

শায়লা একসময় প্রতিবাদ করতে জানতেন। কিন্তু একে একে হারিয়েছেন নিজের কণ্ঠ, স্বাধীনতা আর ফিরে যাওয়ার জায়গা। স্বামীর প্রাচুর্যের সংসারে তিনি বন্দি—একটি সোনার খাঁচায়। ঐশ্বর্যের ঝলমলে আবরণে মোড়া শিল্পপতি হারুন অর রশিদের সোনার খাঁচায় শায়লার জীবন এক নীরব বন্দিশালা। বছরের পর বছর বয়ে বেড়ানো শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের ক্ষত তাঁকে বাধ্য করেছে প্রতিবাদহীন এক পুতুলে পরিণত হতে। কিন্তু সেই নিস্তরঙ্গ দেয়াল ভেঙে গুঁড়িয়ে যায়, যখন তাঁর সতেরো বছরের ছেলে রাতুল বাবার দুর্নীতি ও নোংরা ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। সতেরো বছরের রাতুল মায়ের এই নীরবতা মেনে নিতে পারে না। বাবার ব্যবসায় অনিয়মের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সে জানতে চায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা কিছুই করবে না? কিন্তু শায়লা জানেন, সরাসরি প্রতিবাদের মূল্য তিনি একবার দিয়েছেন—তার দাগ এখনো শরীরে। তবু রাতুল থামে না। এক গোপন রেকর্ডিং বদলে দেয় সব হিসাব। আর সেদিন, বহু বছর পর, মায়ের সামনে দাঁড়ায় তাঁর নিজের সন্তান—একটি ছায়া হয়ে। যে ছায়ায় আশ্রয় নিয়ে শায়লা অবশেষে নিজের জীবনের দিকে ফিরে হাঁটতে শুরু করেন। এক মুক্তিযোদ্ধার রক্ত বয়ে চলা শায়লা সরাসরি না পেরেও ছেলেকে দেন এক গেরিলা কৌশলের পথ। শুরু হয় বাবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছেলের আপসহীন লড়াই। সব আরাম-আয়েশ তুচ্ছ করে রাতুল যখন বাড়ি ছাড়ে, সেই দীর্ঘ ছায়ায় বহু বছর পর শায়লা খুঁজে পান শৈশবের বাবার আশ্রয়—অন্যায়ের বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়ানোর এক অবিনাশী সাহস। ‘ছায়ার আশ্রয়’ মূলত আত্মমর্যাদা ও মুক্তির এক তীব্র আখ্যান।