

গল্পটি মিতুল নামের এক দুরন্ত কিশোরের, যে বাঁধা পড়ে পাতা নামের এক ভীরু, লাজুক কিশোরীর কাছে। তাদের এই কাছে আসা ঢেউ তোলে সমুদ্রের মতো বিশাল বারেক বিলে। তাদের সম্পর্কটা নিষিদ্ধ না হলেও সমাজের শ্রেণিভেদে সেটা অন্যায়। মিতুল-পাতার শুদ্ধ ভালোবাসায় টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়। তাদের সঙ্গে পার্শ্বচরিত্রগুলোও নিজ নিজ জীবনের জটিলতা নিয়ে গল্পে উঠে আসে। পুরো গল্পটা নব্বই দশকের সোনালি সময় ঘিরে আবর্তিত। প্রায় ৭৯ হাজার শব্দের বড় ক্যানভাসের একটা গল্প এই ‘জল হাওয়ার খেলা’।
"গল্প টা আমার অনেক ভালো লেগেছে। ৯০ দশকের সময়কাল নিয়ে রচিত।প্রত্যেকটা চরিত্রের উপস্থাপন দারুন ছিল। শেষ টুকু পড়তে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। অনেকদিন পর তৃপ্তি নিয়ে একটা গল্প পড়লাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।"
এতো মিষ্টি গল্পটা যে ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা আমার নেই! ভীষণ ভালো লাগার সবকিছু। আমি বলবো ক্লাসিক পর্যায়ের একটি গল্প ❤️❤️❤️ মলাট বই আকারে পেলে খুব ভালো লাগবে। গ্রাম বাংলার পটভূমি, বিলের জলে দাপিয়ে বেড়ানো দূরন্ত কৈশোর, আম চুরি করে বাবার হাতে মার খাওয়া। কি চমৎকার ছোটবেলাটা, যা আমরা কখনোই পাইনি, অথচ চিরো আরাধ্য। এরপর খুব ভালো ফলাফল করে ঢাকায় পড়তে আসা। সেখানে পারিবারিক গল্পটা এতো মধুর ছিল। মধ্যবিত্তের হাসি কান্নার চিরায়ত স্নিগ্ধ রুপ। মুন্নি চরিত্রটি সেরা লাগলেও পাতা আর মিতুলের সম্পর্কটা নিয়ে তার টিপিক্যাল রুপটা প্রকাশ পেয়ে গেল। আরেক দিকে পাটকলের শ্রমিক, কর্মচারীর জীবনের গল্পটাও আবেগে পরিপূর্ণ ছিল। কত কত পরিবার এই মিলগুলোর উপর নির্ভরশীল ছিল। নিম্নবিত্তের জীবনের এই দিকগিলো খুব কমই দেখা যায় গল্পে। সোহেলের বাবা-মা, কত কষ্ট করে ছেলেকে বড় করল। একদিন এই ছেলে সংসারের সাইকেলের প্যাডাল চালাবে আর বাবা ক্যারিয়ারে বসে বিশ্রাম নিবেন, আহা। বাবা মা কত সরল হোন। ছেলেকে বিয়ে দিয়ে বাবা মায়ের যে উপলব্ধিটা হলো, চোখ ভিজে গিয়েছিল। আসলেই তো এই জীবনে কেউ কারো না। স্বামী-স্ত্রী'ই থাকে শেষকালে দুজন-দুজনের জন্য। সন্তানেরা ক্ষনিকের অতিথি মাত্র! এরপরে পরে এল প্রেম, জলোচ্ছ্বাসের মতো ভাসিয়ে নিয়ে গেল সবকিছু, সব সম্পর্ক ধুয়ে মুছে দিল। ভার্সিটি লাইফের গল্পটুকুও খুব চমৎকার ছিল। পুকুর পাড়ে বসে থাকা, রিকশায় ঘোরা, কদম গাছে উঠে ফুল পাড়া। আহা কিছু স্মৃতি, কিছু কষ্ট আসলে ভোলার নয়। মিতুলের কথাটা এতো বাস্তব 'সংসারের ভেতরকার হিসেবগুলো এত সূক্ষ্ণ আর জটিল যে তা খুব সহজেই একাউন্টিং এর ব্যালেন্স শিটের মতো মিলে যায় না'। সামাজিক অবস্থান যেন কখনও কখনও রক্তের সম্পর্কের চেয়েও বড় হয়ে যায়। পাতা, মিতুলের অসহায়ত্বে চোখ ভিজে যাচ্ছিল বারবার। কিন্তু দুজনে কতটা অনুগত বাবা-মায়ের! পাতার অসম্ভব দৃঢ়চিত্ততা সব ছাপিয়ে জয় করে নিল। যা আমাদের তা আসলে আপনাতেই চলে আসে, সম্মানের সাথেই আসে। জীবনটা ঠিক যেন গল্পটার মতই, যেন জল হাওয়ার খেলা, to be, or not to be....
Read all reviews on the Boitoi app
গল্প টা আমার অনেক ভালো লেগেছে। ৯০ দশকের সময়কাল নিয়ে রচিত।প্রত্যেকটা চরিত্রের উপস্থাপন দারুন ছিল। শেষ টুকু পড়তে গিয়ে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলাম। অনেকদিন পর তৃপ্তি নিয়ে একটা গল্প পড়লাম। লেখকের জন্য শুভকামনা।