

যে সব লেখক ও আলোচক এ উভয় প্রকার ব্যবস্থার মধ্যে বিরাজমান ব্যবধান ঘুচাতে চায়, এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে চায়, তারা আপসরফা করতে গিয়ে আসলে খুবই মুশকিলে পড়ে যায়। প্রথম যে জটিলতার তারা সম্মুখীন হয় তা হচ্ছে, সমস্যা সমাধানকল্পে নিয়োগযোগ্য প্রভাবশীল ব্যক্তির নিয়োগ প্রশ্নে ও পদ্ধতিতে, অথবা শূরার মেম্বার নির্বাচন পদ্ধতিতে। এ প্রশ্নে যে আত্মপ্রচার করা যাবে না এবং নিজেদের গুণাবলী সম্পর্কে নিজেরা কিছু বলা যাবে না, ওদের বিবেচনায় আজকে এ জনবহুল সমাজে- যখন কেউ কাউকে চেনে না, কেউ কারো পরিচয় জানে না, সে অবস্থায় কারও যোগ্যতা ও প্রার্থীপদ লাভের যোগ্যতা জনগণকে জানানোর উপায় কি? যে দায়িত্বপূর্ণ পদে তাদের বসানো হবে সে কাজে তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বুঝার জন্যে সত্যিকারে কি ব্যবস্থা আছে, কোন নিক্তিতে তাদের সততা, যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিমাপ করা হবে, তাদের যোগ্যতা মাপার পথ ও পদ্ধতিই বা কি হবে? সাধারণ ভোটে কি নেতা নির্বাচন হবে, না মৌলিক গণতন্ত্রের কায়দায় প্রভাবশীল জনগণ দেশের নেতা নির্বাচন করবে? তারাই বা কোন নীতির ভিত্তিতে নেতা নির্বাচন করবে? হাঁ, দেশের প্রভাবশীল ব্যক্তিদের ভোটে যদি নেতা নির্বাচনের কাজ সমাধা হবে বলে মেনে নেয়া হয় তাহলে মুষ্টিমেয় ওই লোকগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করে তাদের স্বপক্ষে নিয়ে উদ্দেশ্য সিদ্ধ করা মোটেই কঠিন কাজ নয়, কিন্তু এদের পকেটে নিয়ে যখন কেউ নেতা নির্বাচিত হয়ে যাবে তখন তার হাতে সমস্ত ক্ষমতাই চলে যাবে এবং সে এমন নেতা হয়ে যাবে যে, তার ওপর আর কেউ কিছু বলার থাকবে না। আর যতোদিন সে অবলীলাক্রমে তার কর্তৃত্ব চালিয়ে যেতে সক্ষম হবে, তার কাছে এই দলটিই হবে প্রথম বিবেচনাযোগ্য। যাদের খুশী রাখাই হবে তার বড় কাজ।