Published
September 7, 2026
Language
বাংলা
Pages
142
Published by
বইটইখোলা দরজার কপাটের ওপার থেকে ভেসে আসা মৃদু আঘাতে, নিজস্ব কার্যালয়ে টেবিলের সামনের নিজস্ব চেয়ারে বসে ঘষঘষ ধ্বনি তুলে কাগজে লেখালেখি করা হাত থেমে যায় বিচারকের। নিশ্চয়ই কোনো যুগল এসেছে বিচ্ছেদের জন্য, ভেবেই তপ্তশ্বাস ফেলে বিচারক। অবশ্য তার কর্মজীবনে সে সব বিচ্ছেদ মামলার সমাধান করে এক করে দিয়েছে যুগলদের, এটাও আলাদা হবে না ভেবেই সম্মুখে তাকায় বিচারক। সে সম্মুখে খোলা দরজার পানে দৃষ্টি স্থির করতেই, তার অবয়বে ফুটে উঠলো গাম্ভীর্য। দরজার সামনে দাঁড়ানো যুগলের পানে দৃষ্টি স্থির করেই সে প্রশান্ত অথচ গম্ভীর কণ্ঠে বলল, আসুন। বিচারকের কণ্ঠনিসৃত কথা কর্ণে পৌঁছাতেই যুভান আর নীহারিকা ভেতরে এল, অতঃপর সম্মুখে অগ্রসর হয়ে টেবিলের সামনে এসে নিথর হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বিচারক টেবিলের সম্মুখে দণ্ডায়মান যুগলের পানে ক্ষণিক দৃষ্টিপাত করে বলল, বসুন। নীহারিকা ভাবলেশহীন হয়ে বসে বিচারকের টেবিলের সামনাসামনি একটি চেয়ারে। যুভানও বিচারকের টেবিলের সম্মুখস্থ আরেকটা চেয়ারে বসল। নীহারিকা আর যুভানের পানে পূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বিচারক গম্ভীর স্বরে বলে, আপনারা কি দুজনেই ডিভোর্স চান? নীহারিকা তৎক্ষণাৎ বলে, হ্যাঁ। বিচারক যুভানের পানে চেয়ে প্রশ্নাত্মক স্বরে বলে, আর আপনি? যুভান দৃঢ় স্বরে বলে, নীহারিকা ব্যতীত আমার কিছুই চাই না। নীহারিকার পানে চেয়ে বিচারক থমথমে স্বরে বলে, আপনাদের আসলে সময় প্রয়োজন। নীহারিকা ভাবলেশহীন হয়ে বলে, সময়টা পেরিয়ে গেছে, স্যার। থেমে নীহারিকা আবার বলে, কোনো সময়েরই সাধ্য নেই ডিভোর্সটা আটকানোর। নীহারিকার পানে একদৃষ্টে চেয়ে যুভান বিগলিত স্বরে বলে, ওপরওয়ালার কাছেও মাথা ঠুকে ক্ষমা চাইলে, ওপরওয়ালা তাকে ক্ষমা করে দেয়। আমি জীবনের শেষ নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস অবধি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে যাবো, মুহূর্তেমুহূর্তে। থেমে যুভান বিচারকের পানে চেয়ে আবার বলে, স্যার, আমি এই ডিভোর্সটা চাই না, আমি চাই না। নীহারিকা নির্বিকারভাবে বলে, কিন্তু আমি চাই। সম্মুখে বসা বিচারক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে চেয়ে আছে তার সামনাসামনি বসা যুগলের পানে। সে জীবনের সব বিচ্ছেদ মামলার সমাধান করে যুগলদের এক করেছে। কিন্তু কখনোই এমন মেয়ে দেখেনি। বিচারক তপ্তশ্বাস ফেলে নীহারিকার পানে চেয়ে প্রশ্নাত্মক স্বরে বলে, আপনিই বলুন, সমস্যা কী? নীহারিকা ভাবলেশহীন হয়ে বলে, কখন থেকে বসিয়ে রেখেছেন, কিছু তো অফার করুন। নীহারিকার কথা কর্ণগোচর হতেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয় বিচারক। এটা কি আদৌ কোনো মেয়ে! আইনের পৃষ্ঠাগুলো যেন কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছে। যার শব্দ, বাক্য, ভাষায় বিচ্ছেদ মামলার যুগলেরা এক হয়ে যায়, আজ তারই আঙিনায় যেন অবিনাশী ধ্বংসলীলা নেমে এসেছে—ভেবেই কণ্ঠরোধ হয়ে আসে বিচারকের। বিচারকের পানে চেয়ে নীহারিকা প্রশ্নাত্মক স্বরে বলে, ইনটেক পানি হবে, স্যার? বিচারক তার টেবিলের কোণে থাকা সিলগালা পানি বোতল হাতে নিয়ে, বোতলের গায়ে লেগে থাকা সিলগালাটি অক্ষুণ্ন রেখেই সিলগালা বোতলটা নীহারিকার পানে বাড়িয়ে দিল। নীহারিকা বোতলের ছিপি খুলে এক চুমুকেই অর্ধেক বোতলের পানি কণ্ঠস্থ করে বিচারকের পানে বোতলটা বাড়িয়ে দিয়ে বলে, স্যার, নিন প্লিজ। বিচারক বোতলটা নিজের হাতে নিয়ে টেবিলের পাশে রাখতেই নীহারিকা ভাবলেশহীন হয়ে বলে, স্যার, রাখতে বলিনি, চুমুক দিতে বলেছি। বিচারক কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বলে, আপনার এঁটো পানি আমি খাবো কেন? নীহারিকা নির্বিকারভাবে বলে, আমি তো এটাই বোঝাতে চাইছি, আমিও ইনটেক ছাড়া কিছুই গ্রহণ করতে পারি না। আমি ইউজড কিছুই ইউজ করি না, দামি হোক বা স্বামী।