

The Story of My Cowardice একটি ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা, যেখানে একজন সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সচেতন হয়ে ওঠা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া এবং দীর্ঘ আট বছরের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাজীবন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ভূমিকা, ভয়, নজরদারি ও ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়ে লেখক এমন এক যাত্রার বর্ণনা দিয়েছেন, যা শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে এসে পৌঁছায়। মহাখালীর সংঘর্ষ, টিয়ার গ্যাস, গুলির শব্দ এবং একটি বাজারে আটকে পড়া মানুষের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বইটি সাহসের প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে প্রশ্ন করে। লেখক দেখানোর চেষ্টা করেছেন যে, সাহস সব সময় সম্মুখসারিতে দাঁড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; কখনও কখনও অন্যের জীবন বাঁচাতে পাশে থাকাও এক ধরনের সাহস। ব্যক্তিগত অনুশোচনা, আত্মসমালোচনা এবং ইতিহাসের সাক্ষী হিসেবে নিজের অবস্থানকে কেন্দ্র করে রচিত এই বইটি একই সঙ্গে আত্মজিজ্ঞাসা, মানবিকতা ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি প্রত্যক্ষ দলিল। সঙ্গে একটি একাডেমিক প্রবন্ধ যুক্ত করা আছে, যে প্রবন্ধটিও আরেকটি দলিল। কীভাবে ভাষার ব্যবহার, গ্রাফিতি ও অন্যান্য অনুষঙ্গ আন্দোলনটিকে জনসাধারণের বিপ্লবে রূপ দিয়েছিল, তারই এক অকাট্য গবেষণালব্ধ প্রমাণ।