
—“লেফটেন্যান্ট দিগন্ত এহমাদ হীর, আপনাকে কালই বাহিনীতে ফিরে আসতে হবে। ছুটি শেষ হওয়ার আগেই অর্ডার করার জন্য দুঃখিত, এই মুহূর্তে টিমের আপনাকে দরকার। আপনি চিঠি পেয়ে যাবেন আগামীকাল সকাল হতেই।” ঘাঁটি থেকে কল এসেছে। পুরোটা কথাই সে শুনেছে। খানিকক্ষণ চুপ থেকে প্রতিত্তুরে কেবল, —“ঠিক আছে।” বলে কল কেটে দিল। ফোনটা সোফায় ছুড়ে মেয়েটাকে কোলে তুলে বিছানায় শুইয়ে দিল। মেয়েটার পরনে লাল বেনারসি আর বউয়ের মতো সাজ। কিন্তু একটু আগে সে কী করল? কথাটা মস্তিষ্কে যেতেই মলিন হাসল। লক্ষ্য করল, মেয়েটার গলায় লাল দাগ স্পষ্ট, ঠোঁটটা সামান্য কেটে গিয়েছে। অনুতপ্ত হলো কিছুটা। অপলক তাকিয়ে বিরবির করে আওড়ালো, —“তোমাকে প্রহার করতে চাইনি, মেয়ে। কিন্তু আমি চাই, আমায় তুমি নিকৃষ্ট ভাবো। ঘৃণা করে দূরে সরে যাও। আমি কাঁটাযুক্ত গাছ, ছুঁলেই রক্ত ঝরবে। আমি চাই না, আমার প্রতি ভালোবাসা জন্ম হয়ে কেউ আমার প্রতি দুর্বল হোক। এছাড়াও তুমি আমার শর্ত পূরণের চাবিকাঠি। আমার দায়িত্ব! মাস পেরোলেই রাস্তা হবে আলাদা। তুমি আমায় নও, আরও ভালো কাউকে ডিজার্ভ করো। জানি না, তার মুখের আদলের সাথে হুবহু মিল কী করে। কিন্তু সে তুমি নও। সম্ভবই না। মৃত মানুষকে কখনো ফিরে আসতে দেখিনি। তবে পৃথিবীতে নাকি একই রকম দেখতে ৭ জন আছে। হয়তোবা তুমিও তাদের একজন। আমি নারীসঙ্গ অপছন্দ করি। কিন্তু তোমার মুখশ্রী দেখে কিছুটা দুর্বল হতে বাধ্য হলাম। যেই মুখশ্রীকে ভালোবেসে ঘৃণা করে নারীসঙ্গ ছেড়েছিলাম, আজ সেই মুখশ্রী দেখে স্ব-ইচ্ছায় কোনো নারীকে ছুঁয়ে দিলাম। জানি, পাপ নেই এতে, তবে আমি নিজেই এক পাপ!”