

"আপনার ঘরের উঠতি বয়সের কিশোরীটি কি সত্যিই নিরাপদ জীবন যাপন করছে? কী? ঝাঁকুনি খেলেন? নাকি ধন্দে পড়ে গেলেন? কই? নিরাপত্তার তো অভাব নেই। যাওয়ার মধ্যে স্কুল-প্রাইভেট আর ফেরার মধ্যে বাসা। আমরা তো রয়েছি। ওর জীবনও তো ঠিকঠাক চলছে। রুখসানার এই কাহিনিটি শুধু ‘নরকযাত্রা’ উপন্যাসে সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের চারপাশের সকলেই সম্ভাবনাময় ‘রুখসানা’। ‘নরকযাত্রা’ তাই জীবনঘনিষ্ঠ কাহিনি। নাসিরদের অদ্ভুত তৃষ্ণার নিবারক হয়ে দাঁড়ানো অসহায় রুখসানারা আমাদের সংসারেই নিজেদের ভেতর গুমরে মরে। কখনো প্রেমে, কখনো বিরহে। কখনোবা এই দুয়ের ভেতরের সিদ্ধান্তহীনতায়। আবার কখনোবা অপমানে-যন্ত্রণায়। ‘নরকযাত্রা’-এর চরিত্ররা আমাদের চেনা চরিত্র। জীবনের ফুটপাতে যাদের সঙ্গে দেখা হয় সময়ে অসময়ে, ‘নরকযাত্রা’ তাদেরই আয়না। সে আয়নার মাঝবরাবর একটা সূক্ষ্ম ফাটল। ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখা যায়—ফাটলটার একপাশে লোলুপ হায়েনার ক্রূরহাসি, অন্যপাশে কুঁকড়ে থাকা শিকার। কাম ও লোভের এই যাত্রার শেষ পরিণতি দাঁড় করাবে কোন নরকে?"