবন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, আপনজন হারানোর শূন্যতা আর লড়াইয়ের নামই হলো জীবন।লেখিকা অত্যন্ত সহজ-সরল ভাষায় এক অনাথ কিশোরের শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প বুনেছেন। বিচ্ছেদ, একাকীত্ব এবং দারিদ্র্য কীভাবে একজন মানুষকে তিলে তিলে গড়ে তোলে, তা এই বইটিতে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। জিসানের এই জীবন যেন আমাদের শেখায় সব হারিয়েও যদি প্রতিভাকে পুঁজি করে লড়াই চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে একদিন সাফল্যের দুয়ার উন্মোচিত হয়।
সুন্দর সমাপ্তি, জিসানের জীবন আনন্দময় হয়ে উঠুক